০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাশিয়ার বিরল ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া, জাপানের দাবি করা দ্বীপ ঘিরে বাড়ল উত্তেজনা

জাপানের দাবি করা দ্বীপগুলোর কাছে বিরল এক ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অংশ নেয় রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই মহড়াকে ঘিরে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পরমাণু সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর জানিয়েছে, দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে মহড়ায় একটি পরমাণুচালিত সাবমেরিন, একটি নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার এবং স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

রুশ সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয় এবং সেগুলো লক্ষ্যভেদে সফল হয়। তবে মহড়াটি ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা জানায়নি রাশিয়া।

রাশিয়া ২০১৬ সালে ইতুরুপ দ্বীপে স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। জাপানে দ্বীপটি এতোড়োফু নামে পরিচিত।

জাপানের তীব্র প্রতিবাদ

মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের চারটি দ্বীপে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি জাপানের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত বাহিনীর দখলে যায়। এরপর থেকে দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে।

ফের ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর  কোরিয়া - The Bangladesh Today

পুতিনের সফরের পরই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো এসব বিতর্কিত ভূখণ্ড সফর করেন। গত সপ্তাহে তিনি ইতুরুপ দ্বীপে যান। পুতিনের এই সফরের বিরুদ্ধে টোকিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

এরপরই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর জাপান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে অবস্থান নিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তাও দিয়েছে টোকিও, যদিও তা প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে দেহরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিবহনযানের মতো সহায়তায় সীমিত ছিল।

শান্তিচুক্তির পথেও দ্বীপ বিরোধ বড় বাধা

দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি।

পুতিন সম্প্রতি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নথিতে কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ার অধিকার স্বীকৃত হলেও জাপানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে বিরোধের সমাধানের পথ খুঁজতে মস্কো প্রস্তুত।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চারটি বিতর্কিত দ্বীপের মধ্যে দুটি জাপানের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই আলোচনা কার্যত থেমে যায়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এখনো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেননি। এ কারণে কেউ কেউ মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করে বিতর্কিত দ্বীপগুলোর বিষয়ে আবারও আলোচনা শুরুর সুযোগ খুঁজতে পারে টোকিও।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রাশিয়ার বিরল ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া, জাপানের দাবি করা দ্বীপ ঘিরে বাড়ল উত্তেজনা

০৬:০২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

জাপানের দাবি করা দ্বীপগুলোর কাছে বিরল এক ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অংশ নেয় রুশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই মহড়াকে ঘিরে মস্কো ও টোকিওর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পরমাণু সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর জানিয়েছে, দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে মহড়ায় একটি পরমাণুচালিত সাবমেরিন, একটি নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার এবং স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

রুশ সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয় এবং সেগুলো লক্ষ্যভেদে সফল হয়। তবে মহড়াটি ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা জানায়নি রাশিয়া।

রাশিয়া ২০১৬ সালে ইতুরুপ দ্বীপে স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। জাপানে দ্বীপটি এতোড়োফু নামে পরিচিত।

জাপানের তীব্র প্রতিবাদ

মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের চারটি দ্বীপে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি জাপানের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত বাহিনীর দখলে যায়। এরপর থেকে দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে।

ফের ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর  কোরিয়া - The Bangladesh Today

পুতিনের সফরের পরই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো এসব বিতর্কিত ভূখণ্ড সফর করেন। গত সপ্তাহে তিনি ইতুরুপ দ্বীপে যান। পুতিনের এই সফরের বিরুদ্ধে টোকিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

এরপরই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর জাপান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে অবস্থান নিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তাও দিয়েছে টোকিও, যদিও তা প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে দেহরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিবহনযানের মতো সহায়তায় সীমিত ছিল।

শান্তিচুক্তির পথেও দ্বীপ বিরোধ বড় বাধা

দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি।

পুতিন সম্প্রতি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নথিতে কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ার অধিকার স্বীকৃত হলেও জাপানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে বিরোধের সমাধানের পথ খুঁজতে মস্কো প্রস্তুত।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চারটি বিতর্কিত দ্বীপের মধ্যে দুটি জাপানের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই আলোচনা কার্যত থেমে যায়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এখনো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেননি। এ কারণে কেউ কেউ মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করে বিতর্কিত দ্বীপগুলোর বিষয়ে আবারও আলোচনা শুরুর সুযোগ খুঁজতে পারে টোকিও।