০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
  • 216

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ফেদিয়ার দিকে মাথাটা ঘুরিয়ে ওকে হাতের ঘুসি দেখিয়ে শেবালভ বললেন, ‘কেমন করি আবার? না-ছাঁয়ে। তোমারে চিনি না? তুমি বড় শয়তান। এ্যাই, দাঁড়া দেখাচ্ছি! খবরদার, বাঁদরামি রাখ! আচ্ছা, তাইলে আজ রাতেই আমরা রওনা দিচ্ছি, কেমন?’ শেবালভ বলে চললেন, ‘গাড়ি লিয়ে যাওয়া চলবে না। মেশিনগান আর গুলিবারুদ ঘোড়াগুলোর উপর বস্তাবোঝাই করে লিতে হবে কোনো চ্যাঁচামেচি কি ঘড়ঘড় আওয়াজ হলি চলবে না। পথে যদি কোনো গাঁ পড়ে তো চুপচুপ করে পাশ কাটিয়ে চলি যাব, মড়ার খোঁজে ভুখা কুত্তার মতো গাঁয়ে ঢোকা চলবে না।

এটা বিশেষ করে তোমারে কচ্চি, ফেদিয়া। তোমার ওই-যে সব পিপুফিশুর দল, খামার দেখলি হল, ওদের আর কথা নেই, জায়গাটা ওদের পথে পড়ে কী না সে বাছবিচারের বালাই নেই ওদের, অমনি সোজা ননীছানার খোঁজে খামারে ঢুকি পড়বে।’

‘হামার লোগজন ভি ওই কিসিমের আছে,’ চেক গাল্দাও ত্রুটিস্বীকার করলেন। ‘দোসরা বার স্কাউট লোগ তো এক বারকোশ মাখা-ময়দা এনে হাজির করে দিলে। ব্যস রে, ব্যস! তো হামি বললম কি: ‘আরে রসুই না-করা ময়দা আনলি কেন?’

তো ও-লোগ হামায় বলল: ‘হামরা আগুনমে সে’কে লিব’।’

ওঁর কথা শুনে সকলেই হাসল। এমন কি শেবালভও মুখ টিপে না হেসে দেবাল্ সেভোয় কান্ডটা ঘটেছিল,’ ভাস্কা শর্মাকভ হাসতে-হাসতে বলল।

‘আমাদের নামে নালিশ করচেন কত্তা। বাহিনীর আগে-আগে আমরা ঢাঁড়ে দেখছিলাম, ঢাড়তি চূড়তি এক কসাকের খামারবাড়িতে গিয়ে হাজির। ধনী কসাক-চাষী। বাড়ির মধ্যি থেকে কে একজন গুলি চালাতে নাগল আমাদের তাক করি, তা সত্ত্বেও বাড়িতে সোধিয়ে পড়লাম আমরা। ঢুকে দেখি, ভোঁ-ভাঁ। কেউ কোথাও নেই। উনোনটা সাঁ সাঁ করে জ্বলচে আর টেবিলের ওপর ময়দার বারকোশটা বসানো। তা, বাড়িটায় আগুন লাগিয়ে দে’ ময়দার বারকোশ লিয়ে কেটে পড়লাম। তারপর সন্ধেবেলা আগুন জেলে সে’কে লিলাম মুয়দার তালটা। আহ, যা হয়েছিল খেতে না, একদম ফাটো কেলাস, কেকের মতো।’

‘খামারবাড়িটায় আগুন লাগিয়ে দিলে?’ আমি জিজ্ঞেস করলুম। ‘খামারবাড়ি পুড়িয়ে দিলে এ কেমনধারা কথা?’

‘একদম ভস্ম করে দিলাম গো,’ নির্বিকারভাবে বলল ভাস্কা। ‘তা পারব না কেন শুনি? মালিক যদি তোমারে তাক করে গুলি ছোড়ে তাইলে তোমায় পারতেই হয়। ভারি বজ্জাত ওরা, ওই কসাকগুলা। খামারের মালিক নোকটা জব্বর ধনী, ও ফের একটা লতুন বাড়ি বানিয়ে লেবে’খন। গাইদামাক ডাকাতদের দলেও ভিড়বে না তাইলে।’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৮)

০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ফেদিয়ার দিকে মাথাটা ঘুরিয়ে ওকে হাতের ঘুসি দেখিয়ে শেবালভ বললেন, ‘কেমন করি আবার? না-ছাঁয়ে। তোমারে চিনি না? তুমি বড় শয়তান। এ্যাই, দাঁড়া দেখাচ্ছি! খবরদার, বাঁদরামি রাখ! আচ্ছা, তাইলে আজ রাতেই আমরা রওনা দিচ্ছি, কেমন?’ শেবালভ বলে চললেন, ‘গাড়ি লিয়ে যাওয়া চলবে না। মেশিনগান আর গুলিবারুদ ঘোড়াগুলোর উপর বস্তাবোঝাই করে লিতে হবে কোনো চ্যাঁচামেচি কি ঘড়ঘড় আওয়াজ হলি চলবে না। পথে যদি কোনো গাঁ পড়ে তো চুপচুপ করে পাশ কাটিয়ে চলি যাব, মড়ার খোঁজে ভুখা কুত্তার মতো গাঁয়ে ঢোকা চলবে না।

এটা বিশেষ করে তোমারে কচ্চি, ফেদিয়া। তোমার ওই-যে সব পিপুফিশুর দল, খামার দেখলি হল, ওদের আর কথা নেই, জায়গাটা ওদের পথে পড়ে কী না সে বাছবিচারের বালাই নেই ওদের, অমনি সোজা ননীছানার খোঁজে খামারে ঢুকি পড়বে।’

‘হামার লোগজন ভি ওই কিসিমের আছে,’ চেক গাল্দাও ত্রুটিস্বীকার করলেন। ‘দোসরা বার স্কাউট লোগ তো এক বারকোশ মাখা-ময়দা এনে হাজির করে দিলে। ব্যস রে, ব্যস! তো হামি বললম কি: ‘আরে রসুই না-করা ময়দা আনলি কেন?’

তো ও-লোগ হামায় বলল: ‘হামরা আগুনমে সে’কে লিব’।’

ওঁর কথা শুনে সকলেই হাসল। এমন কি শেবালভও মুখ টিপে না হেসে দেবাল্ সেভোয় কান্ডটা ঘটেছিল,’ ভাস্কা শর্মাকভ হাসতে-হাসতে বলল।

‘আমাদের নামে নালিশ করচেন কত্তা। বাহিনীর আগে-আগে আমরা ঢাঁড়ে দেখছিলাম, ঢাড়তি চূড়তি এক কসাকের খামারবাড়িতে গিয়ে হাজির। ধনী কসাক-চাষী। বাড়ির মধ্যি থেকে কে একজন গুলি চালাতে নাগল আমাদের তাক করি, তা সত্ত্বেও বাড়িতে সোধিয়ে পড়লাম আমরা। ঢুকে দেখি, ভোঁ-ভাঁ। কেউ কোথাও নেই। উনোনটা সাঁ সাঁ করে জ্বলচে আর টেবিলের ওপর ময়দার বারকোশটা বসানো। তা, বাড়িটায় আগুন লাগিয়ে দে’ ময়দার বারকোশ লিয়ে কেটে পড়লাম। তারপর সন্ধেবেলা আগুন জেলে সে’কে লিলাম মুয়দার তালটা। আহ, যা হয়েছিল খেতে না, একদম ফাটো কেলাস, কেকের মতো।’

‘খামারবাড়িটায় আগুন লাগিয়ে দিলে?’ আমি জিজ্ঞেস করলুম। ‘খামারবাড়ি পুড়িয়ে দিলে এ কেমনধারা কথা?’

‘একদম ভস্ম করে দিলাম গো,’ নির্বিকারভাবে বলল ভাস্কা। ‘তা পারব না কেন শুনি? মালিক যদি তোমারে তাক করে গুলি ছোড়ে তাইলে তোমায় পারতেই হয়। ভারি বজ্জাত ওরা, ওই কসাকগুলা। খামারের মালিক নোকটা জব্বর ধনী, ও ফের একটা লতুন বাড়ি বানিয়ে লেবে’খন। গাইদামাক ডাকাতদের দলেও ভিড়বে না তাইলে।’