০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৪২)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 140

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

হঠাৎ গান শুনে আমার ঘুম ভাঙল। মনে হল, মজুররা ভারি কিছু একটা তুলতে তুলতে গান জুড়েছে।

সাবাস, জোয়ান, হে’ই-ও!

ভাঙা, কিন্তু বেশ মিষ্টি চড়া গলায় কে একজন আগে আগে গাইছে। আর অন্য সবাই দোহার ধরছে কর্কশ গলায়:

হাত লাগাও, জোর হাত লাগাও।

প্রচণ্ড আওয়াজ করে এবার কী যেন নড়ে উঠল।

হেই… মারো ঠেলা,

সব ঠিক হায়,

কুত্তি তব ভি বৈঠা হায়।

বাক্স থেকে এবার মাথা বের করলুম। দেখলুম, যবের রুটির টুকরোর চারপাশে পিপড়েরা যে ভাবে ঘিরে দাঁড়ায় সেইভাবে মজুররাও প্রকান্ড একটা মরচে-ধরা কপিকলকে ঘিরে ধরে গড়ানো লোহার পাতের ওপর দিয়ে একটা মস্তখোলা মালগাড়ির ওপর সেটাকে টেনে তুলছে। ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকা মূল গায়েন এই সময়ে ফের শুরু করল:

হেই… লাথসে ভাগ রহা নিকোলাই,

হেই… উসিসে ফায়দা ক্যা উঠা ভাই!

আবার একটা ঝনঝন আওয়াজ উঠল।

আ যা, ভেইয়া, বান্ধ লে কোমর, দরিয়ামে ডাল দে আলেককো লে কর।

এরপর আবার একটা ঝন আর তারপর ধূপ করে একটা জোর আওয়াজ। দেখি, দুম্বো কপিকলটা এবার মালগাড়ির ওপর চেপে বসেছে। গান থেমে গিয়ে এবার একটা হল্লা উঠল, অনেকে একসঙ্গে চে’চাচ্ছে, কথা বলছে, দিব্যি গালছে।

‘হ্যাঁ, গান বটে একখানা!’ মনে মনে ভাবলুম। ‘কিন্তু ওই আলেটা কে আবার? কে আর হবে, নিশ্চয়ই কেরোস্কি! আজামাসে অবিশ্যি অমন গান গাইলে আর দেখতে হত না, সঙ্গে সঙ্গেই পুলিপোলাও চালান হয়ে যেত। এখানে কিন্তু স্থানীয় রক্ষী-বাহিনীর লোক দিব্যি মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কিছুটি কানে যাচ্ছে না।’

নোংরা পুঁচকে স্টিমারটা নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে ছিল স্টিমার-ঘাটায়। স্টিমার ভাড়া পঞ্চাশ কোপেক আমার সঙ্গে ছিল না, এদিকে স্টিমারে ওঠার সরু পথটার মুখে পাহারা দিচ্ছে একজন টিকিট কালেক্টর আর রাইফেল কাঁধে এক মাল্লা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৪২)

০৮:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

হঠাৎ গান শুনে আমার ঘুম ভাঙল। মনে হল, মজুররা ভারি কিছু একটা তুলতে তুলতে গান জুড়েছে।

সাবাস, জোয়ান, হে’ই-ও!

ভাঙা, কিন্তু বেশ মিষ্টি চড়া গলায় কে একজন আগে আগে গাইছে। আর অন্য সবাই দোহার ধরছে কর্কশ গলায়:

হাত লাগাও, জোর হাত লাগাও।

প্রচণ্ড আওয়াজ করে এবার কী যেন নড়ে উঠল।

হেই… মারো ঠেলা,

সব ঠিক হায়,

কুত্তি তব ভি বৈঠা হায়।

বাক্স থেকে এবার মাথা বের করলুম। দেখলুম, যবের রুটির টুকরোর চারপাশে পিপড়েরা যে ভাবে ঘিরে দাঁড়ায় সেইভাবে মজুররাও প্রকান্ড একটা মরচে-ধরা কপিকলকে ঘিরে ধরে গড়ানো লোহার পাতের ওপর দিয়ে একটা মস্তখোলা মালগাড়ির ওপর সেটাকে টেনে তুলছে। ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকা মূল গায়েন এই সময়ে ফের শুরু করল:

হেই… লাথসে ভাগ রহা নিকোলাই,

হেই… উসিসে ফায়দা ক্যা উঠা ভাই!

আবার একটা ঝনঝন আওয়াজ উঠল।

আ যা, ভেইয়া, বান্ধ লে কোমর, দরিয়ামে ডাল দে আলেককো লে কর।

এরপর আবার একটা ঝন আর তারপর ধূপ করে একটা জোর আওয়াজ। দেখি, দুম্বো কপিকলটা এবার মালগাড়ির ওপর চেপে বসেছে। গান থেমে গিয়ে এবার একটা হল্লা উঠল, অনেকে একসঙ্গে চে’চাচ্ছে, কথা বলছে, দিব্যি গালছে।

‘হ্যাঁ, গান বটে একখানা!’ মনে মনে ভাবলুম। ‘কিন্তু ওই আলেটা কে আবার? কে আর হবে, নিশ্চয়ই কেরোস্কি! আজামাসে অবিশ্যি অমন গান গাইলে আর দেখতে হত না, সঙ্গে সঙ্গেই পুলিপোলাও চালান হয়ে যেত। এখানে কিন্তু স্থানীয় রক্ষী-বাহিনীর লোক দিব্যি মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কিছুটি কানে যাচ্ছে না।’

নোংরা পুঁচকে স্টিমারটা নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে ছিল স্টিমার-ঘাটায়। স্টিমার ভাড়া পঞ্চাশ কোপেক আমার সঙ্গে ছিল না, এদিকে স্টিমারে ওঠার সরু পথটার মুখে পাহারা দিচ্ছে একজন টিকিট কালেক্টর আর রাইফেল কাঁধে এক মাল্লা।