ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসন যে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, তার একটি বড় অংশ ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ইউক্রেন ও ন্যাটোকে বিনা মূল্যে দেওয়া বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তার অর্থ মূলত ইউরোপেরই বহন করার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন নীতির সমালোচনা করে বলেন, ইউক্রেন ও ন্যাটোকে ‘শত শত বিলিয়ন ডলারের’ সহায়তা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ইউরোপকে আগে এ অর্থ দিতে বলা হলে তারা সেটি পরিশোধ করত। এখন দেরিতে হলেও সেই অর্থ চাওয়া হবে।
কত অর্থ ফেরত চাইছেন ট্রাম্প?
তবে ট্রাম্প তাঁর দাবির সুনির্দিষ্ট অঙ্ক জানাননি। কোন কোন ইউরোপীয় দেশকে অর্থ দিতে হবে কিংবা কীভাবে আগের ব্যয়ের জন্য অর্থ আদায় করা হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি। এর আগে চলতি সপ্তাহে তিনি দাবি করেছিলেন, বাইডেন ইউক্রেনকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অস্ত্র ‘বিনামূল্যে’ দিয়েছেন।

তবে মার্কিন সরকারি হিসাবের সঙ্গে এই অঙ্কের পার্থক্য রয়েছে। অপারেশন আটলান্টিক রেজলভের বিশেষ মহাপরিদর্শকের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ১৯৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
ইউক্রেনের অস্ত্রের খরচ এখন দিচ্ছে ন্যাটোর মিত্ররা
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেনের জন্য নতুন মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে অর্থের দায়িত্ব অন্য ন্যাটো সদস্য ও অংশীদারদের ওপর দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। Prioritized Ukraine Requirements List বা PURL নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র ও গোলাবারুদের মূল্য পরিশোধ করে, যা পরে ইউক্রেনে সরবরাহ করা হয়।
ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের অর্থায়ন হয়েছে।
রাশিয়ার অবস্থান
মস্কো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, পশ্চিমা দেশগুলোর অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহ ইউক্রেন যুদ্ধের ফল বদলাতে পারবে না। রাশিয়ার দাবি, এ ধরনের সহায়তা শুধু সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।

এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার খবরও নাকচ করেছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং নতুন তৈরি গোলাবারুদের বড় অংশ বর্তমানে বিদেশে বিক্রি না করে নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য রাখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ সপ্তাহে বলেছেন, ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং ইরানের যুদ্ধ মিলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশটির মূল্যস্তরেও।
ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান ইউক্রেনকে দেওয়া আগের মার্কিন সামরিক সহায়তার আর্থিক দায় নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে নতুন করে আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















