০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং দল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসকরা ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করে আসছে। ক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যুক্তি সরকারের

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল।

সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক ইব্রাহিম ট্রায়োরে যেভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের  হৃদয় জিতে নিয়েছেন | The Daily Campus

অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক বাস্তবতা

অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল একশটিরও বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল ১৫টি দল। সামরিক সরকার মনে করছে, এই বহুবিভক্ত রাজনৈতিক কাঠামো কার্যকর শাসনব্যবস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন ডিক্রির মূল দিক

ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নতুন আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত দলগুলোর সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক কীভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন  - BBC News বাংলা

নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপট

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের মতো দেশটিও আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত এক দশকে এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

বুরকিনা ফাসোতে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করল সামরিক সরকার

০৩:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়েছে এবং দল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসকরা ধাপে ধাপে রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করে আসছে। ক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যুক্তি সরকারের

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জেরবো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপব্যবহার ও অকার্যকারিতা জমে উঠেছিল।

সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করেছে। এই বাস্তবতায় নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক ইব্রাহিম ট্রায়োরে যেভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের  হৃদয় জিতে নিয়েছেন | The Daily Campus

অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক বাস্তবতা

অভ্যুত্থানের আগে বুরকিনা ফাসোতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল একশটিরও বেশি। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিল ১৫টি দল। সামরিক সরকার মনে করছে, এই বহুবিভক্ত রাজনৈতিক কাঠামো কার্যকর শাসনব্যবস্থার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন ডিক্রির মূল দিক

ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা সংক্রান্ত আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নতুন আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলুপ্ত দলগুলোর সব সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর সেনাশাসক কীভাবে বিশ্বের বহু দেশের মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন  - BBC News বাংলা

নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপট

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। প্রতিবেশী মালি ও নাইজারের মতো দেশটিও আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে পড়েছে। গত এক দশকে এসব সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।