০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৮৩)

অষ্টম পরিচ্ছেদ

গৃহকর্তা এক সময়ে পাশের ঘরে গেল। এ-ঘর থেকে আমরা দেরাজের টানা খোলার আওয়াজ পেলুম।
‘মজার বুড়ো,’ ফিসফিস করে আমি বললুম।
‘মজার বটে, কিন্তু,’ সায় দিয়েও চুবুক বললেন, ‘কিন্তু ও জানলা দিয়ে বারবার বাইরের দিকি দেখচে কেন?’
কথাটা বলেই চুবুক ঘাড় ফিরিয়ে ঘরের চারপাশটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। এবার ঘরের এক কোণে পাতা পুরনো একটা চটের থলের দিকে ওঁর চোখ পড়ে গেল। ভুরুটা কাঁচকে উনি উঠে ঘরের ওপাশে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন।
এই সময়ে গৃহকর্তা ফিরে এল। ওর হাতে ছিল একটা বোতল। নিজের পাজামার তলাটা দিয়ে বোতলের গায়ে-জমা ধুলো ও মুছে নিল।
‘এই-যে, এস,’ টেবিলের কাছে এসে গৃহকর্তা বলল। ‘ক্যাপটেন শুভাৎস যখন শেষবার এসেছিলেন তখন এ-বোতলটা শেষ করতে পারেন নি। এস, তোমাদের চায়ে একটু করে ব্র্যান্ডি মিশিয়ে দিই। জিনিসটা আমার নিজেরই ভারি পছন্দ, তবে কিনা অতিথদের জন্যে… অতিথ বলে কথা…’ বোতলের মুখে-আটকানো ছিপির বদলে একদলা কাগজ টেনে খুলে বোতলের জিনিসটা আমাদের গেলাস দুটোয় ঢেলে দিল ও। আমার গেলাসটা নেয়ার জন্যে হাত বাড়াতেই জানলা থেকে চুবুক ছুটে এসে রূঢ়ভাবে আমায় বললেন:
‘আচ্ছা ছেলে তো তুমি! ঘরে-যে সবার জন্যি যথেষ্ট গেলাস নেই, চোখি দেখতে পাও না? যাও, গা এলিয়ে বসে না থেকি জায়গাটা বুড়া ভন্দরনোকরে ছেড়ে দ্যাও দিকি। তুমি পরে খেও। আসুন, বুড়োবাবা, বসুন। আমরা দু-জনা একসঙ্গে খাই।’
হঠাৎ অমন রুক্ষভাবে আমার সঙ্গে কথা বলায় আমি অবাক হয়ে চুবুকের দিকে তাকালুম।
‘না-না, থাক, থাক!’ বলতে-বলতে বৃদ্ধ গেলাসটা ঠেলে সরিয়ে দিল। ‘আমি পরে খাব অখন। তোমরা হলে গিয়ে আমার অতিথ…’
‘খান, বুড়োবাবা,’ দৃঢ়সংকল্পের ভঙ্গিতে গৃহকর্তার দিকে গেলাসটা এগিয়ে দিতে-দিতে চুবুক ফের বললেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৮৩)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

অষ্টম পরিচ্ছেদ

গৃহকর্তা এক সময়ে পাশের ঘরে গেল। এ-ঘর থেকে আমরা দেরাজের টানা খোলার আওয়াজ পেলুম।
‘মজার বুড়ো,’ ফিসফিস করে আমি বললুম।
‘মজার বটে, কিন্তু,’ সায় দিয়েও চুবুক বললেন, ‘কিন্তু ও জানলা দিয়ে বারবার বাইরের দিকি দেখচে কেন?’
কথাটা বলেই চুবুক ঘাড় ফিরিয়ে ঘরের চারপাশটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। এবার ঘরের এক কোণে পাতা পুরনো একটা চটের থলের দিকে ওঁর চোখ পড়ে গেল। ভুরুটা কাঁচকে উনি উঠে ঘরের ওপাশে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন।
এই সময়ে গৃহকর্তা ফিরে এল। ওর হাতে ছিল একটা বোতল। নিজের পাজামার তলাটা দিয়ে বোতলের গায়ে-জমা ধুলো ও মুছে নিল।
‘এই-যে, এস,’ টেবিলের কাছে এসে গৃহকর্তা বলল। ‘ক্যাপটেন শুভাৎস যখন শেষবার এসেছিলেন তখন এ-বোতলটা শেষ করতে পারেন নি। এস, তোমাদের চায়ে একটু করে ব্র্যান্ডি মিশিয়ে দিই। জিনিসটা আমার নিজেরই ভারি পছন্দ, তবে কিনা অতিথদের জন্যে… অতিথ বলে কথা…’ বোতলের মুখে-আটকানো ছিপির বদলে একদলা কাগজ টেনে খুলে বোতলের জিনিসটা আমাদের গেলাস দুটোয় ঢেলে দিল ও। আমার গেলাসটা নেয়ার জন্যে হাত বাড়াতেই জানলা থেকে চুবুক ছুটে এসে রূঢ়ভাবে আমায় বললেন:
‘আচ্ছা ছেলে তো তুমি! ঘরে-যে সবার জন্যি যথেষ্ট গেলাস নেই, চোখি দেখতে পাও না? যাও, গা এলিয়ে বসে না থেকি জায়গাটা বুড়া ভন্দরনোকরে ছেড়ে দ্যাও দিকি। তুমি পরে খেও। আসুন, বুড়োবাবা, বসুন। আমরা দু-জনা একসঙ্গে খাই।’
হঠাৎ অমন রুক্ষভাবে আমার সঙ্গে কথা বলায় আমি অবাক হয়ে চুবুকের দিকে তাকালুম।
‘না-না, থাক, থাক!’ বলতে-বলতে বৃদ্ধ গেলাসটা ঠেলে সরিয়ে দিল। ‘আমি পরে খাব অখন। তোমরা হলে গিয়ে আমার অতিথ…’
‘খান, বুড়োবাবা,’ দৃঢ়সংকল্পের ভঙ্গিতে গৃহকর্তার দিকে গেলাসটা এগিয়ে দিতে-দিতে চুবুক ফের বললেন।