০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যা মামলা, কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের মধ্যে এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে কিউবার যুদ্ধবিমান দুটি ছোট বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় রাউল কাস্ত্রো জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন। তখন রাউল কাস্ত্রো কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নতুন অভিযোগে উত্তেজনা

মার্কিন প্রশাসন রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র, চারটি হত্যা এবং বিমান ধ্বংসের অভিযোগ এনেছে। বর্তমানে তার বয়স ৯৪ বছর। যদিও তিনি এখন আর রাষ্ট্রপ্রধান নন, তবু কিউবার রাজনীতিতে এখনও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবার ওপর আরও চাপ বাড়ানোর নীতির অংশ হিসেবেই এই মামলা সামনে এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন লাতিন আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

কিউবার তীব্র প্রতিক্রিয়া

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষায়, এটি এমন এক পদক্ষেপ যা ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনার অজুহাত তৈরি করতে পারে।

কিউবার সরকার বলছে, ১৯৯৬ সালের ঘটনায় তারা নিজেদের আকাশসীমা রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার তদন্তে বলা হয়েছিল, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর ঘটেছিল।

US raises pressure on Cuba by indicting former leader Raúl Castro | AP News

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশল

ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং নতুন অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে কিউবার পক্ষ এটিকে ভণ্ডামি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ঐতিহাসিক বৈরিতা আবার সামনে

১৯৫৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। রাউল কাস্ত্রো ছিলেন সেই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নেতা। পরে তিনি ২০০৮ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০১৮ সালে দায়িত্ব ছাড়েন।

নতুন এই মামলা শুধু আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিউবান অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। বাড়ছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যা মামলা, কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

০৭:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের মধ্যে এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে কিউবার যুদ্ধবিমান দুটি ছোট বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় রাউল কাস্ত্রো জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন। তখন রাউল কাস্ত্রো কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নতুন অভিযোগে উত্তেজনা

মার্কিন প্রশাসন রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র, চারটি হত্যা এবং বিমান ধ্বংসের অভিযোগ এনেছে। বর্তমানে তার বয়স ৯৪ বছর। যদিও তিনি এখন আর রাষ্ট্রপ্রধান নন, তবু কিউবার রাজনীতিতে এখনও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবার ওপর আরও চাপ বাড়ানোর নীতির অংশ হিসেবেই এই মামলা সামনে এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন লাতিন আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

কিউবার তীব্র প্রতিক্রিয়া

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষায়, এটি এমন এক পদক্ষেপ যা ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনার অজুহাত তৈরি করতে পারে।

কিউবার সরকার বলছে, ১৯৯৬ সালের ঘটনায় তারা নিজেদের আকাশসীমা রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার তদন্তে বলা হয়েছিল, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর ঘটেছিল।

US raises pressure on Cuba by indicting former leader Raúl Castro | AP News

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশল

ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং নতুন অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে কিউবার পক্ষ এটিকে ভণ্ডামি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ঐতিহাসিক বৈরিতা আবার সামনে

১৯৫৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। রাউল কাস্ত্রো ছিলেন সেই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নেতা। পরে তিনি ২০০৮ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০১৮ সালে দায়িত্ব ছাড়েন।

নতুন এই মামলা শুধু আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিউবান অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। বাড়ছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ।