১১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

বেলফাস্ট দাঙ্গার আগে পুলিশের কাছে ছিল হামলার তালিকা, অভিযোগে নতুন বিতর্ক

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে সাম্প্রতিক সহিংস দাঙ্গা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি বর্ণবাদবিরোধী পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর দাবি, দাঙ্গার বহু মাস আগেই তারা পুলিশকে সতর্ক করেছিল যে অভিবাসীবিরোধী উগ্রপন্থীরা নির্দিষ্ট কিছু বাড়ির ঠিকানা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আট মাস ধরে সতর্কবার্তা

অনলাইনভিত্তিক অভিবাসীবিরোধী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি প্রতিবেদন পুলিশের কাছে জমা দেয়। এসব প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছিল যে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাসকারী ভাড়াবাড়িগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, গত জানুয়ারিতেই তারা এমন একটি ঠিকানার তালিকা পুলিশের কাছে পাঠিয়েছিল, যেখানে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে থাকা বাড়িগুলোর নাম ছিল। সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময় ওই তালিকায় থাকা কয়েকটি এলাকাই হামলার শিকার হয়েছে।

দাঙ্গায় আগুন ও আতঙ্ক

সাম্প্রতিক সহিংসতায় একাধিক বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী ব্যক্তিদের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেলফাস্টের উত্তরের কিছু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাকে ‘সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞে উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছিল।

Video: Peaceful Protesters in Russia Arrested, Beaten

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছিল উসকানি

পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে এমন বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল যেখানে নির্দিষ্ট ভাড়াবাড়িগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল। সেখানে অভিবাসী ও বিদেশিদের নিয়ে উসকানিমূলক এবং বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়।

ক্রমাগত এই প্রচারণা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়। কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়তা করেছেন।

উপেক্ষিত সতর্কবার্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংগঠনটির মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে যে তথাকথিত হামলার তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটি জানুয়ারিতে পুলিশের কাছে পাঠানো তালিকার সঙ্গে মিলে যায়। তার মতে, কয়েক মাস আগে ঝুঁকির কথা জানানো হলেও পরে সেই এলাকাগুলো আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল যে অনলাইনে বিদেশি ও অভিবাসীদের নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা ভবিষ্যতে সম্পত্তি ও ব্যক্তির ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর উত্তেজনা

গত সপ্তাহে এক ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনায় এক সুদানি অভিবাসীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আহত ব্যক্তির পরিবার পরবর্তী সহিংস বিক্ষোভ ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সহিংসতায় ব্যবহৃত কিছু কৌশল অতীতের সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ধাঁচের সঙ্গে মিল রয়েছে। তাদের মতে, সড়কে বাধা সৃষ্টি, পরিচয় যাচাই এবং নির্দিষ্ট এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা উদ্বেগজনক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, বরং অভিবাসন, সামাজিক বিভাজন এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

বেলফাস্ট দাঙ্গার আগে পুলিশের কাছে ছিল হামলার তালিকা, অভিযোগে নতুন বিতর্ক

০৭:২০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে সাম্প্রতিক সহিংস দাঙ্গা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি বর্ণবাদবিরোধী পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর দাবি, দাঙ্গার বহু মাস আগেই তারা পুলিশকে সতর্ক করেছিল যে অভিবাসীবিরোধী উগ্রপন্থীরা নির্দিষ্ট কিছু বাড়ির ঠিকানা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আট মাস ধরে সতর্কবার্তা

অনলাইনভিত্তিক অভিবাসীবিরোধী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি প্রতিবেদন পুলিশের কাছে জমা দেয়। এসব প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছিল যে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাসকারী ভাড়াবাড়িগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি, গত জানুয়ারিতেই তারা এমন একটি ঠিকানার তালিকা পুলিশের কাছে পাঠিয়েছিল, যেখানে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে থাকা বাড়িগুলোর নাম ছিল। সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময় ওই তালিকায় থাকা কয়েকটি এলাকাই হামলার শিকার হয়েছে।

দাঙ্গায় আগুন ও আতঙ্ক

সাম্প্রতিক সহিংসতায় একাধিক বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী ব্যক্তিদের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেলফাস্টের উত্তরের কিছু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাকে ‘সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞে উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছিল।

Video: Peaceful Protesters in Russia Arrested, Beaten

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছিল উসকানি

পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে এমন বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল যেখানে নির্দিষ্ট ভাড়াবাড়িগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল। সেখানে অভিবাসী ও বিদেশিদের নিয়ে উসকানিমূলক এবং বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়।

ক্রমাগত এই প্রচারণা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়। কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়তা করেছেন।

উপেক্ষিত সতর্কবার্তা নিয়ে প্রশ্ন

সংগঠনটির মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে যে তথাকথিত হামলার তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটি জানুয়ারিতে পুলিশের কাছে পাঠানো তালিকার সঙ্গে মিলে যায়। তার মতে, কয়েক মাস আগে ঝুঁকির কথা জানানো হলেও পরে সেই এলাকাগুলো আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল যে অনলাইনে বিদেশি ও অভিবাসীদের নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা ভবিষ্যতে সম্পত্তি ও ব্যক্তির ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর উত্তেজনা

গত সপ্তাহে এক ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনায় এক সুদানি অভিবাসীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আহত ব্যক্তির পরিবার পরবর্তী সহিংস বিক্ষোভ ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সহিংসতায় ব্যবহৃত কিছু কৌশল অতীতের সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ধাঁচের সঙ্গে মিল রয়েছে। তাদের মতে, সড়কে বাধা সৃষ্টি, পরিচয় যাচাই এবং নির্দিষ্ট এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা উদ্বেগজনক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, বরং অভিবাসন, সামাজিক বিভাজন এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।