০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাশিয়ার সহায়তায় সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা? তদন্তে নতুন প্রশ্ন, বাড়ছে উত্তেজনা

উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব হামলায় রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণে তথ্য কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ধরনের সহায়তা দিয়েছিল কি না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

তদন্তে কেন রাশিয়ার নাম

তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নির্ভুলতা এবং ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কারণে এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় এলেও সিআইএর স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি এখন নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

একাধিক স্থাপনা ছিল লক্ষ্যবস্তু

Iran Strikes On CIA Facilities Prompt Questions About Possible Russian Role

তদন্তে উঠে এসেছে, চলতি বছরের মার্চে অন্তত দুটি সিআইএ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ভেতরের একটি সিআইএ কার্যালয় এবং ইরাকের পূর্বাঞ্চলের আরেকটি স্থাপনা ছিল। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, আরও কয়েকটি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

নির্ভুল হামলা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

পশ্চিমা গোয়েন্দা মহলের একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে, সংবেদনশীল এসব স্থাপনা শনাক্ত করতে রাশিয়া কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরানের প্রচলিত সক্ষমতার তুলনায় আরও উন্নত ছিল।

বিশ্লেষকদের দাবি, হামলার সময় দুটি ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি ভবনের দুর্বল অংশে আঘাত করে প্রবেশপথ তৈরি করে এবং দ্বিতীয়টি সেই ফাঁক দিয়ে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও হামলার কৌশল বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ড্রোন প্রযুক্তিতে উন্নতির ইঙ্গিত

তদন্তে আরও দেখা হচ্ছে, ইরানের ব্যবহৃত ড্রোনে আরও উন্নত উপগ্রহভিত্তিক নির্দেশনা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল কি না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়াও সহজ হয়।

Iran drone strikes on CIA facilities raise questions of Russian involvement

সিআইএর গোপন স্থাপনাগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিদেশে সিআইএর বিভিন্ন স্থাপনার অবস্থান সাধারণত কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়। এসবের মধ্যে দূতাবাসভিত্তিক কার্যালয়ের পাশাপাশি নিরাপদ ঘাঁটি, নজরদারি কেন্দ্র, সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার এবং বিভিন্ন বিশেষ অভিযান পরিচালনার স্থানও রয়েছে। তাই এসব স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তদন্ত চলছে, সিদ্ধান্ত এখনো নয়

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, ইরান সরাসরি রাশিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের তথ্য ব্যবহার করেছে, নাকি হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং ঘটনাক্রমে সিআইএর কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রাশিয়ার সহায়তায় সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলা? তদন্তে নতুন প্রশ্ন, বাড়ছে উত্তেজনা

১১:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব হামলায় রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণে তথ্য কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ধরনের সহায়তা দিয়েছিল কি না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

তদন্তে কেন রাশিয়ার নাম

তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নির্ভুলতা এবং ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কারণে এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় এলেও সিআইএর স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি এখন নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

একাধিক স্থাপনা ছিল লক্ষ্যবস্তু

Iran Strikes On CIA Facilities Prompt Questions About Possible Russian Role

তদন্তে উঠে এসেছে, চলতি বছরের মার্চে অন্তত দুটি সিআইএ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ভেতরের একটি সিআইএ কার্যালয় এবং ইরাকের পূর্বাঞ্চলের আরেকটি স্থাপনা ছিল। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, আরও কয়েকটি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

নির্ভুল হামলা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

পশ্চিমা গোয়েন্দা মহলের একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে, সংবেদনশীল এসব স্থাপনা শনাক্ত করতে রাশিয়া কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরানের প্রচলিত সক্ষমতার তুলনায় আরও উন্নত ছিল।

বিশ্লেষকদের দাবি, হামলার সময় দুটি ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রথমটি ভবনের দুর্বল অংশে আঘাত করে প্রবেশপথ তৈরি করে এবং দ্বিতীয়টি সেই ফাঁক দিয়ে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও হামলার কৌশল বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ড্রোন প্রযুক্তিতে উন্নতির ইঙ্গিত

তদন্তে আরও দেখা হচ্ছে, ইরানের ব্যবহৃত ড্রোনে আরও উন্নত উপগ্রহভিত্তিক নির্দেশনা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল কি না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়াও সহজ হয়।

Iran drone strikes on CIA facilities raise questions of Russian involvement

সিআইএর গোপন স্থাপনাগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিদেশে সিআইএর বিভিন্ন স্থাপনার অবস্থান সাধারণত কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়। এসবের মধ্যে দূতাবাসভিত্তিক কার্যালয়ের পাশাপাশি নিরাপদ ঘাঁটি, নজরদারি কেন্দ্র, সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার এবং বিভিন্ন বিশেষ অভিযান পরিচালনার স্থানও রয়েছে। তাই এসব স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তদন্ত চলছে, সিদ্ধান্ত এখনো নয়

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, ইরান সরাসরি রাশিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের তথ্য ব্যবহার করেছে, নাকি হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং ঘটনাক্রমে সিআইএর কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।