০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গার্মেন্টসের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে, বিদ্যুৎ সংকটে বড় শঙ্কা পাবনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পৌরসভা, স্কয়ার ও ব্র্যাকের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ লালবাগে বাসা থেকে আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার শাহবাগে পৃথক স্থান থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার বিভাজন কাটিয়ে ব্রিকসে যৌথ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই ঐক্যের বার্তা ব্রিকসের ২০ বছর: বিশ্ব চীনের ভবিষ্যৎ ভাবনা শুনতে আগ্রহী দিল্লিতে একদিনে সাত বৈঠক সারলেন মোদী বাংলাদেশে হামের মতো উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১,০১৯ কনডোলিজা রাইস: ৯/১১ আমাদের পরীক্ষা নিয়েছিল, কিন্তু ভেঙে দিতে পারেনি হংকংয়ের হাসপাতালে লিফট কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগ কর্মকর্তার

মান্দালয়ে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা প্রতিরোধ বাহিনীর

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, তারা মান্দালয়ের তাদা-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় বিমানবন্দরটি দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, ফলে ব্যাহত হয় শহরটির অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলও।

জাতীয় ঐক্য সরকারের মুখপাত্র নেই ফোন লাত জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো যুদ্ধবিমান যে অংশে রাখা হয়েছিল, শুধু সেই অংশকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। বারোটি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে। ভিডিওতে যুদ্ধবিমান রাখা হ্যাঙ্গারের দিকে ড্রোন এগিয়ে যেতে দেখা গেলেও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট নয়। প্রতিরোধ বাহিনীর দাবি, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে তারা বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, হামলায় এক কর্নেলসহ পাঁচজন সেনা সদস্য এবং তাদের নিজস্ব তিনজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ড্রোন অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, সব বিমানকে নিরাপদে সরিয়ে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। সরকারপন্থী গণমাধ্যম এই ঘটনাকে কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাময়িক বিঘ্ন হিসেবেই তুলে ধরেছে। স্বতন্ত্র সূত্রে কোনো দাবিই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে চলা পাঁচ বছরের এই সংঘাতে প্রচলিত অস্ত্রশক্তিতে সেনাবাহিনীর সুবিধা কাটাতে ক্রমেই উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জন্যও প্রতিবেশী দেশের এই দীর্ঘায়িত সংঘাত নিরাপত্তা ও শরণার্থী পরিস্থিতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকছে, বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সম্পর্ক যেভাবে দিনে দিনে জটিল হচ্ছে। সামরিক জান্তা এখনো পশ্চিম মিয়ানমারের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির ভিড়ে সত্যিটা যেখানেই থাক, বিমানবন্দরের রানওয়ে দুই দিন বন্ধ থাকার ঘটনাই বলে দিচ্ছে মিয়ানমারের আকাশ এখনো কতটা অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

গার্মেন্টসের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে, বিদ্যুৎ সংকটে বড় শঙ্কা

মান্দালয়ে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা প্রতিরোধ বাহিনীর

০৫:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, তারা মান্দালয়ের তাদা-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় বিমানবন্দরটি দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, ফলে ব্যাহত হয় শহরটির অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলও।

জাতীয় ঐক্য সরকারের মুখপাত্র নেই ফোন লাত জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো যুদ্ধবিমান যে অংশে রাখা হয়েছিল, শুধু সেই অংশকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। বারোটি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে। ভিডিওতে যুদ্ধবিমান রাখা হ্যাঙ্গারের দিকে ড্রোন এগিয়ে যেতে দেখা গেলেও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট নয়। প্রতিরোধ বাহিনীর দাবি, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে তারা বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে।

পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, হামলায় এক কর্নেলসহ পাঁচজন সেনা সদস্য এবং তাদের নিজস্ব তিনজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ড্রোন অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, সব বিমানকে নিরাপদে সরিয়ে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। সরকারপন্থী গণমাধ্যম এই ঘটনাকে কেবল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাময়িক বিঘ্ন হিসেবেই তুলে ধরেছে। স্বতন্ত্র সূত্রে কোনো দাবিই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে চলা পাঁচ বছরের এই সংঘাতে প্রচলিত অস্ত্রশক্তিতে সেনাবাহিনীর সুবিধা কাটাতে ক্রমেই উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিরোধ বাহিনীগুলো। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জন্যও প্রতিবেশী দেশের এই দীর্ঘায়িত সংঘাত নিরাপত্তা ও শরণার্থী পরিস্থিতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকছে, বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সম্পর্ক যেভাবে দিনে দিনে জটিল হচ্ছে। সামরিক জান্তা এখনো পশ্চিম মিয়ানমারের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির ভিড়ে সত্যিটা যেখানেই থাক, বিমানবন্দরের রানওয়ে দুই দিন বন্ধ থাকার ঘটনাই বলে দিচ্ছে মিয়ানমারের আকাশ এখনো কতটা অনিশ্চিত।