০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন ডুবো ড্রোন বিকল, জব্দের দাবি ইরানের মার্কিন হামলায় ৫ ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস, পাল্টা জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বারডেম হাসপাতালের ১৬ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ঢাকার যেসব এলাকায় বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না উত্তরার শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট চট্টগ্রামে ট্যাংকের গোলাবর্ষণ অনুশীলনে দুই সেনাসদস্য নিহত, কর্মকর্তা আহত মাধ্যমিক শিক্ষকদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, কিশোর গ্যাং সদস্য আটক আবারও কমল স্বর্ণের দাম, তিন দিনে ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়, হাইকোর্টে রিট খারিজ

বেদে শিশুদের চোখে শিক্ষার আলো: নদীতীরে খোলা আকাশের নিচে ব্যতিক্রমী পাঠশালা

যাযাবর জীবনের চেনা বাস্তবতা ভেঙে বরিশালের বাবুগঞ্জে একদল বেদে পরিবারের শিশুদের চোখে জ্বলছে শিক্ষার নতুন স্বপ্ন। নদীর ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়ানো জীবনের বাইরে এসে গত এক দশক ধরে একটি স্থানে বসবাস শুরু করা এই পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী পাঠশালা—খোলা আকাশের নিচে, নদীতীরের উঠানে।

মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ আর পলিথিনে তৈরি ছোট ছোট ঘরে বসবাস করছে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় নৌকায় ঘুরে বেড়ানো এসব মানুষ ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে মাছ ধরা কিংবা অন্যের জমিতে কাজ করে জীবনযাপন শুরু করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও এখন বেশ ঘনিষ্ঠ।

শিক্ষার উদ্যোগে দুই নারীর ভূমিকা
এই পরিবারগুলোর অধিকাংশ শিশুই কখনও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। সেই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় দুই নারী—মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। প্রতিদিন বিকেলে তারা নদীতীরে একটি বাড়ির উঠানে প্রায় ৫০ জন শিশুকে এক ঘণ্টা করে পড়ান। বই-খাতা কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণিকক্ষ না থাকলেও তাদের এই উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে শেখার আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে।

মুন্নি আক্তার জানান, তারা চান বেদে শিশুরাও অন্যদের মতো শিক্ষার আলো পায়। তবে পর্যাপ্ত বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে নিয়মিতভাবে পাঠদান চালিয়ে যেতে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সংগ্রামের বাস্তবতা আর অপূর্ণ স্বপ্ন
বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনে সংগ্রামই যেন চিরচেনা বাস্তবতা। অনেক সময় পরিবারের প্রয়োজনে শিশুদেরও কাজে নামতে হয়। ফলে পড়াশোনার আগ্রহ থাকলেও তা বাস্তবে রূপ নেয় না। হেলেনা বিবি নামে এক বেদে নারী বলেন, সুযোগ পেলে তাদের সন্তানরাও পড়াশোনা করে ভালো কিছু করতে পারত। কিন্তু পরিবেশের অভাবে সেই সুযোগ তারা পায় না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই শিশুদের জন্য নদীতীরে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলে তাদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ আরও নিশ্চিত হবে। এতে করে তারা ধীরে ধীরে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবে।

প্রশাসনের আশ্বাস
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। তাদের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

নদীতীরে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট পাঠশালাটি তাই শুধু কয়েকজন শিশুর পড়ার জায়গা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন দেখার এক নতুন দরজা—যেখানে যাযাবর জীবনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশা বুনছে আগামী প্রজন্ম।

বেদে শিশুদের জন্য নদীতীরে খোলা পাঠশালা, দুই নারীর উদ্যোগে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে—সহায়তা পেলে বদলাতে পারে ভবিষ্যৎ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন ডুবো ড্রোন বিকল, জব্দের দাবি ইরানের

বেদে শিশুদের চোখে শিক্ষার আলো: নদীতীরে খোলা আকাশের নিচে ব্যতিক্রমী পাঠশালা

০৭:০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যাযাবর জীবনের চেনা বাস্তবতা ভেঙে বরিশালের বাবুগঞ্জে একদল বেদে পরিবারের শিশুদের চোখে জ্বলছে শিক্ষার নতুন স্বপ্ন। নদীর ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়ানো জীবনের বাইরে এসে গত এক দশক ধরে একটি স্থানে বসবাস শুরু করা এই পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী পাঠশালা—খোলা আকাশের নিচে, নদীতীরের উঠানে।

মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ আর পলিথিনে তৈরি ছোট ছোট ঘরে বসবাস করছে প্রায় ৭০টি বেদে পরিবার। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় নৌকায় ঘুরে বেড়ানো এসব মানুষ ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে মাছ ধরা কিংবা অন্যের জমিতে কাজ করে জীবনযাপন শুরু করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও এখন বেশ ঘনিষ্ঠ।

শিক্ষার উদ্যোগে দুই নারীর ভূমিকা
এই পরিবারগুলোর অধিকাংশ শিশুই কখনও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। সেই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় দুই নারী—মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। প্রতিদিন বিকেলে তারা নদীতীরে একটি বাড়ির উঠানে প্রায় ৫০ জন শিশুকে এক ঘণ্টা করে পড়ান। বই-খাতা কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণিকক্ষ না থাকলেও তাদের এই উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে শেখার আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে।

মুন্নি আক্তার জানান, তারা চান বেদে শিশুরাও অন্যদের মতো শিক্ষার আলো পায়। তবে পর্যাপ্ত বই, খাতা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে নিয়মিতভাবে পাঠদান চালিয়ে যেতে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সংগ্রামের বাস্তবতা আর অপূর্ণ স্বপ্ন
বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনে সংগ্রামই যেন চিরচেনা বাস্তবতা। অনেক সময় পরিবারের প্রয়োজনে শিশুদেরও কাজে নামতে হয়। ফলে পড়াশোনার আগ্রহ থাকলেও তা বাস্তবে রূপ নেয় না। হেলেনা বিবি নামে এক বেদে নারী বলেন, সুযোগ পেলে তাদের সন্তানরাও পড়াশোনা করে ভালো কিছু করতে পারত। কিন্তু পরিবেশের অভাবে সেই সুযোগ তারা পায় না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই শিশুদের জন্য নদীতীরে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলে তাদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ আরও নিশ্চিত হবে। এতে করে তারা ধীরে ধীরে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবে।

প্রশাসনের আশ্বাস
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। তাদের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

নদীতীরে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট পাঠশালাটি তাই শুধু কয়েকজন শিশুর পড়ার জায়গা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন দেখার এক নতুন দরজা—যেখানে যাযাবর জীবনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশা বুনছে আগামী প্রজন্ম।

বেদে শিশুদের জন্য নদীতীরে খোলা পাঠশালা, দুই নারীর উদ্যোগে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে—সহায়তা পেলে বদলাতে পারে ভবিষ্যৎ।