০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০২)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪
  • 174

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

মোগলদের কাছে দক্ষিণ বাংলার এই অঞ্চল বুল্ল্গাখানা বিদ্রোহীদের আস্তানা। পরিপূর্ণ রূপে সমগ্র এলাকা কখনই মোগল অধিকারে আসেনি। আইন-ই-আকবরীতে উল্লেখ করা হয়েছে- Easan Afgan carried his conquests towards east into a country called Bhatty which is reckoned a part of this Subha-Bengal. সাঁতগা সরকারের অধীন সুন্দরবনের এক বিশাল এলাকা ছিল সেদিন ( ১৫৮২ খ্রীষ্টাব্দে টোডরমল বাংলাদেশ জরীপ করে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। মেদিনীপুরের হিজলী থেকে দক্ষিণপূর্ব দিকের সমতলভূমির নাম ছিল ভাটি।

১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশ পুনরায় জরীপ করা হল সাজাহান পুত্র সুলতান সুজার নেতৃত্বে- এই জরীপে সুন্দরবন চিহ্নিত হল মুরাদখানা বা জিরৎখানা হিসাবে। (*) মামুদ শাহের রাজত্বকালে নবাব জাফর খাঁর নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মত জরীপ করা হল। সুন্দরবনকে কয়েকটি পরগণার মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য নিমক মহল, জঙ্গলমহল, বালিয়া, বালান্দা, সরফরাজপুর, আমিরাবাদ, পাইহাটি, মাইহাটি, মদনমল্ল, হাতিয়াগড়, সাগর, খাসপুর ইত্যাদি। মীরকাশিমের রাজত্বকালে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ জরীপ করা হল ১৭৬০-৬১ খ্রীষ্টাব্দে। সুন্দরবন কাঠ, মোম, মধু, লবণ ও চুন সংগ্রহের একটা বড় স্থান হিসাবে বিবেচিত হল এবং সুন্দরবনের আর্থিক সম্পদের দিকে সরকারের দৃষ্টি নিবদ্ধ হল।

কিন্তু ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে সুন্দরবনের একটা বিস্তীর্ণ এলাকা জনবসতিশূন্য হয়ে যায়- এর পিছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মগজলদস্যুদের বারংবার আক্রমণ। মগজলদস্যুদের উৎপাত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরবর্তীকালে ঊনিশ শতকের শুরুতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সাগর দ্বীপ উঠিত করার সময় দেখা যাচ্ছে সমস্ত এলাকাটাই বনভূমি কিন্তু সমুদ্র তীরবর্তী এক হাজার বিঘার মত জমিতে মানুষের অস্থায়ী ভাবে বসবাসের চিহ্ন রয়েছে।

তা থেকে অনুমান করা হল মগজলদস্যুরা মাঝে মাঝে এখানে আস্তানা তৈরি করে আবার প্রয়োজনমত অন্যত্র চলে যেত। মগজলদস্যুদের অত্যাচার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনবসতি লোপ পাবার কারণ হতে পারে কিন্তু আর একটা প্রধান কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ভৌগোলিকরা। গঙ্গার প্রধান জলধারা বিগত দুই-তিন শতাব্দী ধরে প্রতিনিয়ত পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে সরে যাচ্ছে। যার ফলে সুন্দরবনের পূর্বদিকের নদীর জল লবণাক্ত হচ্ছে- লবণাক্ত জলের চাপে সুন্দরবনের এই অংশে শস্যহানি ঘটতে থাকায় জনবসতি শূন্য হয়ে বনভূমিতে পরিণত হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০২)

০৪:০০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

মোগলদের কাছে দক্ষিণ বাংলার এই অঞ্চল বুল্ল্গাখানা বিদ্রোহীদের আস্তানা। পরিপূর্ণ রূপে সমগ্র এলাকা কখনই মোগল অধিকারে আসেনি। আইন-ই-আকবরীতে উল্লেখ করা হয়েছে- Easan Afgan carried his conquests towards east into a country called Bhatty which is reckoned a part of this Subha-Bengal. সাঁতগা সরকারের অধীন সুন্দরবনের এক বিশাল এলাকা ছিল সেদিন ( ১৫৮২ খ্রীষ্টাব্দে টোডরমল বাংলাদেশ জরীপ করে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। মেদিনীপুরের হিজলী থেকে দক্ষিণপূর্ব দিকের সমতলভূমির নাম ছিল ভাটি।

১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশ পুনরায় জরীপ করা হল সাজাহান পুত্র সুলতান সুজার নেতৃত্বে- এই জরীপে সুন্দরবন চিহ্নিত হল মুরাদখানা বা জিরৎখানা হিসাবে। (*) মামুদ শাহের রাজত্বকালে নবাব জাফর খাঁর নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মত জরীপ করা হল। সুন্দরবনকে কয়েকটি পরগণার মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য নিমক মহল, জঙ্গলমহল, বালিয়া, বালান্দা, সরফরাজপুর, আমিরাবাদ, পাইহাটি, মাইহাটি, মদনমল্ল, হাতিয়াগড়, সাগর, খাসপুর ইত্যাদি। মীরকাশিমের রাজত্বকালে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ জরীপ করা হল ১৭৬০-৬১ খ্রীষ্টাব্দে। সুন্দরবন কাঠ, মোম, মধু, লবণ ও চুন সংগ্রহের একটা বড় স্থান হিসাবে বিবেচিত হল এবং সুন্দরবনের আর্থিক সম্পদের দিকে সরকারের দৃষ্টি নিবদ্ধ হল।

কিন্তু ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে সুন্দরবনের একটা বিস্তীর্ণ এলাকা জনবসতিশূন্য হয়ে যায়- এর পিছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মগজলদস্যুদের বারংবার আক্রমণ। মগজলদস্যুদের উৎপাত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরবর্তীকালে ঊনিশ শতকের শুরুতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সাগর দ্বীপ উঠিত করার সময় দেখা যাচ্ছে সমস্ত এলাকাটাই বনভূমি কিন্তু সমুদ্র তীরবর্তী এক হাজার বিঘার মত জমিতে মানুষের অস্থায়ী ভাবে বসবাসের চিহ্ন রয়েছে।

তা থেকে অনুমান করা হল মগজলদস্যুরা মাঝে মাঝে এখানে আস্তানা তৈরি করে আবার প্রয়োজনমত অন্যত্র চলে যেত। মগজলদস্যুদের অত্যাচার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনবসতি লোপ পাবার কারণ হতে পারে কিন্তু আর একটা প্রধান কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ভৌগোলিকরা। গঙ্গার প্রধান জলধারা বিগত দুই-তিন শতাব্দী ধরে প্রতিনিয়ত পশ্চিম থেকে পূর্বের দিকে সরে যাচ্ছে। যার ফলে সুন্দরবনের পূর্বদিকের নদীর জল লবণাক্ত হচ্ছে- লবণাক্ত জলের চাপে সুন্দরবনের এই অংশে শস্যহানি ঘটতে থাকায় জনবসতি শূন্য হয়ে বনভূমিতে পরিণত হয়।