০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাশিয়ার অনলাইন বাণিজ্যে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার বড় ধাক্কা, বাড়ছে অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ

ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে রাশিয়ার অনলাইন বাণিজ্য খাত। রাজধানী মস্কোর কাছে এবং দক্ষিণ রাশিয়ায় দেশটির সবচেয়ে বড় অনলাইন কেনাবেচার প্রতিষ্ঠানের একাধিক গুদামে হামলার পর বিপুল পরিমাণ পণ্য ধ্বংস হয়েছে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গুদামে হামলায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি
গত এক সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির চারটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়েছে। মস্কোর উপকণ্ঠে একটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দিনের বেশি সময় লাগে। একই সময়ে দক্ষিণ রাশিয়ার আরও দুটি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়।

প্রাথমিক হিসাবে এসব হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া পণ্য ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য কয়েকশ কোটি ডলারের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতির বড় অংশই গুদামে সংরক্ষিত বিক্রেতাদের পণ্য হারানোর কারণে হয়েছে।

বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী তাদের পণ্য বিক্রি করেন। হামলার পর অনেক বিক্রেতা জানিয়েছেন, তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা এখন বড় সংকটে পড়েছে।

একজন পোশাক বিক্রেতা জানান, তার প্রায় অর্ধেক মজুত পণ্য আগুনে পুড়ে গেছে। এতে ঋণ পরিশোধ এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক বিক্রেতা ক্ষতিপূরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে অর্থ পরিশোধ শুরু হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিষ্ঠানের বীমা নীতিতে ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

Kremlin says Russian online retailer Wildberries suffered losses in  warehouse attacks | Reuters

সামরিক লক্ষ্য নাকি বেসামরিক অবকাঠামো
এই হামলার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, যেসব গুদামে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে অনেকের মতে, এসব স্থাপনায় মূলত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের পণ্য সংরক্ষণ করা হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের এই পর্যায়ে সামরিক ও বেসামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সীমারেখা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

জ্বালানি সংকটেও বাড়ছে চাপ
ড্রোন হামলার প্রভাব শুধু অনলাইন বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতেও ধারাবাহিক হামলা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে। আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুদ্ধের প্রভাব এখন ঘরের কাছেই
দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই চিত্র বদলে দিয়েছে। বড় শহরের বাসিন্দারাও এখন যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুভব করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় এসব হামলার মানসিক প্রভাব আরও গভীর। কারণ যুদ্ধ এখন আর সীমান্তের দূরবর্তী অঞ্চলের ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ছে।

মস্কোর কাছে অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বড় ক্ষতি, বাড়ছে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রাশিয়ার অনলাইন বাণিজ্যে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার বড় ধাক্কা, বাড়ছে অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ

০৮:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে রাশিয়ার অনলাইন বাণিজ্য খাত। রাজধানী মস্কোর কাছে এবং দক্ষিণ রাশিয়ায় দেশটির সবচেয়ে বড় অনলাইন কেনাবেচার প্রতিষ্ঠানের একাধিক গুদামে হামলার পর বিপুল পরিমাণ পণ্য ধ্বংস হয়েছে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গুদামে হামলায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি
গত এক সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির চারটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়েছে। মস্কোর উপকণ্ঠে একটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দিনের বেশি সময় লাগে। একই সময়ে দক্ষিণ রাশিয়ার আরও দুটি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়।

প্রাথমিক হিসাবে এসব হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া পণ্য ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য কয়েকশ কোটি ডলারের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতির বড় অংশই গুদামে সংরক্ষিত বিক্রেতাদের পণ্য হারানোর কারণে হয়েছে।

বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী তাদের পণ্য বিক্রি করেন। হামলার পর অনেক বিক্রেতা জানিয়েছেন, তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা এখন বড় সংকটে পড়েছে।

একজন পোশাক বিক্রেতা জানান, তার প্রায় অর্ধেক মজুত পণ্য আগুনে পুড়ে গেছে। এতে ঋণ পরিশোধ এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক বিক্রেতা ক্ষতিপূরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে অর্থ পরিশোধ শুরু হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিষ্ঠানের বীমা নীতিতে ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

Kremlin says Russian online retailer Wildberries suffered losses in  warehouse attacks | Reuters

সামরিক লক্ষ্য নাকি বেসামরিক অবকাঠামো
এই হামলার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, যেসব গুদামে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে অনেকের মতে, এসব স্থাপনায় মূলত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের পণ্য সংরক্ষণ করা হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের এই পর্যায়ে সামরিক ও বেসামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সীমারেখা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

জ্বালানি সংকটেও বাড়ছে চাপ
ড্রোন হামলার প্রভাব শুধু অনলাইন বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতেও ধারাবাহিক হামলা হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে। আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুদ্ধের প্রভাব এখন ঘরের কাছেই
দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই চিত্র বদলে দিয়েছে। বড় শহরের বাসিন্দারাও এখন যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুভব করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় এসব হামলার মানসিক প্রভাব আরও গভীর। কারণ যুদ্ধ এখন আর সীমান্তের দূরবর্তী অঞ্চলের ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়ছে।

মস্কোর কাছে অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বড় ক্ষতি, বাড়ছে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ।