০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন-জাপান সামরিক মহড়া নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা, আঞ্চলিক আস্থার ঝুঁকির আশঙ্কা

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক মহড়াকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন।

আঞ্চলিক শান্তি বনাম সামরিক জোট

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা। কিন্তু বাইরের শক্তিকে এনে বিভাজন ও মুখোমুখি অবস্থান তৈরি করা এই অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তার নামে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

যৌথ মহড়ার বিস্তার ও অংশগ্রহণ

সোমবার শুরু হওয়া এই বার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মার্কিন ও ফিলিপাইন সেনা। এবার প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় যোগ দিয়েছে জাপানের বাহিনীও। প্রায় ১৯ দিনব্যাপী এই মহড়ায় ১৭ হাজারের বেশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স ও কানাডার বাহিনীর সদস্যরাও এতে যুক্ত রয়েছে।

কৌশলগত অবস্থান ও মহড়ার ধরন

এই মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সরাসরি গুলি ছোড়ার অনুশীলন, যা ফিলিপাইনের উত্তরের তাইওয়ান প্রণালীর মুখোমুখি এলাকায় এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলের কাছাকাছি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই অঞ্চলগুলোতেই সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

একটি মহড়ায় জাপানের প্রায় ১,৪০০ সেনা অংশ নিয়ে টাইপ-৮৮ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি মাইনসুইপার জাহাজ ডুবানোর অনুশীলন করবে, যা সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা

এই মহড়া এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শেষ পর্যায় চলছে। এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবও এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা

এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী রেখে যাওয়ার পর থেকেই ফিলিপাইনে অবস্থান করছে। এই ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘটনায় আগেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল বেইজিং।

সার্বিক বিশ্লেষণ

চীনের দৃষ্টিতে, এই ধরনের বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া আঞ্চলিক সহযোগিতার বদলে প্রতিযোগিতা ও সন্দেহ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এটিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে এই মহড়াকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন-জাপান সামরিক মহড়া নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা, আঞ্চলিক আস্থার ঝুঁকির আশঙ্কা

১০:০০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক মহড়াকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন।

আঞ্চলিক শান্তি বনাম সামরিক জোট

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা। কিন্তু বাইরের শক্তিকে এনে বিভাজন ও মুখোমুখি অবস্থান তৈরি করা এই অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তার নামে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

যৌথ মহড়ার বিস্তার ও অংশগ্রহণ

সোমবার শুরু হওয়া এই বার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মার্কিন ও ফিলিপাইন সেনা। এবার প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় যোগ দিয়েছে জাপানের বাহিনীও। প্রায় ১৯ দিনব্যাপী এই মহড়ায় ১৭ হাজারের বেশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স ও কানাডার বাহিনীর সদস্যরাও এতে যুক্ত রয়েছে।

কৌশলগত অবস্থান ও মহড়ার ধরন

এই মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সরাসরি গুলি ছোড়ার অনুশীলন, যা ফিলিপাইনের উত্তরের তাইওয়ান প্রণালীর মুখোমুখি এলাকায় এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলের কাছাকাছি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই অঞ্চলগুলোতেই সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে।

একটি মহড়ায় জাপানের প্রায় ১,৪০০ সেনা অংশ নিয়ে টাইপ-৮৮ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি মাইনসুইপার জাহাজ ডুবানোর অনুশীলন করবে, যা সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা

এই মহড়া এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শেষ পর্যায় চলছে। এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবও এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা

এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী রেখে যাওয়ার পর থেকেই ফিলিপাইনে অবস্থান করছে। এই ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘটনায় আগেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল বেইজিং।

সার্বিক বিশ্লেষণ

চীনের দৃষ্টিতে, এই ধরনের বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া আঞ্চলিক সহযোগিতার বদলে প্রতিযোগিতা ও সন্দেহ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এটিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে এই মহড়াকে ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।