০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • 226

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

এই পর্যন্ত বলে ফেদিয়া ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগল যেন সেইমাত্র ও ষাঁড়টার হাত থেকে উদ্ধার পেয়ে এসেছে। আবার জিভের সেই আওয়াজটা করল ও, তার মানে গল্পটা আবার শুরু করতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে কে যেন খামারবাড়ির বারান্দা থেকে হাঁক দিয়ে বললে:

‘ফিয়োদর… সির্ত্সভ! কম্যান্ডার তোমারে দেখা করতি বলচে।’

‘এই-যে, মিনিটখানেকের মধ্যি যাচ্ছি,’ বলে ফেদিয়া বিরক্তিভরে হাত নাড়ল। তারপর হেসে ফের শুরু করল: ‘অন্য সবাই যখন জানেতের জ্ঞান ফেরাতি ব্যস্ত, এদিকে কাউন্টেস এমিলিয়া তখন আমার কাছে এগিয়ে আলেন। দেখি, ওঁর মুখখান কাগজের মতো শাদা, দু-চোখে জল, বুকটা তোলাপাড়া করতে নেগেছে। কাউন্টেস আমারে কইলেন, ‘ছোকরা, তুমি কে কও তো?’ তা আমি কলাম, ‘মাননীয়া, আমি একজন রাখাল। আমার নাম সিভ, ফিয়োদর সিভ।’ শুনে কাউন্টেস ফোঁস করে এক লিশ্বাস ছেড়ে আমারে কলেন: ‘থিয়োদোর,’ সত্যি কলেন, ওরা নাকি ফিয়োদররে থিয়োদোর কয় কলেন, ‘থিয়োদোর, আমার আরও কাচে এস’।’

কাউন্টেস ফেদিয়াকে কী বলেছিল, আর তার সঙ্গে পরে ফেদিয়ার লাল ফৌজের দলে যোগ দেয়ার সম্পর্ক’ই বা কী ছিল তা তখন জানতে পারি নি, কারণ ঠিক সেই সময়েই ঘোড়সওয়ারের নালের ক্লিঙ্ক-ক্লিঙ্ক আওয়াজ কানে এল, আর সাংঘাতিক চটে-মটে ঠিক আমার পেছনেই শেবালেভ এসে হাজির হলেন।

নিজের তরোয়ালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কঠিন সূরে তিনি বললেন, ‘ফিয়োদর, তোমারে-যে ডেকে পাঠিয়েচি শোন নি?’

দাঁড়িয়ে উঠে ফিয়োদর ঘোঁত-ঘোঁত করে বললে, ‘শুনেচি। তা, ডেকেছিলেন কেন?’

‘কী কইতে চাও তুমি, ‘ডেকেছিলেন কেন’ মানে? কম্যান্ডার ডেকে পাঠালি যে যেতি হয়, জান না?’

ফেদিয়া আবার স্বমূর্তি ধারণ করল। ঠাট্টার সুরে বলল, ‘হ্যাঁ, হুজুর। তা, মহামহিম হুজুর কেন তলব করেছিলেন হুকুম করুন?’

শেবালভ ছিলেন সাধারণভাবে নির্ঝঞ্ঝাট আর নরম স্বভাবের মানুষ। কিন্তু এই ঠাট্টায় সাংঘাতিক খেপে গেলেন।

ওঁর গলার স্বরে বেদনার আভাস ফুটে উঠল। গম্ভীরভাবে বললেন, ‘আমি তোমার মহামহিম হুজুর নই, বুইলে? আমারে ‘হুজুর, হুজুর’ করতে হবে না তোমারে। কিন্তু, মনে রেখো, আমি এই বাহিনীর কম্যান্ডার, আর আমি চাইতে পারি তুমি আমার হুকুম মেনে চলবে। শোন, তেমুল্লুকভ গাঁয়ের চাষীরা এইমাত্তর এসেছিল এখেনে।’

ফেদিয়ার কালো চোখ দুটো বোঁ-করে একবার চারদিক ঘুরে এল। ও বলল, ‘তাতে কী হল?’

‘ওরা নালিশ জানাল, আবার কী। কইল: ‘আপনেদের স্কাউটরা এসেছিল। তা আমরা ওদের পেয়ে খুশিই হলাম ওরা তো আমাদের আপনজন, কমরেড সব। ওদের দলপতি, কালোমতো নোকটি, গাঁয়ে একটা সভা ডাকল। ডেকে সোভিয়েত রাষ্ট্রশক্তির পক্ষে বক্তিতা দিলে, জমি আর জমিদারদের কথাও বললে। কিন্তু আমরা গাঁয়ের সবাই যখন বক্তিতা শুনচি আর পরস্তাব পাশ করচি তখন ওর দলের ছেলেপিলেরা আমাদের ঘরে-ঘরে ঢুকে ভাঁড়ার হাঁটকে ননীর খোঁজ করতি নাগল আর মুরগি ধরতে ছুটোছুটি নাগাল।’ এসব কী, ফিয়োদর? তবে কি তুমি ভুল করি আমাদের দলে এসেচ, গাইদামাকদের দলে না-গিয়ে? এ সব কাজ তো ওরাই করে বলে জানি। আমাদের বাহিনীতে এ কাজ চলতি পারে না, কখনও না- এ নজ্জার কথা!’

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৫)

০৮:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

এই পর্যন্ত বলে ফেদিয়া ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগল যেন সেইমাত্র ও ষাঁড়টার হাত থেকে উদ্ধার পেয়ে এসেছে। আবার জিভের সেই আওয়াজটা করল ও, তার মানে গল্পটা আবার শুরু করতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে কে যেন খামারবাড়ির বারান্দা থেকে হাঁক দিয়ে বললে:

‘ফিয়োদর… সির্ত্সভ! কম্যান্ডার তোমারে দেখা করতি বলচে।’

‘এই-যে, মিনিটখানেকের মধ্যি যাচ্ছি,’ বলে ফেদিয়া বিরক্তিভরে হাত নাড়ল। তারপর হেসে ফের শুরু করল: ‘অন্য সবাই যখন জানেতের জ্ঞান ফেরাতি ব্যস্ত, এদিকে কাউন্টেস এমিলিয়া তখন আমার কাছে এগিয়ে আলেন। দেখি, ওঁর মুখখান কাগজের মতো শাদা, দু-চোখে জল, বুকটা তোলাপাড়া করতে নেগেছে। কাউন্টেস আমারে কইলেন, ‘ছোকরা, তুমি কে কও তো?’ তা আমি কলাম, ‘মাননীয়া, আমি একজন রাখাল। আমার নাম সিভ, ফিয়োদর সিভ।’ শুনে কাউন্টেস ফোঁস করে এক লিশ্বাস ছেড়ে আমারে কলেন: ‘থিয়োদোর,’ সত্যি কলেন, ওরা নাকি ফিয়োদররে থিয়োদোর কয় কলেন, ‘থিয়োদোর, আমার আরও কাচে এস’।’

কাউন্টেস ফেদিয়াকে কী বলেছিল, আর তার সঙ্গে পরে ফেদিয়ার লাল ফৌজের দলে যোগ দেয়ার সম্পর্ক’ই বা কী ছিল তা তখন জানতে পারি নি, কারণ ঠিক সেই সময়েই ঘোড়সওয়ারের নালের ক্লিঙ্ক-ক্লিঙ্ক আওয়াজ কানে এল, আর সাংঘাতিক চটে-মটে ঠিক আমার পেছনেই শেবালেভ এসে হাজির হলেন।

নিজের তরোয়ালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কঠিন সূরে তিনি বললেন, ‘ফিয়োদর, তোমারে-যে ডেকে পাঠিয়েচি শোন নি?’

দাঁড়িয়ে উঠে ফিয়োদর ঘোঁত-ঘোঁত করে বললে, ‘শুনেচি। তা, ডেকেছিলেন কেন?’

‘কী কইতে চাও তুমি, ‘ডেকেছিলেন কেন’ মানে? কম্যান্ডার ডেকে পাঠালি যে যেতি হয়, জান না?’

ফেদিয়া আবার স্বমূর্তি ধারণ করল। ঠাট্টার সুরে বলল, ‘হ্যাঁ, হুজুর। তা, মহামহিম হুজুর কেন তলব করেছিলেন হুকুম করুন?’

শেবালভ ছিলেন সাধারণভাবে নির্ঝঞ্ঝাট আর নরম স্বভাবের মানুষ। কিন্তু এই ঠাট্টায় সাংঘাতিক খেপে গেলেন।

ওঁর গলার স্বরে বেদনার আভাস ফুটে উঠল। গম্ভীরভাবে বললেন, ‘আমি তোমার মহামহিম হুজুর নই, বুইলে? আমারে ‘হুজুর, হুজুর’ করতে হবে না তোমারে। কিন্তু, মনে রেখো, আমি এই বাহিনীর কম্যান্ডার, আর আমি চাইতে পারি তুমি আমার হুকুম মেনে চলবে। শোন, তেমুল্লুকভ গাঁয়ের চাষীরা এইমাত্তর এসেছিল এখেনে।’

ফেদিয়ার কালো চোখ দুটো বোঁ-করে একবার চারদিক ঘুরে এল। ও বলল, ‘তাতে কী হল?’

‘ওরা নালিশ জানাল, আবার কী। কইল: ‘আপনেদের স্কাউটরা এসেছিল। তা আমরা ওদের পেয়ে খুশিই হলাম ওরা তো আমাদের আপনজন, কমরেড সব। ওদের দলপতি, কালোমতো নোকটি, গাঁয়ে একটা সভা ডাকল। ডেকে সোভিয়েত রাষ্ট্রশক্তির পক্ষে বক্তিতা দিলে, জমি আর জমিদারদের কথাও বললে। কিন্তু আমরা গাঁয়ের সবাই যখন বক্তিতা শুনচি আর পরস্তাব পাশ করচি তখন ওর দলের ছেলেপিলেরা আমাদের ঘরে-ঘরে ঢুকে ভাঁড়ার হাঁটকে ননীর খোঁজ করতি নাগল আর মুরগি ধরতে ছুটোছুটি নাগাল।’ এসব কী, ফিয়োদর? তবে কি তুমি ভুল করি আমাদের দলে এসেচ, গাইদামাকদের দলে না-গিয়ে? এ সব কাজ তো ওরাই করে বলে জানি। আমাদের বাহিনীতে এ কাজ চলতি পারে না, কখনও না- এ নজ্জার কথা!’