০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • 333

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ঘোড়ার খুরের শব্দ, ঘোড়সওয়ারের নালের টুংটাং কিংবা ঘোড়ার চিহিডাক একদম না-করতে দিয়ে চুপিচুপি এগোনোর পক্ষপাতী ছিল ফেদিয়া। ঘোড়ার ডাক বন্ধ করতে তার মুখে একটা থাবড়া কষিয়ে দিতে কিংবা ঘোড়সওয়ারদ্রের ফিসফিসানি বন্ধ করতে তাদের পিঠে চাবুক চালাতে একটুও ইতস্তত করত না ও। এইভাবে ফেদিয়ার দলের ঘোড়ারা হঠাৎ-হঠাৎ না-ডেকে উঠতে শিক্ষা পেয়েছিল, আর ওর ঘোড়সওয়াররা শিখেছিল একটু টু’শব্দ না করে জিনে চেপে বসে থাকতে। ওর স্কাউট-দলের সামনে-সামনে দুকি-চালে-চলা ঘোড়ার ঘন ঝাঁপালো কেশরের ওপর অল্প-একটু কু’জো-হয়ে-বসে-থাকা ফেদিয়াকে দেখলে মনে হত যেন একটা শিকারী পি’পড়েভুক ঘাসে আটকে-পড়া নধর মাছির দিকে তাক করে হিলবিল করে এগিয়ে চলেছে।

কিন্তু যদি কখনও শত্রুর পাহারাদাররা ওদের আঁচ পেয়ে যেত আর ভয় পেয়ে হাঁকডাক শুরু করত, তাহলে ফেদিয়ার আঁটোসাঁটো ছোট্ট বাহিনীটি হপহপ আওয়াজ আর বিকট চিৎকার করতে-করতে রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি আর এদিক-ওদিক বোমা ছুড়তে-ছুড়তে হঠাৎ আক্রমণ করে বসত শ্বেতরক্ষীদের।

ওদিকে তখনও হয়তো শ্বেতরক্ষীরা ভ্যাবাচাকা-খাওয়া অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারে নি, অনেকেই তখনও টানাটানি করে ট্রাউজার্স’ পরতে ব্যস্ত, কিংবা ওদের মেশিনগান-চালিয়ে ঘুমচোখে উঠে তখনও হয়তো গুলির ফিতে লাগিয়ে উঠতে পারে নি। একমাত্র ওই সময়ই ফেদিয়া প্রচণ্ড হৈ-হল্লা করতে ভালোবাসত। প্রচন্ড বেগে ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে ছোড়া-বুলেট যদি লক্ষ্যবস্তুতে না লাগত, কিংবা ঘাসের ওপর এলোপাতাড়ি ছোড়া বোমার আওয়াজে ভয় পেয়ে যদি মুরগি আর পুরুষ্টু হাঁসগুলো প্রাণের দায়ে উড়ে বাড়ির চিমনির ওপর গিয়ে পড়ত, তাতে ফেদিয়ার কিছু আসত-যেত না, যথেষ্ট হট্টগোল তুলে সবাইকে ভয় পাওয়াতে পারলেই ও ছিল খুশি।

এ-সব ক্ষেত্রে ওর উদ্দেশ্য ছিল হতভম্ব শত্রুর মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া যে লাল ফৌজের অসংখ্য সেপাই গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ওর মতলব ছিল, রাইফেলের বলটুতে কার্তুজ পুরতে গিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাবড়ে-যাওয়া সেপাইদের আঙুলগুলো কেমন এদিক-ওদিক হাতড়ে বেড়াবে আর কাঁপতে থাকবে, তাড়াহুড়ো করে গুছিয়ে-নেয়া মেশিনগানটা গুলির ফিতে কুচকে থাকার জন্যে চলতে-চলতে কেমন বন্ধ হয়ে যাবে, আধঘুমন্ত-অবস্থায় হতবুদ্ধি সৈন্যরা ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাইফেল ফেলে, ভয়ে বেড়ার দিকে ছুটতে ছুটতে কেমন পাগলের মতো চে’চাবে: ‘লালজুজু এসে গ্যাচে! ঘিরে ফেলেচে আমাদের!’ তা-ই দেখে দারুণ মজা পাওয়া যাবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৭)

০৮:০০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ঘোড়ার খুরের শব্দ, ঘোড়সওয়ারের নালের টুংটাং কিংবা ঘোড়ার চিহিডাক একদম না-করতে দিয়ে চুপিচুপি এগোনোর পক্ষপাতী ছিল ফেদিয়া। ঘোড়ার ডাক বন্ধ করতে তার মুখে একটা থাবড়া কষিয়ে দিতে কিংবা ঘোড়সওয়ারদ্রের ফিসফিসানি বন্ধ করতে তাদের পিঠে চাবুক চালাতে একটুও ইতস্তত করত না ও। এইভাবে ফেদিয়ার দলের ঘোড়ারা হঠাৎ-হঠাৎ না-ডেকে উঠতে শিক্ষা পেয়েছিল, আর ওর ঘোড়সওয়াররা শিখেছিল একটু টু’শব্দ না করে জিনে চেপে বসে থাকতে। ওর স্কাউট-দলের সামনে-সামনে দুকি-চালে-চলা ঘোড়ার ঘন ঝাঁপালো কেশরের ওপর অল্প-একটু কু’জো-হয়ে-বসে-থাকা ফেদিয়াকে দেখলে মনে হত যেন একটা শিকারী পি’পড়েভুক ঘাসে আটকে-পড়া নধর মাছির দিকে তাক করে হিলবিল করে এগিয়ে চলেছে।

কিন্তু যদি কখনও শত্রুর পাহারাদাররা ওদের আঁচ পেয়ে যেত আর ভয় পেয়ে হাঁকডাক শুরু করত, তাহলে ফেদিয়ার আঁটোসাঁটো ছোট্ট বাহিনীটি হপহপ আওয়াজ আর বিকট চিৎকার করতে-করতে রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি আর এদিক-ওদিক বোমা ছুড়তে-ছুড়তে হঠাৎ আক্রমণ করে বসত শ্বেতরক্ষীদের।

ওদিকে তখনও হয়তো শ্বেতরক্ষীরা ভ্যাবাচাকা-খাওয়া অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারে নি, অনেকেই তখনও টানাটানি করে ট্রাউজার্স’ পরতে ব্যস্ত, কিংবা ওদের মেশিনগান-চালিয়ে ঘুমচোখে উঠে তখনও হয়তো গুলির ফিতে লাগিয়ে উঠতে পারে নি। একমাত্র ওই সময়ই ফেদিয়া প্রচণ্ড হৈ-হল্লা করতে ভালোবাসত। প্রচন্ড বেগে ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে ছোড়া-বুলেট যদি লক্ষ্যবস্তুতে না লাগত, কিংবা ঘাসের ওপর এলোপাতাড়ি ছোড়া বোমার আওয়াজে ভয় পেয়ে যদি মুরগি আর পুরুষ্টু হাঁসগুলো প্রাণের দায়ে উড়ে বাড়ির চিমনির ওপর গিয়ে পড়ত, তাতে ফেদিয়ার কিছু আসত-যেত না, যথেষ্ট হট্টগোল তুলে সবাইকে ভয় পাওয়াতে পারলেই ও ছিল খুশি।

এ-সব ক্ষেত্রে ওর উদ্দেশ্য ছিল হতভম্ব শত্রুর মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া যে লাল ফৌজের অসংখ্য সেপাই গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ওর মতলব ছিল, রাইফেলের বলটুতে কার্তুজ পুরতে গিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাবড়ে-যাওয়া সেপাইদের আঙুলগুলো কেমন এদিক-ওদিক হাতড়ে বেড়াবে আর কাঁপতে থাকবে, তাড়াহুড়ো করে গুছিয়ে-নেয়া মেশিনগানটা গুলির ফিতে কুচকে থাকার জন্যে চলতে-চলতে কেমন বন্ধ হয়ে যাবে, আধঘুমন্ত-অবস্থায় হতবুদ্ধি সৈন্যরা ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাইফেল ফেলে, ভয়ে বেড়ার দিকে ছুটতে ছুটতে কেমন পাগলের মতো চে’চাবে: ‘লালজুজু এসে গ্যাচে! ঘিরে ফেলেচে আমাদের!’ তা-ই দেখে দারুণ মজা পাওয়া যাবে।