০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • 163

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ছেলেটার মুখটা দেখতে লাগছিল ফ্যাকাশে, চোখের নিচে গোল হয়ে কালিপড়া। দেখে মনে হচ্ছিল, আমার মতো ও-ও খুব সম্ভব রাত্তিরটা জঙ্গলে কাটিয়েছে।

‘ওখানে যাবার কথা ভাবছিলে বুঝি?’ খামারবাড়িটার দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে আস্তে-আস্তে ছেলেটা বলল।

বললুম, ‘হ্যাঁ। আর তুমি?’

‘ওরা দেবে লবডঙ্কা, বুঝলে? তিন-তিনটে হোঁতকা চাষী থাকে ওখানে। আমি দেখে নিয়েছি ওদের। শেষকালে কার পাল্লায় পড়তে হবে, তা কি বলা যায়?’

‘তা হলে? কী করা? কিছু খেতে হবে তো!’

‘সে তো বটেই,’ ও সায় দিল। ‘তবে ভিক্ষে করে নয়। তাছাড়া, আজকাল ভিক্ষে দেয়ও না কেউ। কিন্তু তুমি কে?’ প্রশ্নটা করেই কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা না করে বলে উঠল: ‘আচ্ছা, ওকথা থাক। খাবার আমাদেরই যোগাড় করতে হবে। তবে একার পক্ষে পাওয়া ভারি শক্ত। আমি চেষ্টার কসুর করি নি তো। তা, আমরা দু-জন যখন আছি তখন ঠিক যোগাড় হয়ে যাবে। হাঁসগুলো সব ঝোপেঝাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে- ইয়া বড়-বড় পুরুষ্টু হাঁস।’

‘কিন্তু ও তো আমাদের নয়।’

ছেলেটা আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যেন ও আমার বোকার মতো কথা শুনে অবাক হয়েছে।

তারপর সহজভাবে বললে, ‘আজকালকার দিনে সবকিছুই সকলের। আচ্ছা ওই খোলা জায়গাটার পেছনে গিয়ে একটা হাঁসকে আস্তে-আস্তে আমার দিকে তাড়িয়ে আনো দেখি। আমি ঝোপের আড়ালে থাকব’খন।’

একটা মোটাসোটা ছাইরঙের হাঁস দলছাড়া হয়ে পড়েছিল। দেখে পছন্দ হওয়ায় ওটার পথ আগলে দাঁড়ালাম। হাঁসটা উলটো মুখে ফিরে আস্তে-আন্তে হাঁটতে লাগল আর মাঝে মাঝে থেমে মাটি থেকে কী সব খেতে লাগল ঘাটে-ঘাটে। এক-পা এক-পা করে আমি ওটাকে ছেলেটার ঝোপের দিকে নিয়ে যেতে লাগলাম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-০৯)

০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ছেলেটার মুখটা দেখতে লাগছিল ফ্যাকাশে, চোখের নিচে গোল হয়ে কালিপড়া। দেখে মনে হচ্ছিল, আমার মতো ও-ও খুব সম্ভব রাত্তিরটা জঙ্গলে কাটিয়েছে।

‘ওখানে যাবার কথা ভাবছিলে বুঝি?’ খামারবাড়িটার দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে আস্তে-আস্তে ছেলেটা বলল।

বললুম, ‘হ্যাঁ। আর তুমি?’

‘ওরা দেবে লবডঙ্কা, বুঝলে? তিন-তিনটে হোঁতকা চাষী থাকে ওখানে। আমি দেখে নিয়েছি ওদের। শেষকালে কার পাল্লায় পড়তে হবে, তা কি বলা যায়?’

‘তা হলে? কী করা? কিছু খেতে হবে তো!’

‘সে তো বটেই,’ ও সায় দিল। ‘তবে ভিক্ষে করে নয়। তাছাড়া, আজকাল ভিক্ষে দেয়ও না কেউ। কিন্তু তুমি কে?’ প্রশ্নটা করেই কিন্তু উত্তরের অপেক্ষা না করে বলে উঠল: ‘আচ্ছা, ওকথা থাক। খাবার আমাদেরই যোগাড় করতে হবে। তবে একার পক্ষে পাওয়া ভারি শক্ত। আমি চেষ্টার কসুর করি নি তো। তা, আমরা দু-জন যখন আছি তখন ঠিক যোগাড় হয়ে যাবে। হাঁসগুলো সব ঝোপেঝাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে- ইয়া বড়-বড় পুরুষ্টু হাঁস।’

‘কিন্তু ও তো আমাদের নয়।’

ছেলেটা আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যেন ও আমার বোকার মতো কথা শুনে অবাক হয়েছে।

তারপর সহজভাবে বললে, ‘আজকালকার দিনে সবকিছুই সকলের। আচ্ছা ওই খোলা জায়গাটার পেছনে গিয়ে একটা হাঁসকে আস্তে-আস্তে আমার দিকে তাড়িয়ে আনো দেখি। আমি ঝোপের আড়ালে থাকব’খন।’

একটা মোটাসোটা ছাইরঙের হাঁস দলছাড়া হয়ে পড়েছিল। দেখে পছন্দ হওয়ায় ওটার পথ আগলে দাঁড়ালাম। হাঁসটা উলটো মুখে ফিরে আস্তে-আন্তে হাঁটতে লাগল আর মাঝে মাঝে থেমে মাটি থেকে কী সব খেতে লাগল ঘাটে-ঘাটে। এক-পা এক-পা করে আমি ওটাকে ছেলেটার ঝোপের দিকে নিয়ে যেতে লাগলাম।