১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

যুদ্ধ সুদানে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে গৃহচ্যূত করেছে

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মারাত্মক মানবিক প্রভাব

২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের যুদ্ধ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এবং এর শেষের কোনো লক্ষণ নেই। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশে যুদ্ধের ফলে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। ৫ আগস্ট জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানায়, দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলের এল-ফাশের শহরের বাসিন্দারা অনাহারের মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে যাওয়ায় দেশটি স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এল-ফাশের: অবরুদ্ধ শহর

উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের বর্তমানে সেনাবাহিনীর (এসএএফ) নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র বড় শহর। অপর পক্ষ, দ্রুত সহায়তা বাহিনী (আরএসএফ), ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শহরটি অবরোধ করে রেখেছে নিজেদের দারফুরি ঘাঁটি নিশ্চিত করার জন্য। কিছু বাসিন্দা ও শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জামজাম শরণার্থী শিবিরের মানুষ পালাতে সক্ষম হলেও কাছের তাওইলা শহর অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা এবং কলেরা প্রাদুর্ভাবে ভুগছে।

২০২৪ সালের মার্চে খার্তুম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আরএসএফ এল-ফাশেরের চারপাশে অবরোধ আরও কঠোর করে। এর ফলে খাদ্য শহরে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং মানুষের বের হওয়াও কঠিন হয়েছে।

খাদ্য সংকট ও বেঁচে থাকার লড়াই

সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল-ফাশেরের খাদ্যের দাম দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। অনেক সময় খাবারই পাওয়া যায় না, ফলে মোবাইল মানি পেমেন্ট বা কমিউনিটি কিচেন কোনো কাজেই আসে না। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শহরে অবশিষ্ট প্রায় তিন লাখ বাসিন্দার অনেকেই প্রাণীর খাদ্য খেয়ে বেঁচে আছেন। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তারা এল-ফাশেরে খাদ্যবাহী ট্রাক পাঠানোর জন্য প্রস্তুত, কিন্তু আরএসএফ প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।

সামরিক অগ্রগতির ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক বিভাজন

এসএএফ ও তাদের মিত্ররা শহর মুক্ত করার জন্য কার্যকর কোনো অভিযান চালাতে পারছে না কিংবা চাইছে না। সেনাবাহিনীর মনোযোগ বর্তমানে প্রতিবেশী কর্দোফান অঞ্চলে, যেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরএসএফ হামলা বাড়িয়েছে। যদি আরএসএফ কর্দোফানের কিছু অংশ দখল করতে সক্ষম হয়, তবে সুদান কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়বে—পশ্চিমে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল, পূর্বে এসএএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকা, আর অন্যান্য ছোট মিলিশিয়া গোষ্ঠীর দখলে আলাদা অঞ্চল গড়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ব্যর্থ প্রচেষ্টা

যুদ্ধ ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যুদ্ধ থামানোর দাবি করলেও বাস্তবে অগ্রগতি নেই। গত মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র একটি চতুর্দেশীয় বৈঠক বাতিল করে, যেখানে মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বৈঠক বাতিলের কারণ ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী সুদানে আরএসএফ (যাকে ইউএই সমর্থন দিচ্ছে) ও এসএএফের (যাদের ঐতিহাসিকভাবে মিশর ও সৌদি আরব সমর্থন করেছে) ভূমিকা নিয়ে বিবৃতির ভাষা নিয়ে মতবিরোধ। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তাই এখনো অনেক দূরে বলে মনে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

যুদ্ধ সুদানে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে গৃহচ্যূত করেছে

১২:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মারাত্মক মানবিক প্রভাব

২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের যুদ্ধ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এবং এর শেষের কোনো লক্ষণ নেই। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশে যুদ্ধের ফলে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। ৫ আগস্ট জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানায়, দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলের এল-ফাশের শহরের বাসিন্দারা অনাহারের মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে যাওয়ায় দেশটি স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এল-ফাশের: অবরুদ্ধ শহর

উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের বর্তমানে সেনাবাহিনীর (এসএএফ) নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র বড় শহর। অপর পক্ষ, দ্রুত সহায়তা বাহিনী (আরএসএফ), ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শহরটি অবরোধ করে রেখেছে নিজেদের দারফুরি ঘাঁটি নিশ্চিত করার জন্য। কিছু বাসিন্দা ও শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জামজাম শরণার্থী শিবিরের মানুষ পালাতে সক্ষম হলেও কাছের তাওইলা শহর অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা এবং কলেরা প্রাদুর্ভাবে ভুগছে।

২০২৪ সালের মার্চে খার্তুম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আরএসএফ এল-ফাশেরের চারপাশে অবরোধ আরও কঠোর করে। এর ফলে খাদ্য শহরে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং মানুষের বের হওয়াও কঠিন হয়েছে।

খাদ্য সংকট ও বেঁচে থাকার লড়াই

সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল-ফাশেরের খাদ্যের দাম দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। অনেক সময় খাবারই পাওয়া যায় না, ফলে মোবাইল মানি পেমেন্ট বা কমিউনিটি কিচেন কোনো কাজেই আসে না। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শহরে অবশিষ্ট প্রায় তিন লাখ বাসিন্দার অনেকেই প্রাণীর খাদ্য খেয়ে বেঁচে আছেন। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তারা এল-ফাশেরে খাদ্যবাহী ট্রাক পাঠানোর জন্য প্রস্তুত, কিন্তু আরএসএফ প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।

সামরিক অগ্রগতির ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক বিভাজন

এসএএফ ও তাদের মিত্ররা শহর মুক্ত করার জন্য কার্যকর কোনো অভিযান চালাতে পারছে না কিংবা চাইছে না। সেনাবাহিনীর মনোযোগ বর্তমানে প্রতিবেশী কর্দোফান অঞ্চলে, যেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরএসএফ হামলা বাড়িয়েছে। যদি আরএসএফ কর্দোফানের কিছু অংশ দখল করতে সক্ষম হয়, তবে সুদান কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়বে—পশ্চিমে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল, পূর্বে এসএএফের নিয়ন্ত্রিত এলাকা, আর অন্যান্য ছোট মিলিশিয়া গোষ্ঠীর দখলে আলাদা অঞ্চল গড়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ব্যর্থ প্রচেষ্টা

যুদ্ধ ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যুদ্ধ থামানোর দাবি করলেও বাস্তবে অগ্রগতি নেই। গত মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র একটি চতুর্দেশীয় বৈঠক বাতিল করে, যেখানে মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বৈঠক বাতিলের কারণ ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী সুদানে আরএসএফ (যাকে ইউএই সমর্থন দিচ্ছে) ও এসএএফের (যাদের ঐতিহাসিকভাবে মিশর ও সৌদি আরব সমর্থন করেছে) ভূমিকা নিয়ে বিবৃতির ভাষা নিয়ে মতবিরোধ। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তাই এখনো অনেক দূরে বলে মনে হচ্ছে।