০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

মোগলদের পছন্দের বিরিয়ানি: ইতিহাস ও রান্নার রীতিনীতি

মোগলদের খাদ্যাভ্যাসে মাংসের আধিপত্য

মোগল সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদে খাবার মানেই ছিল এক রাজকীয় ভোজ। যদিও মোগলরা সবজি খেতেন, তবে তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা কখনোই মাংস ছাড়া পূর্ণ হতো না। ভেড়া, খাসি, গরু, মুরগি এমনকি হরিণ ও নীলগাই জাতীয় বন্যপ্রাণীর মাংসও মোগল রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ ছিল। রাজকীয় উৎসবে বা যেকোনো পার্বণ উপলক্ষে নানা ধরনের মাংসের পদের ছড়াছড়ি থাকত।

সবজি থাকলেও কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মাংস

বিভিন্ন মৌসুমী সবজি যেমন বেগুন, শিম, পটল, করলা, লাউ প্রভৃতি রান্না করা হতো। তবে সবজি ছিল সাধারণত সাইড ডিশ হিসেবে। মূল পদে বরাবরই আধিপত্য ছিল মাংসের। মোগল রান্নায় মশলার ব্যবহার ছিল ভারসাম্যপূর্ণ এবং শিল্পসুলভ। তারা ঘন ও গাঢ় গ্রেভির মধ্যে রান্না করত, যাতে প্রতিটি উপাদান গভীরভাবে মিশে যায়।

বিরিয়ানি: মোগলদের হৃদয়ের রান্না

মোগল রান্নাঘরের অন্যতম গর্বের পদ ছিল বিরিয়ানি। এটা শুধু খাবার নয়, বরং এক ধরনের শিল্প ছিল। বিরিয়ানি মোগলদের কাছে শুধু স্বাদ নয়, সৌন্দর্য, সুবাস ও রাজকীয়তার প্রতীকও ছিল।

মোগল স্টাইলে বিরিয়ানি রান্নার রীতিনীতি

১. মাংসের প্রস্তুতি:
বিরিয়ানির জন্য সাধারণত খাসির মাংস ব্যবহৃত হতো। মাংসকে দই, আদা-রসুন বাটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, জায়ফল-জয়ত্রি এবং ঘি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ মেরিনেট করে রাখা হতো। কখনো কখনো কাঁচা পেঁপের রস দিয়ে মাংসকে নরম করাও হতো।

২. চালের প্রস্তুতি:
বাসমতি চাল ধুয়ে কিছুকাল ভিজিয়ে রাখা হতো। এরপর গরম পানি, তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি দিয়ে আধা সেদ্ধ করে ফেলা হতো। মোগলরা চালের প্রতিটি দানাই যেন ঝরঝরে থাকে, সে বিষয়ে খুব যত্ন নিত।

৩. দমে রান্না:
বিরিয়ানির আসল সৌন্দর্য ছিল এর দমে রান্নায়। একটি বড় কাঁসার হাঁড়িতে প্রথমে ঘি মাখানো হতো, তারপর এক স্তর মেরিনেট করা মাংস, তার ওপর এক স্তর সেদ্ধ চাল, তারপর কেওড়া ও গোলাপ জল, জাফরান ভেজানো দুধ, ঘি, ভাজা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, পুদিনা ও ধনেপাতা দিয়ে স্তরে স্তরে সাজানো হতো। হাঁড়ির মুখ ভালোভাবে ময়দা দিয়ে আটকে দিয়ে কয়লার আগুনে বা মাটির নিচে দাফন করে ‘দম’ দেওয়া হতো।

৪. সুবাস ও পরিবেশন:
বিরিয়ানি প্রস্তুত হলে ঢাকনা খোলার পর এক রাজকীয় সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত। মোগলরা সাধারণত এটি খেতেন ঘন দই, কিসমিস-পেঁয়াজ ভাজা দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি রায়তা বা মিষ্টি বোরানির সঙ্গে।

বিরিয়ানি ছিল মোগলদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অংশ। এটি কেবলমাত্র খাবার নয়, বরং ইতিহাস, সৃজনশীলতা ও স্বাদের সংমিশ্রণ। আজকের দিনেও মোগলাই বিরিয়ানি বাংলাদেশের সহ উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। তবে তার শিকড় গভীরভাবে জড়িয়ে আছে মোগল রান্নাঘরের সেই দমে রান্না করা সুগন্ধি, সমৃদ্ধ এবং চমকপ্রদ বিরিয়ানির ঐতিহ্যে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

মোগলদের পছন্দের বিরিয়ানি: ইতিহাস ও রান্নার রীতিনীতি

০৩:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোগলদের খাদ্যাভ্যাসে মাংসের আধিপত্য

মোগল সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদে খাবার মানেই ছিল এক রাজকীয় ভোজ। যদিও মোগলরা সবজি খেতেন, তবে তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা কখনোই মাংস ছাড়া পূর্ণ হতো না। ভেড়া, খাসি, গরু, মুরগি এমনকি হরিণ ও নীলগাই জাতীয় বন্যপ্রাণীর মাংসও মোগল রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ ছিল। রাজকীয় উৎসবে বা যেকোনো পার্বণ উপলক্ষে নানা ধরনের মাংসের পদের ছড়াছড়ি থাকত।

সবজি থাকলেও কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মাংস

বিভিন্ন মৌসুমী সবজি যেমন বেগুন, শিম, পটল, করলা, লাউ প্রভৃতি রান্না করা হতো। তবে সবজি ছিল সাধারণত সাইড ডিশ হিসেবে। মূল পদে বরাবরই আধিপত্য ছিল মাংসের। মোগল রান্নায় মশলার ব্যবহার ছিল ভারসাম্যপূর্ণ এবং শিল্পসুলভ। তারা ঘন ও গাঢ় গ্রেভির মধ্যে রান্না করত, যাতে প্রতিটি উপাদান গভীরভাবে মিশে যায়।

বিরিয়ানি: মোগলদের হৃদয়ের রান্না

মোগল রান্নাঘরের অন্যতম গর্বের পদ ছিল বিরিয়ানি। এটা শুধু খাবার নয়, বরং এক ধরনের শিল্প ছিল। বিরিয়ানি মোগলদের কাছে শুধু স্বাদ নয়, সৌন্দর্য, সুবাস ও রাজকীয়তার প্রতীকও ছিল।

মোগল স্টাইলে বিরিয়ানি রান্নার রীতিনীতি

১. মাংসের প্রস্তুতি:
বিরিয়ানির জন্য সাধারণত খাসির মাংস ব্যবহৃত হতো। মাংসকে দই, আদা-রসুন বাটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, জায়ফল-জয়ত্রি এবং ঘি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ মেরিনেট করে রাখা হতো। কখনো কখনো কাঁচা পেঁপের রস দিয়ে মাংসকে নরম করাও হতো।

২. চালের প্রস্তুতি:
বাসমতি চাল ধুয়ে কিছুকাল ভিজিয়ে রাখা হতো। এরপর গরম পানি, তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি দিয়ে আধা সেদ্ধ করে ফেলা হতো। মোগলরা চালের প্রতিটি দানাই যেন ঝরঝরে থাকে, সে বিষয়ে খুব যত্ন নিত।

৩. দমে রান্না:
বিরিয়ানির আসল সৌন্দর্য ছিল এর দমে রান্নায়। একটি বড় কাঁসার হাঁড়িতে প্রথমে ঘি মাখানো হতো, তারপর এক স্তর মেরিনেট করা মাংস, তার ওপর এক স্তর সেদ্ধ চাল, তারপর কেওড়া ও গোলাপ জল, জাফরান ভেজানো দুধ, ঘি, ভাজা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, পুদিনা ও ধনেপাতা দিয়ে স্তরে স্তরে সাজানো হতো। হাঁড়ির মুখ ভালোভাবে ময়দা দিয়ে আটকে দিয়ে কয়লার আগুনে বা মাটির নিচে দাফন করে ‘দম’ দেওয়া হতো।

৪. সুবাস ও পরিবেশন:
বিরিয়ানি প্রস্তুত হলে ঢাকনা খোলার পর এক রাজকীয় সুবাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত। মোগলরা সাধারণত এটি খেতেন ঘন দই, কিসমিস-পেঁয়াজ ভাজা দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি রায়তা বা মিষ্টি বোরানির সঙ্গে।

বিরিয়ানি ছিল মোগলদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অংশ। এটি কেবলমাত্র খাবার নয়, বরং ইতিহাস, সৃজনশীলতা ও স্বাদের সংমিশ্রণ। আজকের দিনেও মোগলাই বিরিয়ানি বাংলাদেশের সহ উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। তবে তার শিকড় গভীরভাবে জড়িয়ে আছে মোগল রান্নাঘরের সেই দমে রান্না করা সুগন্ধি, সমৃদ্ধ এবং চমকপ্রদ বিরিয়ানির ঐতিহ্যে।