০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৭৩)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 157
শশাঙ্ক মণ্ডল
অন্যান্য কুটির শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

চাষের মরশুমের পর চাষিদের সামনে কোন কাজ থাকে না। সেসময় পাতি কেটে তা থেকে মাদুর তৈরি করা হত। সুন্দরবনের বেশ কিছু জায়গায় বিশেষ করে বরিশাল এর ভোলা পটুয়াখালি, গৌরনদী, ঝলকাটি প্রভৃতি এলাকায় খুলনা জেলার সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার, মগরাহাট, ফলতা, হাবড়া, দেগঙ্গা, বসিরহাটের মেটিয়া, ইটিন্ডা, সায়েস্তানগর, তেঁতুলিয়া প্রভৃতি এলাকায় প্রচুর মাদুর তৈরি করা হত।

বরিশাল, খুলনায় এক ধরনের নকশাকাটা শীতলপাটি তৈরি হত যা শহরের অভিজাত মানুষদের প্রয়োজন মেটাত। এবং এই শীতল পাটি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসায়ীরা চালান দিত। বরিশাল খুলনার অনেক মানুষ এই শীতলপাটি তৈরিতে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখত। গ্রামীণ দুঃস্থ মানুষদের অসময়ে এসব শিল্প কিছুটা আর্থিক দুর্দশা দূর করতে সাহায্য করত।

মাদুর শিল্পের পাশাপাশি অনেক জায়গায় পাট থেকে দড়ি তৈরিতে অনেক মানুষ নিয়োজিত থাকত। বাড়িতে বসে মেয়েদের সাহায্য নিয়ে এসব তৈরি করা হত। বাখরগঞ্জ জেলার গৌরনদী থানার অনেক গ্রামে ১ম মহাযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এ শিল্পের ব্যাপক প্রচলনের কথা জানা যায়। চাষিদের প্রয়োজনীয় লোহার জিনিসপত্রাদি বিভিন্ন গ্রামে তৈরি করার জন্য কর্মকাররা সব গ্রামেই কমবেশি থাকত।

কিন্তু সে যুগে কুটির শিল্পের স্তরে এই শিল্প থাকলেও কতকগুলি এলাকার লোহাজাত বিভিন্ন জিনিসের সারা বাংলাদেশে ব্যাপক চাহিদা ছিল। হাড়োয়ার গোপালপুর তালা শিল্পের ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছিল। বাদুড়িয়া থানার চিতুর, বসিরহাটের গাছা, আখারপুর গ্রামের কর্মকারর সেদিন উন্নত মানের লোহার বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করত তা বিভিন্ন জায়গায় পাঠান হত।

কিন্তু এসব কুটিরশিল্পের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যাচ্ছিল ১ম মহাযুদ্ধ- পরবর্তী কালে ভাটার টান। গ্রামের কর্মকাররা ধীরে ধীরে জীবিকাচ্যুত হচ্ছিল। পূর্বে জমিদার নায়েব মশাইদের প্রশ্রয়ে নবউঠিত এলাকায় দূর থেকে এসব মানুষ এসে বসত তৈরি করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৭৩)

১২:০০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
অন্যান্য কুটির শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

চাষের মরশুমের পর চাষিদের সামনে কোন কাজ থাকে না। সেসময় পাতি কেটে তা থেকে মাদুর তৈরি করা হত। সুন্দরবনের বেশ কিছু জায়গায় বিশেষ করে বরিশাল এর ভোলা পটুয়াখালি, গৌরনদী, ঝলকাটি প্রভৃতি এলাকায় খুলনা জেলার সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার, মগরাহাট, ফলতা, হাবড়া, দেগঙ্গা, বসিরহাটের মেটিয়া, ইটিন্ডা, সায়েস্তানগর, তেঁতুলিয়া প্রভৃতি এলাকায় প্রচুর মাদুর তৈরি করা হত।

বরিশাল, খুলনায় এক ধরনের নকশাকাটা শীতলপাটি তৈরি হত যা শহরের অভিজাত মানুষদের প্রয়োজন মেটাত। এবং এই শীতল পাটি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসায়ীরা চালান দিত। বরিশাল খুলনার অনেক মানুষ এই শীতলপাটি তৈরিতে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখত। গ্রামীণ দুঃস্থ মানুষদের অসময়ে এসব শিল্প কিছুটা আর্থিক দুর্দশা দূর করতে সাহায্য করত।

মাদুর শিল্পের পাশাপাশি অনেক জায়গায় পাট থেকে দড়ি তৈরিতে অনেক মানুষ নিয়োজিত থাকত। বাড়িতে বসে মেয়েদের সাহায্য নিয়ে এসব তৈরি করা হত। বাখরগঞ্জ জেলার গৌরনদী থানার অনেক গ্রামে ১ম মহাযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এ শিল্পের ব্যাপক প্রচলনের কথা জানা যায়। চাষিদের প্রয়োজনীয় লোহার জিনিসপত্রাদি বিভিন্ন গ্রামে তৈরি করার জন্য কর্মকাররা সব গ্রামেই কমবেশি থাকত।

কিন্তু সে যুগে কুটির শিল্পের স্তরে এই শিল্প থাকলেও কতকগুলি এলাকার লোহাজাত বিভিন্ন জিনিসের সারা বাংলাদেশে ব্যাপক চাহিদা ছিল। হাড়োয়ার গোপালপুর তালা শিল্পের ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছিল। বাদুড়িয়া থানার চিতুর, বসিরহাটের গাছা, আখারপুর গ্রামের কর্মকারর সেদিন উন্নত মানের লোহার বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করত তা বিভিন্ন জায়গায় পাঠান হত।

কিন্তু এসব কুটিরশিল্পের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যাচ্ছিল ১ম মহাযুদ্ধ- পরবর্তী কালে ভাটার টান। গ্রামের কর্মকাররা ধীরে ধীরে জীবিকাচ্যুত হচ্ছিল। পূর্বে জমিদার নায়েব মশাইদের প্রশ্রয়ে নবউঠিত এলাকায় দূর থেকে এসব মানুষ এসে বসত তৈরি করেছিল।