০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাষ্ট্রবিহীন আফ্রিকা: ব্যর্থতা নয়, ইচ্ছাকৃত পথের ইতিহাস

আফ্রিকার প্রাক-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণ বলছে, এই রাষ্ট্রহীনতা আসলে কোনো ব্যর্থতা নয়—বরং অনেক ক্ষেত্রে ছিল সচেতন সামাজিক ও রাজনৈতিক পছন্দের ফল।

দাবার বোর্ড বনাম মানকালা: রাজনীতির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনীতিকে বোঝাতে গবেষকেরা একটি আকর্ষণীয় তুলনা দিয়েছেন। দাবা খেলায় যেমন রাজাকে রক্ষার জন্য সৈন্যরা আত্মত্যাগ করে, তেমনি শক্তিশালী রাষ্ট্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। অন্যদিকে আফ্রিকায় জনপ্রিয় মানকালা খেলায় সব ঘুঁটি সমান, আর খেলোয়াড়দের লক্ষ্য সেগুলো জিতে নেওয়া। এই পার্থক্য দেখায়, আফ্রিকার বহু সমাজে ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং সমতার ধারণা বেশি গুরুত্ব পেত।

African Anarchism, an introduction | Void Network

ছোট ছোট সমাজের বিস্তার

১৮৮০ সালের দিকে আফ্রিকায় প্রায় ৪৫ হাজার রাজনৈতিক একক ছিল বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ ছিল পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র, কিন্তু তারা শাসন করত প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষকে। অধিকাংশ মানুষ বসবাস করত ছোট ছোট প্রধানতন্ত্র বা আরও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে, যেখানে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল দুর্বল বা অনুপস্থিত।

যুদ্ধ নয়, সহাবস্থানের কৌশল

ইউরোপে যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও আফ্রিকার বহু সমাজ সহাবস্থানের পথ বেছে নেয়। ভাষাগত বিশ্লেষণেও এর প্রমাণ মেলে—অনেক আফ্রিকান ভাষায় ‘অতিথি’ ও ‘অপরিচিত’ শব্দ একই। অর্থাৎ বাইরের মানুষকেও সহজে গ্রহণ করার প্রবণতা ছিল সমাজে।

জনসংখ্যা ও সংস্কৃতির প্রভাব

আফ্রিকার কম জনসংখ্যাকে অনেক সময় দুর্বল রাষ্ট্রের কারণ হিসেবে ধরা হয়। নেতারা বেশি ক্ষমতা দেখালে মানুষ সহজেই অন্যত্র চলে যেতে পারত। তবে শুধু জনসংখ্যা নয়, সংস্কৃতিগত পার্থক্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

The Warrior & the State in Pre-colonial Africa | by Victor Simukonda |  Medium

আজকের আফ্রিকায় এর প্রভাব

গবেষকেরা মনে করেন, প্রাক-ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক কাঠামোর প্রভাব আজও আফ্রিকায় দেখা যায়। যেখানে আগে কঠোর শাসন ছিল, সেখানে এখনো সংঘাত বেশি। আর যেখানে শিথিল ও বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামো ছিল, সেখানে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা যায়।

সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের উত্তরাধিকার

বিকেন্দ্রীকরণ আফ্রিকাকে একদিকে দাস ব্যবসায়ী ও উপনিবেশবাদীদের কাছে দুর্বল করে তুলেছিল। আবার রাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের সন্দেহ আজও কর আদায় বা প্রশাসনিক শক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তবে একই সঙ্গে এই ঐতিহ্য সমাজকে করেছে ক্ষমতার প্রতি প্রশ্নমুখর, বৈচিত্র্যের প্রতি উন্মুক্ত এবং সামাজিকভাবে গতিশীল।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ভবিষ্যতে আফ্রিকার উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রাষ্ট্রবিহীন আফ্রিকা: ব্যর্থতা নয়, ইচ্ছাকৃত পথের ইতিহাস

১২:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আফ্রিকার প্রাক-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণ বলছে, এই রাষ্ট্রহীনতা আসলে কোনো ব্যর্থতা নয়—বরং অনেক ক্ষেত্রে ছিল সচেতন সামাজিক ও রাজনৈতিক পছন্দের ফল।

দাবার বোর্ড বনাম মানকালা: রাজনীতির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনীতিকে বোঝাতে গবেষকেরা একটি আকর্ষণীয় তুলনা দিয়েছেন। দাবা খেলায় যেমন রাজাকে রক্ষার জন্য সৈন্যরা আত্মত্যাগ করে, তেমনি শক্তিশালী রাষ্ট্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। অন্যদিকে আফ্রিকায় জনপ্রিয় মানকালা খেলায় সব ঘুঁটি সমান, আর খেলোয়াড়দের লক্ষ্য সেগুলো জিতে নেওয়া। এই পার্থক্য দেখায়, আফ্রিকার বহু সমাজে ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং সমতার ধারণা বেশি গুরুত্ব পেত।

African Anarchism, an introduction | Void Network

ছোট ছোট সমাজের বিস্তার

১৮৮০ সালের দিকে আফ্রিকায় প্রায় ৪৫ হাজার রাজনৈতিক একক ছিল বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ ছিল পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র, কিন্তু তারা শাসন করত প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষকে। অধিকাংশ মানুষ বসবাস করত ছোট ছোট প্রধানতন্ত্র বা আরও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে, যেখানে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল দুর্বল বা অনুপস্থিত।

যুদ্ধ নয়, সহাবস্থানের কৌশল

ইউরোপে যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও আফ্রিকার বহু সমাজ সহাবস্থানের পথ বেছে নেয়। ভাষাগত বিশ্লেষণেও এর প্রমাণ মেলে—অনেক আফ্রিকান ভাষায় ‘অতিথি’ ও ‘অপরিচিত’ শব্দ একই। অর্থাৎ বাইরের মানুষকেও সহজে গ্রহণ করার প্রবণতা ছিল সমাজে।

জনসংখ্যা ও সংস্কৃতির প্রভাব

আফ্রিকার কম জনসংখ্যাকে অনেক সময় দুর্বল রাষ্ট্রের কারণ হিসেবে ধরা হয়। নেতারা বেশি ক্ষমতা দেখালে মানুষ সহজেই অন্যত্র চলে যেতে পারত। তবে শুধু জনসংখ্যা নয়, সংস্কৃতিগত পার্থক্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

The Warrior & the State in Pre-colonial Africa | by Victor Simukonda |  Medium

আজকের আফ্রিকায় এর প্রভাব

গবেষকেরা মনে করেন, প্রাক-ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক কাঠামোর প্রভাব আজও আফ্রিকায় দেখা যায়। যেখানে আগে কঠোর শাসন ছিল, সেখানে এখনো সংঘাত বেশি। আর যেখানে শিথিল ও বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামো ছিল, সেখানে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা যায়।

সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের উত্তরাধিকার

বিকেন্দ্রীকরণ আফ্রিকাকে একদিকে দাস ব্যবসায়ী ও উপনিবেশবাদীদের কাছে দুর্বল করে তুলেছিল। আবার রাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের সন্দেহ আজও কর আদায় বা প্রশাসনিক শক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তবে একই সঙ্গে এই ঐতিহ্য সমাজকে করেছে ক্ষমতার প্রতি প্রশ্নমুখর, বৈচিত্র্যের প্রতি উন্মুক্ত এবং সামাজিকভাবে গতিশীল।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ভবিষ্যতে আফ্রিকার উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে।