০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিজ্ঞানের প্রতি অবিশ্বাসের ঝুঁকি: সন্দেহের বিজ্ঞান না কি বিপদের সংকেত?

মানুষের ইতিহাসে এমন বহু বিশ্বাস ছিল যা আজ ভুল প্রমাণিত। একসময় মনে করা হতো বাতাসে ভাসমান দূষিত গন্ধ থেকেই রোগ ছড়ায়, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, কিংবা মানসিক রোগের চিকিৎসায় লোবোটমি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এসব ধারণা ভেঙেছে একটাই শক্তি—বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন, পরীক্ষা চালিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ করেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন এবং ফল প্রকাশ করেছেন। এর ফলে পুরোনো ভুল ধারণা ভেঙে নতুন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সন্দেহ ও বিতর্ক তাই সবসময়ই জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তবে বর্তমান সময়ে যে সন্দেহের ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তা আগের থেকে ভিন্ন। এখন অনেকেই তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কোভিড, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা টিকার মতো বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামতকে সত্য হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ছে।\

The reasons for science skepticism can be complex and founded on real  concerns

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির শক্তি ও মানবজীবন

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার, যা অজানাকে জানা করে তোলে। এর মাধ্যমেই ভয়ংকর রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে।

যে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে আমরা প্রতিদিন কাজ করি, কিংবা প্রতিদিনের খাবার—সবই এই পদ্ধতির অবদান। বিজ্ঞান না থাকলে মানবজীবন হতো আরও দরিদ্র, অসুস্থ এবং অনিরাপদ।

টিকা নিয়ে অবিশ্বাস ও নতুন বিপদ

বর্তমানে কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে টিকা ও আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। এর ফল ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একসময় নিয়ন্ত্রিত একটি রোগ হাম আবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদি এই প্রবণতা বাড়তে থাকে, তাহলে শুধু টিকা নয়, ক্যানসারের চিকিৎসা বা অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

South Carolina hospitals aren't required to disclose measles-related  admissions. That leaves doctors in the Dark. | CNN

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

একদিকে যখন কিছু দেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে, অন্যদিকে কিছু দেশ বিপুল বিনিয়োগ করছে গবেষণায়। এতে প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে।

যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রতি আস্থা কমে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবন থেমে যেতে পারে এবং দেশগুলো অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

ফিরে যেতে পারে মানবসভ্যতা

বিজ্ঞানকে অস্বীকার করলে মানবসভ্যতা পেছনের দিকে যেতে পারে। এমন এক সময়, যখন গড় আয়ু ছিল কম, এবং সাধারণ রোগেই মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল বেশি।

এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যাওয়া, নাকি ভুল তথ্য ও অবিশ্বাসের পথে গিয়ে ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।

South Carolina hospitals aren't required to disclose measles-related  admissions. That leaves doctors in the dark.

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

বিজ্ঞানের প্রতি অবিশ্বাসের ঝুঁকি: সন্দেহের বিজ্ঞান না কি বিপদের সংকেত?

০৬:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের ইতিহাসে এমন বহু বিশ্বাস ছিল যা আজ ভুল প্রমাণিত। একসময় মনে করা হতো বাতাসে ভাসমান দূষিত গন্ধ থেকেই রোগ ছড়ায়, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, কিংবা মানসিক রোগের চিকিৎসায় লোবোটমি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এসব ধারণা ভেঙেছে একটাই শক্তি—বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন, পরীক্ষা চালিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ করেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন এবং ফল প্রকাশ করেছেন। এর ফলে পুরোনো ভুল ধারণা ভেঙে নতুন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সন্দেহ ও বিতর্ক তাই সবসময়ই জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তবে বর্তমান সময়ে যে সন্দেহের ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তা আগের থেকে ভিন্ন। এখন অনেকেই তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কোভিড, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা টিকার মতো বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামতকে সত্য হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ছে।\

The reasons for science skepticism can be complex and founded on real  concerns

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির শক্তি ও মানবজীবন

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার, যা অজানাকে জানা করে তোলে। এর মাধ্যমেই ভয়ংকর রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে।

যে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে আমরা প্রতিদিন কাজ করি, কিংবা প্রতিদিনের খাবার—সবই এই পদ্ধতির অবদান। বিজ্ঞান না থাকলে মানবজীবন হতো আরও দরিদ্র, অসুস্থ এবং অনিরাপদ।

টিকা নিয়ে অবিশ্বাস ও নতুন বিপদ

বর্তমানে কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে টিকা ও আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। এর ফল ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একসময় নিয়ন্ত্রিত একটি রোগ হাম আবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদি এই প্রবণতা বাড়তে থাকে, তাহলে শুধু টিকা নয়, ক্যানসারের চিকিৎসা বা অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

South Carolina hospitals aren't required to disclose measles-related  admissions. That leaves doctors in the Dark. | CNN

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

একদিকে যখন কিছু দেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে, অন্যদিকে কিছু দেশ বিপুল বিনিয়োগ করছে গবেষণায়। এতে প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে।

যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রতি আস্থা কমে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবন থেমে যেতে পারে এবং দেশগুলো অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

ফিরে যেতে পারে মানবসভ্যতা

বিজ্ঞানকে অস্বীকার করলে মানবসভ্যতা পেছনের দিকে যেতে পারে। এমন এক সময়, যখন গড় আয়ু ছিল কম, এবং সাধারণ রোগেই মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল বেশি।

এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যাওয়া, নাকি ভুল তথ্য ও অবিশ্বাসের পথে গিয়ে ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।

South Carolina hospitals aren't required to disclose measles-related  admissions. That leaves doctors in the dark.