১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

বিদেশে গিয়ে আশ্রয় আবেদন, দেশে না ফেরা হাজারো পাকিস্তানি নিয়ে উদ্বেগ

বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা কিংবা ভিজিট ভিসায় গিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরও দেশে না ফেরা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতা নিয়ে পাকিস্তানে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের স্বরাষ্ট্র ও মাদকবিরোধী বিষয়ক স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে জানানো হয়েছে, হাজার হাজার পাকিস্তানি বিদেশে গিয়ে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বা আশ্রয় আবেদন করেছেন।

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসায় গিয়ে প্রায় ১০ হাজার পাকিস্তানি পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ বিষয়টি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে চাপ

বৈঠকে জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার এবং ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে যাত্রীদের যাচাই ও প্রয়োজনে ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউরোপীয় দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র পাকিস্তানিদের অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

Pakistan sacks, blacklists dozens of officials after Mediterranean deaths | Migration News | Al Jazeera

তথ্য অনুযায়ী, বেলারুশে ভ্রমণ করা ৫৮০ জন পাকিস্তানি এবং আজারবাইজানে ভিজিট ভিসায় যাওয়া প্রায় ৭ হাজার পাকিস্তানি আর দেশে ফেরেননি।

নতুন মানবপাচার রুটের সন্ধান

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা এখন মালয়েশিয়া ও উজবেকিস্তান হয়ে নতুন রুট ব্যবহার করছে। এছাড়া দুবাই ও কম্বোডিয়াকেও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানিদের অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

এক বছরে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রীকে ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা

২০২৫ সালে অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে মোট ৩৯ হাজার ৭৮৬ জন যাত্রীকে বিদেশ যাত্রা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের নথিপত্র অসম্পূর্ণ ছিল, আবার অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনা বা গন্তব্য নিয়ে সন্দেহ দেখা যায়।

জাল নথি, সন্দেহজনক ভ্রমণ ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সতর্কতামূলক তালিকায় নাম থাকা এবং ভিসা যাচাই সংক্রান্ত সমস্যার কারণেও বহু যাত্রীকে আটকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারের আশঙ্কায় অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

Hopelessness': Why Pakistanis are leaving, losing lives at sea | Migration News | Al Jazeera

সরকারের দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে জানান, বিদেশে পাকিস্তানিদের সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে জাল ভ্রমণ নথি ব্যবহারের ঘটনাও কমে এসেছে।

তিনি দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসনের হারও কমেছে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে। পরিচয় জালিয়াতি ও বারবার পাসপোর্ট হারানোর অভিযোগ ঠেকাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

ডিজিটাল প্রমাণ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

বৈঠকে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়। আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ডিজিটাল প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এবং অনলাইন এফআইআর ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য আগামী দিনে একাধিক বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

বিদেশে গিয়ে আশ্রয় আবেদন, দেশে না ফেরা হাজারো পাকিস্তানি নিয়ে উদ্বেগ

০২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা কিংবা ভিজিট ভিসায় গিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরও দেশে না ফেরা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতা নিয়ে পাকিস্তানে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের স্বরাষ্ট্র ও মাদকবিরোধী বিষয়ক স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে জানানো হয়েছে, হাজার হাজার পাকিস্তানি বিদেশে গিয়ে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বা আশ্রয় আবেদন করেছেন।

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসায় গিয়ে প্রায় ১০ হাজার পাকিস্তানি পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ বিষয়টি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে চাপ

বৈঠকে জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার এবং ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে যাত্রীদের যাচাই ও প্রয়োজনে ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউরোপীয় দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র পাকিস্তানিদের অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

Pakistan sacks, blacklists dozens of officials after Mediterranean deaths | Migration News | Al Jazeera

তথ্য অনুযায়ী, বেলারুশে ভ্রমণ করা ৫৮০ জন পাকিস্তানি এবং আজারবাইজানে ভিজিট ভিসায় যাওয়া প্রায় ৭ হাজার পাকিস্তানি আর দেশে ফেরেননি।

নতুন মানবপাচার রুটের সন্ধান

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা এখন মালয়েশিয়া ও উজবেকিস্তান হয়ে নতুন রুট ব্যবহার করছে। এছাড়া দুবাই ও কম্বোডিয়াকেও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানিদের অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

এক বছরে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রীকে ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা

২০২৫ সালে অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে মোট ৩৯ হাজার ৭৮৬ জন যাত্রীকে বিদেশ যাত্রা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের নথিপত্র অসম্পূর্ণ ছিল, আবার অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনা বা গন্তব্য নিয়ে সন্দেহ দেখা যায়।

জাল নথি, সন্দেহজনক ভ্রমণ ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সতর্কতামূলক তালিকায় নাম থাকা এবং ভিসা যাচাই সংক্রান্ত সমস্যার কারণেও বহু যাত্রীকে আটকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারের আশঙ্কায় অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

Hopelessness': Why Pakistanis are leaving, losing lives at sea | Migration News | Al Jazeera

সরকারের দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে জানান, বিদেশে পাকিস্তানিদের সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে জাল ভ্রমণ নথি ব্যবহারের ঘটনাও কমে এসেছে।

তিনি দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসনের হারও কমেছে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে। পরিচয় জালিয়াতি ও বারবার পাসপোর্ট হারানোর অভিযোগ ঠেকাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

ডিজিটাল প্রমাণ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

বৈঠকে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়। আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ডিজিটাল প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এবং অনলাইন এফআইআর ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য আগামী দিনে একাধিক বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।