১১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলা: দুই উইঘুর নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর বহুল আলোচিত ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলার মামলায় দুই উইঘুর নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি আদালত। ২০১৫ সালে সংঘটিত ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থানে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় হামলাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নিহতদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের নাগরিকও ছিলেন।

আদালতের রায়

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড একাধিক গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে কয়েকটির শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তি শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, মামলায় তাদের উপস্থাপিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

মামলাটি বিচারের পর্যায়ে পৌঁছাতে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়ে তদন্তকারীরা শত শত সাক্ষীর বক্তব্য এবং বিপুল পরিমাণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাটি থাইল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।

Thai court sentences two Uyghur men to death for 2015 Bangkok bombing - ABC  News

হামলার পেছনের সম্ভাব্য কারণ

হামলার দায় কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, হামলাটি ছিল থাইল্যান্ড থেকে শতাধিক উইঘুরকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া।

উইঘুরদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর চীন আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং মানবতাবিরোধী একটি অপরাধ।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা নির্যাতন ও অন্যান্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

এই রায়ের মাধ্যমে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক অধ্যায়ে নতুন মোড় এল। তবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলা: দুই উইঘুর নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

০৭:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর বহুল আলোচিত ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলার মামলায় দুই উইঘুর নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি আদালত। ২০১৫ সালে সংঘটিত ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থানে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় হামলাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নিহতদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের নাগরিকও ছিলেন।

আদালতের রায়

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড একাধিক গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে কয়েকটির শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তি শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, মামলায় তাদের উপস্থাপিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

মামলাটি বিচারের পর্যায়ে পৌঁছাতে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়ে তদন্তকারীরা শত শত সাক্ষীর বক্তব্য এবং বিপুল পরিমাণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাটি থাইল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।

Thai court sentences two Uyghur men to death for 2015 Bangkok bombing - ABC  News

হামলার পেছনের সম্ভাব্য কারণ

হামলার দায় কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, হামলাটি ছিল থাইল্যান্ড থেকে শতাধিক উইঘুরকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া।

উইঘুরদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর চীন আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং মানবতাবিরোধী একটি অপরাধ।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা নির্যাতন ও অন্যান্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

এই রায়ের মাধ্যমে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক অধ্যায়ে নতুন মোড় এল। তবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না।