০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩২)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • 133

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

কোরেনেভের সঙ্গে আমার ঝগড়ার পরদিন আমি যথারীতি কাউকে শুভেচ্ছা না-জানিয়ে বা কারো দিকে না-তাকিয়ে ক্লাসে ঢুকলুম।
সেদিন প্রথম পিরিয়ডে ছিল ভূগোলের ক্লাস। মাস্টারমশাই অল্পক্ষণ চীনের পশ্চিমাঞ্চল সম্পর্কে কিছু বলে তারপর খবরের কাগজের সেদিনকার টাটকা খবর নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। এই আলোচনা যখন চলছিল তখন আমি লক্ষ্য করলুম ফেক্কা ছোট-ছোট চিরকুট লিখে ক্লাসের ছেলেদের মধ্যে বিলি করছে। আমার সামনের বেঞ্চিতে বসা একটা ছেলে যখন ওরই মধ্যে একটা চিরকুট পড়ছিল
তখন তার কাঁধের ওপর দিয়ে আমিও লেখাটা পড়তে শুরু করে দেখলুম ওতে আমার নাম আছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি সাবধান হয়ে গেলুম।
পিরিয়ড শেষ হবার ঘণ্টা পড়ার পর আমি উঠে চারিদিকে নজর রাখতে-রাখতে দরজার দিকে এগোলুম। কিন্তু দেখলুম ক্লাসের পালোয়ানগোছের একদল ছেলে দরজা আটকে দাঁড়িয়ে গেছে। দেখতে-দেখতে অর্ধবৃত্তের আকারে গোল হয়ে ওরা আমায় ঘিরে ফেললে। তারপর ওদের মধ্যে থেকে ফেকা বেরিয়ে এসে আমার মুখোমুখি দাঁড়াল।
বললুম, ‘কী চাই?’
ও উদ্ধত ভঙ্গিতে বললে, ‘রিভলবারটা দিয়ে দে। ক্লাস-কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তোকে রিভলবারটা মিউনিসিপ্যালিটির রক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে জমা দিতে হবে। যাই হোক, এখুনি ক্লাস-কমিটির হাতে ওটা দিয়ে দে, আসচে কাল এর জন্যে স্থানীয় রক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে রসিদ পাবি।’
‘কিন্তু, কোন রিভলবারের কথা বলছিস?’ আমি বললুম। আস্তে-আন্তে তখন একপা-একপা করে জানলার দিকে পেছতে শুরু করেছি আর প্রাণপণে শান্ত থাকার চেষ্টা করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩২)

০৮:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

কোরেনেভের সঙ্গে আমার ঝগড়ার পরদিন আমি যথারীতি কাউকে শুভেচ্ছা না-জানিয়ে বা কারো দিকে না-তাকিয়ে ক্লাসে ঢুকলুম।
সেদিন প্রথম পিরিয়ডে ছিল ভূগোলের ক্লাস। মাস্টারমশাই অল্পক্ষণ চীনের পশ্চিমাঞ্চল সম্পর্কে কিছু বলে তারপর খবরের কাগজের সেদিনকার টাটকা খবর নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। এই আলোচনা যখন চলছিল তখন আমি লক্ষ্য করলুম ফেক্কা ছোট-ছোট চিরকুট লিখে ক্লাসের ছেলেদের মধ্যে বিলি করছে। আমার সামনের বেঞ্চিতে বসা একটা ছেলে যখন ওরই মধ্যে একটা চিরকুট পড়ছিল
তখন তার কাঁধের ওপর দিয়ে আমিও লেখাটা পড়তে শুরু করে দেখলুম ওতে আমার নাম আছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি সাবধান হয়ে গেলুম।
পিরিয়ড শেষ হবার ঘণ্টা পড়ার পর আমি উঠে চারিদিকে নজর রাখতে-রাখতে দরজার দিকে এগোলুম। কিন্তু দেখলুম ক্লাসের পালোয়ানগোছের একদল ছেলে দরজা আটকে দাঁড়িয়ে গেছে। দেখতে-দেখতে অর্ধবৃত্তের আকারে গোল হয়ে ওরা আমায় ঘিরে ফেললে। তারপর ওদের মধ্যে থেকে ফেকা বেরিয়ে এসে আমার মুখোমুখি দাঁড়াল।
বললুম, ‘কী চাই?’
ও উদ্ধত ভঙ্গিতে বললে, ‘রিভলবারটা দিয়ে দে। ক্লাস-কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তোকে রিভলবারটা মিউনিসিপ্যালিটির রক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে জমা দিতে হবে। যাই হোক, এখুনি ক্লাস-কমিটির হাতে ওটা দিয়ে দে, আসচে কাল এর জন্যে স্থানীয় রক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে রসিদ পাবি।’
‘কিন্তু, কোন রিভলবারের কথা বলছিস?’ আমি বললুম। আস্তে-আন্তে তখন একপা-একপা করে জানলার দিকে পেছতে শুরু করেছি আর প্রাণপণে শান্ত থাকার চেষ্টা করছি।