০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

মিশিগানের প্রাইমারিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল ও ইহুদিবিদ্বেষ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারির ফলাফলকে ঘিরে দলটির ভেতরে ইসরায়েল-নীতি, গাজা যুদ্ধ এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে বিদ্যমান মতপার্থক্যকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রাইমারিতে প্রগতিশীল নেতা আবদুল এল-সাইয়েদ অল্প ব্যবধানে বিজয়ী হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-নীতি এবং দেশটির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন থেকে রাজনৈতিক অনুদান গ্রহণের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

এল-সাইয়েদের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাঁর সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্য ইহুদিবিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে। তবে তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং ইসরায়েল সরকারের নীতি ও গাজায় সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, একটি রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা এবং কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ—দুই বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স প্রচারণার সময় এই বিতর্কে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নেন। তবে ভোটের আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইহুদি আমেরিকানদের দোষারোপের রাজনীতির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের মধ্যে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে দলটির ভেতরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও জনপরিসরের বিতর্কে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ এখন আরও সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ—এই দুই বিষয় এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ বৃহত্তর মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে রিপাবলিকান নেতারাও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটিক নেতারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিনিদের মানবিক অধিকার এবং দেশে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।

আগামী সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

মিশিগানের প্রাইমারিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল ও ইহুদিবিদ্বেষ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়

০৯:১৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারির ফলাফলকে ঘিরে দলটির ভেতরে ইসরায়েল-নীতি, গাজা যুদ্ধ এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে বিদ্যমান মতপার্থক্যকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রাইমারিতে প্রগতিশীল নেতা আবদুল এল-সাইয়েদ অল্প ব্যবধানে বিজয়ী হন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-নীতি এবং দেশটির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন থেকে রাজনৈতিক অনুদান গ্রহণের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

এল-সাইয়েদের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাঁর সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্য ইহুদিবিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে। তবে তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং ইসরায়েল সরকারের নীতি ও গাজায় সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, একটি রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা এবং কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ—দুই বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স প্রচারণার সময় এই বিতর্কে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নেন। তবে ভোটের আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইহুদি আমেরিকানদের দোষারোপের রাজনীতির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের মধ্যে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে দলটির ভেতরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও জনপরিসরের বিতর্কে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ এখন আরও সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ—এই দুই বিষয় এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ বৃহত্তর মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে রিপাবলিকান নেতারাও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটিক নেতারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিনিদের মানবিক অধিকার এবং দেশে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।

আগামী সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।