০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

যুদ্ধ বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে অস্ত্রশিল্প: নতুন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, পিছিয়ে ইউরোপ

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, আর সেই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অস্ত্র তৈরির শিল্পও। গত এক দশক ধরে সামরিক ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, আর ২০২৪ সালে তা শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে। তবে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না—আধুনিক যুদ্ধে জিততে হলে প্রয়োজন সঠিক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রশিল্প।

যুদ্ধের নতুন শিক্ষা: সস্তা ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ভারসাম্য

ইউক্রেনের যুদ্ধ দেখিয়েছে কম খরচের ড্রোন কতটা কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এসব ড্রোন বড় শক্তির সেনাবাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখতে পারছে। অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় দেখা গেছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার।

এই দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভবিষ্যতের যুদ্ধে দরকার উচ্চ প্রযুক্তির দামী অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সস্তা ও সহজে বদলানো যায় এমন অস্ত্র।

সফটওয়্যারই হয়ে উঠছে মূল শক্তি

বর্তমান যুদ্ধ প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সফটওয়্যার ব্যবহারে। একটি অস্ত্র কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে তার ভেতরের অ্যালগরিদম, তথ্যপ্রযুক্তি এবং দ্রুত আপডেটের ওপর।

এই কারণে নতুন প্রজন্মের অস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যারকে কেন্দ্র করে নিজেদের গড়ে তুলছে। তারা শুধু অস্ত্র তৈরি করছে না, বরং যুদ্ধ পরিচালনার পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালভাবে উন্নত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি উঠে এসেছে, যারা প্রচলিত অস্ত্র নির্মাতাদের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করছে এবং গবেষণায় বেশি বিনিয়োগ করছে।

সরকারও ক্রয়প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে নতুন কোম্পানিগুলো সহজে প্রতিযোগিতায় আসতে পারে। এতে প্রতিরক্ষা খাত আরও বৈচিত্র্যময় ও গতিশীল হয়ে উঠছে।

Inside America's New Defence Tech Ecosystem - ORF Middle East

ইউরোপ পিছিয়ে কেন

অন্যদিকে ইউরোপ এখনো এই পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি। নতুন প্রযুক্তি কোম্পানির অভাব, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং বাজারের বিভাজন—সব মিলিয়ে উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলো এগোতে পারছে না।

অনেক ক্ষেত্রে পুরনো ধরনের অস্ত্রেই বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, ফলে আধুনিক যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।

ইউক্রেন থেকে শেখার সুযোগ

ইউক্রেন ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

যদি ইউরোপ তার ব্যয় ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।


যুদ্ধ এখন আর শুধু অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে না, বরং প্রযুক্তি, তথ্য এবং দ্রুত অভিযোজন ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। তাই যে দেশ বা অঞ্চল এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের শক্তির ভারসাম্যে এগিয়ে থাকবে।


বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রশিল্পের গুরুত্ব বাড়ছে, যেখানে সফটওয়্যার ও উদ্ভাবন নির্ধারণ করছে শক্তির ভারসাম্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

যুদ্ধ বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে অস্ত্রশিল্প: নতুন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, পিছিয়ে ইউরোপ

০৫:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, আর সেই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে অস্ত্র তৈরির শিল্পও। গত এক দশক ধরে সামরিক ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, আর ২০২৪ সালে তা শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে। তবে শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না—আধুনিক যুদ্ধে জিততে হলে প্রয়োজন সঠিক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রশিল্প।

যুদ্ধের নতুন শিক্ষা: সস্তা ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ভারসাম্য

ইউক্রেনের যুদ্ধ দেখিয়েছে কম খরচের ড্রোন কতটা কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এসব ড্রোন বড় শক্তির সেনাবাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখতে পারছে। অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় দেখা গেছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার।

এই দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভবিষ্যতের যুদ্ধে দরকার উচ্চ প্রযুক্তির দামী অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সস্তা ও সহজে বদলানো যায় এমন অস্ত্র।

সফটওয়্যারই হয়ে উঠছে মূল শক্তি

বর্তমান যুদ্ধ প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সফটওয়্যার ব্যবহারে। একটি অস্ত্র কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে তার ভেতরের অ্যালগরিদম, তথ্যপ্রযুক্তি এবং দ্রুত আপডেটের ওপর।

এই কারণে নতুন প্রজন্মের অস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যারকে কেন্দ্র করে নিজেদের গড়ে তুলছে। তারা শুধু অস্ত্র তৈরি করছে না, বরং যুদ্ধ পরিচালনার পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালভাবে উন্নত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি উঠে এসেছে, যারা প্রচলিত অস্ত্র নির্মাতাদের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করছে এবং গবেষণায় বেশি বিনিয়োগ করছে।

সরকারও ক্রয়প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে নতুন কোম্পানিগুলো সহজে প্রতিযোগিতায় আসতে পারে। এতে প্রতিরক্ষা খাত আরও বৈচিত্র্যময় ও গতিশীল হয়ে উঠছে।

Inside America's New Defence Tech Ecosystem - ORF Middle East

ইউরোপ পিছিয়ে কেন

অন্যদিকে ইউরোপ এখনো এই পরিবর্তনের সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি। নতুন প্রযুক্তি কোম্পানির অভাব, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং বাজারের বিভাজন—সব মিলিয়ে উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলো এগোতে পারছে না।

অনেক ক্ষেত্রে পুরনো ধরনের অস্ত্রেই বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, ফলে আধুনিক যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।

ইউক্রেন থেকে শেখার সুযোগ

ইউক্রেন ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

যদি ইউরোপ তার ব্যয় ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।


যুদ্ধ এখন আর শুধু অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে না, বরং প্রযুক্তি, তথ্য এবং দ্রুত অভিযোজন ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। তাই যে দেশ বা অঞ্চল এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের শক্তির ভারসাম্যে এগিয়ে থাকবে।


বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রশিল্পের গুরুত্ব বাড়ছে, যেখানে সফটওয়্যার ও উদ্ভাবন নির্ধারণ করছে শক্তির ভারসাম্য।