০১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত পেন্টাগনে ফাঁস ঠেকাতে ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা, ইরান যুদ্ধের তথ্য ঘিরে নজিরবিহীন তদন্ত

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৭৩)

অষ্টম পরিচ্ছেদ

বিশ্বকোষ হচ্ছে এমন একখানা বই যা যতবার ইচ্ছে ততবার পড়া চলে। অথচ, তা সত্ত্বেও, কিছুতেই এ বই মুখস্থ করা যায় না। এই কারণে বইখানা আমি সঙ্গে নিয়ে ঘুরতুম, আর প্রায়ই বিশ্রামের সময় কিংবা কোনো খাদে বা গভীর জঙ্গলের মধ্যে অপেক্ষা করার সময় বইটা ব্যাগ থেকে বের করে দলা-মোচড়ান পাতাগুলো ফিরে ফিরে বারবার পড়তুম। বইটাতে পর পর সাজানো নানা বিচিত্র বিষয়ের ওপর একধার থেকে চোখ বুলিয়ে যেতুম।

পড়তুম নানা সন্ন্যাসী, রাজা আর জেনারেলদের জীবনী, নানা রকমের বার্নিশ তৈরির ব্যবস্থাপত্র, দার্শনিক পরিভাষা, প্রাচীনকালের নানা যুদ্ধের উল্লেখ, কোস্টা রিকার ইতিহাস (আগে এ রাজ্যটার নামই শুনি নি), আর সবশেষে জম্বুর হাড় থেকে জমির সার-ময়দা উৎপাদনের বর্ণনা। যাই হোক বইটা থেকে ‘এফ’ ও ‘আর’ অক্ষরের মধ্যে যাদের উল্লেখ ছিল এমন দরকারী অদরকারী নানা ধরনের পাঁচমিশেলি খবরাখবর বেশ খানিকটা সংগ্রহ করেছিলুম। তবে ওই ‘এফ’ ও ‘আর’অক্ষরের আগুপিছ অভিধানখানা ছিল ছেড়া।

যখনকার কথা বলছি তার কয়েকদিন আগে আমার নির্দিষ্ট জায়গায় পাহারা দিতে যাবার পূর্ব মুহূর্তে তাড়াতাড়িতে আমি এক টুকরো কালো রুটি ব্যাগটার মধ্যে ভরে রেখেছিলুম। এখন দেখলুম, ভুলে-যাওয়া সেই রুটির টুকরোটা সে’তিয়ে ভেঙে ভেঙে গেছে আর বইটার কয়েকখানা পাতা ওই সে’তানো রুটিতে মাখামাখি হয়ে আটকে গেছে। তাই ব্যাগের যাবতীয় জিনিসপত্র ঘাসের ওপর ঢেলে ফেলে রুটিতে মাখামাখি-হয়ে-থাকা ব্যাগের ভেতরটা হাত ঢুকিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলুম। আর এই সময়ে আমার আঙুলের ঘসা লেগে ব্যাগের চামড়ার আন্তরের একটা কোণ হঠাৎ দেখলুম আলগা হয়ে গেল।

ব্যাগটাকে সূর্যের দিকে তুলে ধরে ওর ভেতরটা পরীক্ষা করতে লাগলুম। হঠাৎ চোখে পড়ল, আস্তরের নিচে এক টুকরো শাদা কাগজ লুকনো।

আমার কৌতূহল অদম্য হয়ে উঠল। টেনে আন্তরটা আরও খানিকটা খুলে ফেলে ভেতর থেকে একতাড়া পাতলা কাগজ টেনে বের করলুম। তারপর তার মধ্যে থেকে একখানা খুলে দেখলুম। কাগজখানার মধ্যিখানে দেখলুম দু-মুখো ঈগলের একটা গিলটি-করা প্রতীকচিহ্ন, আর তার নিচে সোনালী বুটিদার অক্ষরে স্পষ্ট করে লেখা ‘সার্টিফিকেট’ শব্দটা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৭৩)

০৮:০০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

অষ্টম পরিচ্ছেদ

বিশ্বকোষ হচ্ছে এমন একখানা বই যা যতবার ইচ্ছে ততবার পড়া চলে। অথচ, তা সত্ত্বেও, কিছুতেই এ বই মুখস্থ করা যায় না। এই কারণে বইখানা আমি সঙ্গে নিয়ে ঘুরতুম, আর প্রায়ই বিশ্রামের সময় কিংবা কোনো খাদে বা গভীর জঙ্গলের মধ্যে অপেক্ষা করার সময় বইটা ব্যাগ থেকে বের করে দলা-মোচড়ান পাতাগুলো ফিরে ফিরে বারবার পড়তুম। বইটাতে পর পর সাজানো নানা বিচিত্র বিষয়ের ওপর একধার থেকে চোখ বুলিয়ে যেতুম।

পড়তুম নানা সন্ন্যাসী, রাজা আর জেনারেলদের জীবনী, নানা রকমের বার্নিশ তৈরির ব্যবস্থাপত্র, দার্শনিক পরিভাষা, প্রাচীনকালের নানা যুদ্ধের উল্লেখ, কোস্টা রিকার ইতিহাস (আগে এ রাজ্যটার নামই শুনি নি), আর সবশেষে জম্বুর হাড় থেকে জমির সার-ময়দা উৎপাদনের বর্ণনা। যাই হোক বইটা থেকে ‘এফ’ ও ‘আর’ অক্ষরের মধ্যে যাদের উল্লেখ ছিল এমন দরকারী অদরকারী নানা ধরনের পাঁচমিশেলি খবরাখবর বেশ খানিকটা সংগ্রহ করেছিলুম। তবে ওই ‘এফ’ ও ‘আর’অক্ষরের আগুপিছ অভিধানখানা ছিল ছেড়া।

যখনকার কথা বলছি তার কয়েকদিন আগে আমার নির্দিষ্ট জায়গায় পাহারা দিতে যাবার পূর্ব মুহূর্তে তাড়াতাড়িতে আমি এক টুকরো কালো রুটি ব্যাগটার মধ্যে ভরে রেখেছিলুম। এখন দেখলুম, ভুলে-যাওয়া সেই রুটির টুকরোটা সে’তিয়ে ভেঙে ভেঙে গেছে আর বইটার কয়েকখানা পাতা ওই সে’তানো রুটিতে মাখামাখি হয়ে আটকে গেছে। তাই ব্যাগের যাবতীয় জিনিসপত্র ঘাসের ওপর ঢেলে ফেলে রুটিতে মাখামাখি-হয়ে-থাকা ব্যাগের ভেতরটা হাত ঢুকিয়ে পরিষ্কার করতে লাগলুম। আর এই সময়ে আমার আঙুলের ঘসা লেগে ব্যাগের চামড়ার আন্তরের একটা কোণ হঠাৎ দেখলুম আলগা হয়ে গেল।

ব্যাগটাকে সূর্যের দিকে তুলে ধরে ওর ভেতরটা পরীক্ষা করতে লাগলুম। হঠাৎ চোখে পড়ল, আস্তরের নিচে এক টুকরো শাদা কাগজ লুকনো।

আমার কৌতূহল অদম্য হয়ে উঠল। টেনে আন্তরটা আরও খানিকটা খুলে ফেলে ভেতর থেকে একতাড়া পাতলা কাগজ টেনে বের করলুম। তারপর তার মধ্যে থেকে একখানা খুলে দেখলুম। কাগজখানার মধ্যিখানে দেখলুম দু-মুখো ঈগলের একটা গিলটি-করা প্রতীকচিহ্ন, আর তার নিচে সোনালী বুটিদার অক্ষরে স্পষ্ট করে লেখা ‘সার্টিফিকেট’ শব্দটা।