০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: স্মরণে শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোচ্চার শ্রমিকরা

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণে আবারও শোক আর ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন এবং শ্রমিক অধিকারকর্মীরা একত্র হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট

শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। একসময় যেখানে বহুতল ভবনটি দাঁড়িয়ে ছিল, সেই স্থানেই এখন স্মৃতির ভারে নত হয়ে মানুষ দাঁড়ান, হারানোর বেদনা স্মরণ করেন।

প্রতিবাদ মিছিল ও দাবির পুনরাবৃত্তি

শ্রদ্ধা জানানোর আগে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। মিছিল থেকে তারা ভবন ধসের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, আহত শ্রমিকদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা জানান, এত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। অনেক আহত শ্রমিক এখনো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক এখনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, এই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের অনেক দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাদের মতে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ

৪ দফা দাবিতে মিছিল, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

স্মরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা। সবার কণ্ঠেই ছিল একটাই দাবি—ন্যায়বিচার এবং সম্মানজনক পুনর্বাসন।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৮ জন এবং আহত হন আরও হাজার হাজার শ্রমিক। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

এই ঘটনার ১৩ বছর পরও বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানা প্লাজার স্মৃতি আজও দেশের শ্রমিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যেখানে ন্যায়বিচারের দাবি এখনো অমীমাংসিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: স্মরণে শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সোচ্চার শ্রমিকরা

০৬:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তিতে নিহতদের স্মরণে আবারও শোক আর ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন এবং শ্রমিক অধিকারকর্মীরা একত্র হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট

শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে এবং প্রার্থনার মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। একসময় যেখানে বহুতল ভবনটি দাঁড়িয়ে ছিল, সেই স্থানেই এখন স্মৃতির ভারে নত হয়ে মানুষ দাঁড়ান, হারানোর বেদনা স্মরণ করেন।

প্রতিবাদ মিছিল ও দাবির পুনরাবৃত্তি

শ্রদ্ধা জানানোর আগে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। মিছিল থেকে তারা ভবন ধসের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, আহত শ্রমিকদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা জানান, এত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। অনেক আহত শ্রমিক এখনো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক এখনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, এই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের অনেক দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাদের মতে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ

৪ দফা দাবিতে মিছিল, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

স্মরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে ছিলেন নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা। সবার কণ্ঠেই ছিল একটাই দাবি—ন্যায়বিচার এবং সম্মানজনক পুনর্বাসন।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৮ জন এবং আহত হন আরও হাজার হাজার শ্রমিক। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।

এই ঘটনার ১৩ বছর পরও বিচার ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানা প্লাজার স্মৃতি আজও দেশের শ্রমিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যেখানে ন্যায়বিচারের দাবি এখনো অমীমাংসিত।