০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে স্থিতাবস্থা অব্যাহত থাকবে – আপীল বিভাগের নির্দেশনা

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
  • 168

সারাক্ষণ ডেস্ক

আজ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ মিরনজিল্লা হরিজন কলোনীতে স্থিতাবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং হাইকোর্ট পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন বলে আদেশ দিয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রতি মিরনজিল্লা হরিজন কলোনি (ওয়ার্ড নং ৩৩, বংশাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন) তে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধে হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট মামলা ( রিট মামলা নং ৮১১৯/২০২৪) এর প্রেক্ষিতে আজ ১১ই জুলাই আপীল বিভাগ এ আদেশ দেন। সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন। আবেদনকারীদের পক্ষে মামলার শুনানীতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবীগণ যথাক্রমে সুব্রত চৌধুরী, জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন এবং আইনজীবী অনীক আর হক। রিট মামলার তিনজন আবেদনকারী এডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক, এডভোকেট উৎপল বিশ্বাস ও এডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা এই শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মুরাদ রেজা।

প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ১১ জুন ২০২৪ তারিখ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শুরু করে, এবং বসবাসরত ১৬ টি পরিবারের ঘরবাড়ি কোনরূপ নিরাপত্তা ও বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ অবৈধ উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ জুন ২০২৪ তারিখ হাইকোর্টের ০৩ জন আইনজীবী – যথাক্রমে এডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক, এডভোকেট উৎপল বিশ্বাস ও এডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা — হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে মাননীয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং মাননীয় বিচারপতি মোঃ আতাবুল্লাহ এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট এর একটি দ্বৈত বেঞ্চ অবৈধ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর ৩০ দিনের স্থিতাবস্থা এর আদেশ প্রদান করেন। একইসাথে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করার জন্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা না করেই উক্ত ৩০ দিনের স্থিতাবস্থার আদেশের বিরুদ্ধে আপীল আবেদনের অনুমতি চেয়ে আপীল বিভাগের সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল দায়ের করেন। আপীল বিভাগের চেম্বার বেঞ্চ এ আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন আদেশ প্রদান না করে; মামলাটি আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্যে ৪ জুলাই ধার্য করেন। মামলাটি নির্ধারিত তারিখে শুনানি না হওয়াতে, আগামী ১১ জুলাই ধার্য করা হয় ।

ইতোমধ্যে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ এবং আপীল বিভাগের মামলাটি শুনানি অপেক্ষমান থাকা সত্ত্বেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ১০ ও ১১ জুলাই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং পুলিশ ফোর্স মোতায়েন বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ কমিশনার , ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি নতুন আদেশ প্রদান করেন।

এর প্রেক্ষিতে গতকাল ১০ জুলাই আবেদনকারীদের আইনজীবীগণ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জরুরী ভিত্তিতে বিষয়টি আপীল বিভাগের নজরে আনেন । পরবর্তীতে আদালত বেলা ১ টায় বিষয়টি শুনানি শেষে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। এ আদেশটি মৌখিক ভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান কে অবগত করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল দুপুর ১২.৩০ মিনিটের কতিপয় দুর্বৃত্তকারীরা এসে হরিজনদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মন্দির ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় প্রায় ১৬ জন আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুধু আদালতের আদেশেরই অবমাননা নয় একই সাথে এটি জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক সনদের অধীনে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা এবং গৃহহীন নাগরিকদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মামনীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে স্থিতাবস্থা অব্যাহত থাকবে – আপীল বিভাগের নির্দেশনা

০৪:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪

সারাক্ষণ ডেস্ক

আজ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ মিরনজিল্লা হরিজন কলোনীতে স্থিতাবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং হাইকোর্ট পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন বলে আদেশ দিয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রতি মিরনজিল্লা হরিজন কলোনি (ওয়ার্ড নং ৩৩, বংশাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন) তে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধে হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট মামলা ( রিট মামলা নং ৮১১৯/২০২৪) এর প্রেক্ষিতে আজ ১১ই জুলাই আপীল বিভাগ এ আদেশ দেন। সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন। আবেদনকারীদের পক্ষে মামলার শুনানীতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবীগণ যথাক্রমে সুব্রত চৌধুরী, জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন এবং আইনজীবী অনীক আর হক। রিট মামলার তিনজন আবেদনকারী এডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক, এডভোকেট উৎপল বিশ্বাস ও এডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা এই শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মুরাদ রেজা।

প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ১১ জুন ২০২৪ তারিখ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিরনজিল্লা হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শুরু করে, এবং বসবাসরত ১৬ টি পরিবারের ঘরবাড়ি কোনরূপ নিরাপত্তা ও বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ অবৈধ উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ জুন ২০২৪ তারিখ হাইকোর্টের ০৩ জন আইনজীবী – যথাক্রমে এডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক, এডভোকেট উৎপল বিশ্বাস ও এডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা — হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে মাননীয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং মাননীয় বিচারপতি মোঃ আতাবুল্লাহ এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট এর একটি দ্বৈত বেঞ্চ অবৈধ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর ৩০ দিনের স্থিতাবস্থা এর আদেশ প্রদান করেন। একইসাথে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করার জন্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা না করেই উক্ত ৩০ দিনের স্থিতাবস্থার আদেশের বিরুদ্ধে আপীল আবেদনের অনুমতি চেয়ে আপীল বিভাগের সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল দায়ের করেন। আপীল বিভাগের চেম্বার বেঞ্চ এ আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন আদেশ প্রদান না করে; মামলাটি আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্যে ৪ জুলাই ধার্য করেন। মামলাটি নির্ধারিত তারিখে শুনানি না হওয়াতে, আগামী ১১ জুলাই ধার্য করা হয় ।

ইতোমধ্যে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ এবং আপীল বিভাগের মামলাটি শুনানি অপেক্ষমান থাকা সত্ত্বেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ১০ ও ১১ জুলাই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং পুলিশ ফোর্স মোতায়েন বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ কমিশনার , ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি নতুন আদেশ প্রদান করেন।

এর প্রেক্ষিতে গতকাল ১০ জুলাই আবেদনকারীদের আইনজীবীগণ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জরুরী ভিত্তিতে বিষয়টি আপীল বিভাগের নজরে আনেন । পরবর্তীতে আদালত বেলা ১ টায় বিষয়টি শুনানি শেষে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। এ আদেশটি মৌখিক ভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনিরুজ্জামান কে অবগত করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল দুপুর ১২.৩০ মিনিটের কতিপয় দুর্বৃত্তকারীরা এসে হরিজনদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মন্দির ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় প্রায় ১৬ জন আহত হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুধু আদালতের আদেশেরই অবমাননা নয় একই সাথে এটি জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক সনদের অধীনে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা এবং গৃহহীন নাগরিকদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মামনীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।