০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • 187

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

রাত্তির পর্যন্ত জঙ্গলে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ালুম আমি। জঙ্গলটা একেবারে বিজন ছিল না। কেননা, সারা জঙ্গলে এখানে-ওখানে গাছের কাটা গড়ি ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।

জঙ্গলের যতই গভীরে যাবার চেষ্টা করলুম ততই দেখলুম গাছের সংখ্যা কমে আসছে আর ফাঁকা জায়গার সংখ্যা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ওই ফাঁকা জায়গাগুলোয় ঘোড়ার খুরের দাগ আর ঘোডার নাদ পড়ে থাকতে দেখলাম। রাত নেমে এল। আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, ক্ষতবিক্ষত। একটা ঝোপের মধ্যে শুকনোমতন লুকনো একটা জায়গা খাঁজে নিয়ে একখানা কাঠ মাথার নিচে বালিশের মতো রেখে শুয়ে পড়লুম। শোয়ার পর ক্লান্তি যেন আরও চেপে ধরল। গাল দুটো গরম ঠেকতে লাগল আর যে-পায়ে কুকুরে কামড়েছিল সেই পা-টা উঠল টন্টনিয়ে।

ঠিক করলুম, ‘আমায় ঘুমোতেই হবে। এখন রাত্তির, কেউ আমায় খুঁজে পাবে না এখানে। আমি ক্লান্ত। আমায় ঘুমোতেই হবে। কাল সকালে উঠে যা-হোক কিছু ঠিক করা যাবে।’

ঝিমুনি আসতেই মনে পড়ে গেল আমাদের আজামাসের কথা। সেই পুকুর, ভেলায় চড়ে আমাদের সেই যুদ্ধ, গরম পুরনো কম্বলের নিচে আমার সেই নরম বিছানা। মনে পড়ল, ফেদুকা আর আমি সেই-যে একবার পায়রা ধরে ফেকাদের রান্নার কড়াইতে ভেজেছিলুম সেই কথা। তারপর লুকিয়ে পায়রাগুলো খেয়েছিলুম দু-জনে। পায়রার মাংস খেতে এমন সুস্বাদু ছিল যে কী বলি..

গাছের পাতার মধ্যে দিয়ে শনশন্ বাতাস বইতে শুরু করল। জঙ্গলটাকে কেমন খালি-খালি আর ভয়ঙ্কর বোধ হতে লাগল। আর আমার মনে ভেসে উঠল আমাদের পুরনো শহর আজামাস, পরবের সুস্বাদু পিঠের মতো উষ্ণ আর সুগন্ধি। কোটের কলারটা উচু করে তুলে নিলুম। আর বুঝতে পারলুম এক ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে গাল বেয়ে নামছে। কিন্তু তবু, তবু আমি কাঁদি নি। কিছুতেই কাঁদি নি।

ওই দিন আরও গভীর রাত্রে ঠান্ডায় শরীর অসাড় হয়ে যাওয়ার যোগাড় হলে অনবরত লাফালাফি করতে আর ফাঁকা জায়গাটায় দৌড়োদৌড়ি করতে বাধ্য হলুম।

একবার একটা বার্চ-গাছে ওঠারও চেষ্টা করলুম। এমন কি শরীর গরম করার জন্যে নাচতেও লাগলুম। তারপর আবার কিছুক্ষণ শুয়ে রইলুম চুপচাপ। তারপর বন-থেকে-ওঠা কুয়াশায় শরীর আবার ঠান্ডা হয়ে যেতে ফের লাফিয়ে উঠলুম।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০৭)

০৮:০০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

রাত্তির পর্যন্ত জঙ্গলে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ালুম আমি। জঙ্গলটা একেবারে বিজন ছিল না। কেননা, সারা জঙ্গলে এখানে-ওখানে গাছের কাটা গড়ি ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।

জঙ্গলের যতই গভীরে যাবার চেষ্টা করলুম ততই দেখলুম গাছের সংখ্যা কমে আসছে আর ফাঁকা জায়গার সংখ্যা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ওই ফাঁকা জায়গাগুলোয় ঘোড়ার খুরের দাগ আর ঘোডার নাদ পড়ে থাকতে দেখলাম। রাত নেমে এল। আমি তখন ভীষণ ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, ক্ষতবিক্ষত। একটা ঝোপের মধ্যে শুকনোমতন লুকনো একটা জায়গা খাঁজে নিয়ে একখানা কাঠ মাথার নিচে বালিশের মতো রেখে শুয়ে পড়লুম। শোয়ার পর ক্লান্তি যেন আরও চেপে ধরল। গাল দুটো গরম ঠেকতে লাগল আর যে-পায়ে কুকুরে কামড়েছিল সেই পা-টা উঠল টন্টনিয়ে।

ঠিক করলুম, ‘আমায় ঘুমোতেই হবে। এখন রাত্তির, কেউ আমায় খুঁজে পাবে না এখানে। আমি ক্লান্ত। আমায় ঘুমোতেই হবে। কাল সকালে উঠে যা-হোক কিছু ঠিক করা যাবে।’

ঝিমুনি আসতেই মনে পড়ে গেল আমাদের আজামাসের কথা। সেই পুকুর, ভেলায় চড়ে আমাদের সেই যুদ্ধ, গরম পুরনো কম্বলের নিচে আমার সেই নরম বিছানা। মনে পড়ল, ফেদুকা আর আমি সেই-যে একবার পায়রা ধরে ফেকাদের রান্নার কড়াইতে ভেজেছিলুম সেই কথা। তারপর লুকিয়ে পায়রাগুলো খেয়েছিলুম দু-জনে। পায়রার মাংস খেতে এমন সুস্বাদু ছিল যে কী বলি..

গাছের পাতার মধ্যে দিয়ে শনশন্ বাতাস বইতে শুরু করল। জঙ্গলটাকে কেমন খালি-খালি আর ভয়ঙ্কর বোধ হতে লাগল। আর আমার মনে ভেসে উঠল আমাদের পুরনো শহর আজামাস, পরবের সুস্বাদু পিঠের মতো উষ্ণ আর সুগন্ধি। কোটের কলারটা উচু করে তুলে নিলুম। আর বুঝতে পারলুম এক ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে গাল বেয়ে নামছে। কিন্তু তবু, তবু আমি কাঁদি নি। কিছুতেই কাঁদি নি।

ওই দিন আরও গভীর রাত্রে ঠান্ডায় শরীর অসাড় হয়ে যাওয়ার যোগাড় হলে অনবরত লাফালাফি করতে আর ফাঁকা জায়গাটায় দৌড়োদৌড়ি করতে বাধ্য হলুম।

একবার একটা বার্চ-গাছে ওঠারও চেষ্টা করলুম। এমন কি শরীর গরম করার জন্যে নাচতেও লাগলুম। তারপর আবার কিছুক্ষণ শুয়ে রইলুম চুপচাপ। তারপর বন-থেকে-ওঠা কুয়াশায় শরীর আবার ঠান্ডা হয়ে যেতে ফের লাফিয়ে উঠলুম।