০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হলেও রাজ্যের রাজনৈতিক নাটক এখনো থামেনি। ভোটে পরাজয়ের একদিন পর কলকাতায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে জোর করে নির্বাচন দখল করেছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, বিজেপি “নির্বাচন চুরি” করেছে এবং তাদের জয় জনগণের রায়ের ফল নয়, বরং একটি “ষড়যন্ত্রের” ফল।

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, তারা বিজেপিকে সমর্থন করেছে এবং তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাকে এবং তার কর্মীদের গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিজেপি কর্মীদের হাতে তার কর্মীরা মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে সেই পদক্ষেপ কী হবে তা খোলাসা করেননি।

পদত্যাগে অস্বীকৃতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি পদত্যাগ করব না। জনগণের রায়ে নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের হারানো হয়েছে।” তার এই অবস্থান থেকেই স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অচলাবস্থা সহজে কাটছে না।

এখন প্রশ্ন—মুখ্যমন্ত্রী কি পরাজয়ের পরও পদে থাকতে পারেন?

সংবিধান কী বলছে
পরাজয়ের পর মমতা জানান, তিনি ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন। তিনি নির্বাচন ফল চ্যালেঞ্জ করতে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

তবে তিনি পদত্যাগ না করলেও, তা পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পথে বাধা নয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, আর তৃণমূল হেরে গেছে। শুধুমাত্র পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন না।

ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ততদিনই পদে থাকতে পারেন, যতদিন তিনি বিধানসভার আস্থা ভোগ করেন। একবার সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকার সাংবিধানিকভাবে টিকে থাকার ভিত্তি হারায়।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাকে অপসারণ করে বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। ফলে পদত্যাগ না করলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়—এটাই সংবিধানের স্পষ্ট বিধান।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

১০:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হলেও রাজ্যের রাজনৈতিক নাটক এখনো থামেনি। ভোটে পরাজয়ের একদিন পর কলকাতায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে জোর করে নির্বাচন দখল করেছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, বিজেপি “নির্বাচন চুরি” করেছে এবং তাদের জয় জনগণের রায়ের ফল নয়, বরং একটি “ষড়যন্ত্রের” ফল।

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, তারা বিজেপিকে সমর্থন করেছে এবং তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাকে এবং তার কর্মীদের গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিজেপি কর্মীদের হাতে তার কর্মীরা মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে সেই পদক্ষেপ কী হবে তা খোলাসা করেননি।

পদত্যাগে অস্বীকৃতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি পদত্যাগ করব না। জনগণের রায়ে নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের হারানো হয়েছে।” তার এই অবস্থান থেকেই স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অচলাবস্থা সহজে কাটছে না।

এখন প্রশ্ন—মুখ্যমন্ত্রী কি পরাজয়ের পরও পদে থাকতে পারেন?

সংবিধান কী বলছে
পরাজয়ের পর মমতা জানান, তিনি ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন। তিনি নির্বাচন ফল চ্যালেঞ্জ করতে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

তবে তিনি পদত্যাগ না করলেও, তা পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পথে বাধা নয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, আর তৃণমূল হেরে গেছে। শুধুমাত্র পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন না।

ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ততদিনই পদে থাকতে পারেন, যতদিন তিনি বিধানসভার আস্থা ভোগ করেন। একবার সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকার সাংবিধানিকভাবে টিকে থাকার ভিত্তি হারায়।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাকে অপসারণ করে বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। ফলে পদত্যাগ না করলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়—এটাই সংবিধানের স্পষ্ট বিধান।