০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

ভারত ও নিউজিল্যান্ড দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে যৌথ কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অধ্যায়

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর জানানো হয়, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে ১০টি সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরের জন্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

দুই দেশ জলপথ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, নৌবাহিনীর পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা এবং ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে একমত হয়েছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংলাপ চালু এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় লক্ষ্য

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুত বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দুই দেশের মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ উভয় দেশের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Prime Minister Narendra Modi and his New Zealand counterpart Christopher  Luxon on Saturday held wide-ranging bilateral talks in Auckland, agreeing  to elevate India-New Zealand relations to a Strategic Partnership  #OmmcomNews

ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা

যৌথ অবস্থানে দুই দেশ একটি অবাধ, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক সংকট নিয়ে অভিন্ন অবস্থান

বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে একমত হয় দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূলের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা কমানো এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্রজুড়ে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

ভারত-নিউজিল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারত্বে সম্পর্ক উন্নীত, ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণের লক্ষ্য। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগেও বড় সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

০৫:৫২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ভারত ও নিউজিল্যান্ড দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে যৌথ কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অধ্যায়

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর জানানো হয়, ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে ১০টি সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরের জন্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

দুই দেশ জলপথ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, নৌবাহিনীর পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা এবং ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে একমত হয়েছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংলাপ চালু এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় লক্ষ্য

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুত বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দুই দেশের মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ উভয় দেশের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Prime Minister Narendra Modi and his New Zealand counterpart Christopher  Luxon on Saturday held wide-ranging bilateral talks in Auckland, agreeing  to elevate India-New Zealand relations to a Strategic Partnership  #OmmcomNews

ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা

যৌথ অবস্থানে দুই দেশ একটি অবাধ, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নির্বিঘ্ন নৌ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক সংকট নিয়ে অভিন্ন অবস্থান

বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে একমত হয় দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মূলের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা কমানো এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্রজুড়ে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

ভারত-নিউজিল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারত্বে সম্পর্ক উন্নীত, ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণের লক্ষ্য। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগেও বড় সিদ্ধান্ত।