০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

শিরোপার লড়াইয়ে পেনাল্টি এখন আলাদা বিজ্ঞান, ভাগ্যের নয় প্রস্তুতির খেলা

একসময় ফুটবলে পেনাল্টি শুটআউটকে ভাগ্যের খেলা বলা হতো। কিন্তু সময় বদলেছে। বর্তমান বিশ্বকাপে পেনাল্টিকে আর কেবল সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। খেলোয়াড়, কোচ এবং গোলরক্ষকদের কাছে এটি এখন বিশেষ দক্ষতা, মানসিক প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আলাদা অধ্যায়।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি শুটআউটের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই বড় দলগুলো এখন নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি, শরীরী ভাষা এবং প্রতিপক্ষের প্রবণতা বিশ্লেষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

মরক্কো ও প্যারাগুয়ের সাফল্য বদলে দিয়েছে ভাবনা

এবারের বিশ্বকাপে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে মরক্কো ও প্যারাগুয়ে ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিয়ে দেখিয়েছে, সঠিক প্রস্তুতি কতটা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

এদিকে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে নাটকীয় জয় এনে দেন ইউরি টিলেমান্স। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, কয়েক দিনের ধারাবাহিক অনুশীলনই চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

মানসিক চাপই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনাল্টিতে সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষ নয়, নিজের মানসিক চাপ সামলানো। অনেক খেলোয়াড় চাপের কারণে খুব দ্রুত শট নিতে চান, যা ভুলের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পেনাল্টি মিস করেন তাদের অনেকেই হতাশায় মাথা নিচু করে ফেলেন, মাটিতে বসে পড়েন, মুখ ঢেকে ফেলেন বা সতীর্থদের এড়িয়ে চলেন। এমন অভিজ্ঞতা অনেক তরুণ ফুটবলারের ক্যারিয়ারে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।

England's soccer team used to dread penalty shootouts. Here's why they've  come to embrace them | AP News

ইংল্যান্ডের পরিবর্তনের গল্প

এক সময় বড় টুর্নামেন্টে পেনাল্টি শুটআউটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার জন্য ইংল্যান্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। পরে তারা এই দুর্বলতাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এখন জাতীয় দলের প্রতিটি ক্যাম্পেই পেনাল্টি অনুশীলন বিশেষ কর্মসূচির অংশ।

বর্তমান কোচিং স্টাফও মনে করেন, নকআউট ম্যাচে পেনাল্টি অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। তাই এটি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত করার বিকল্প নেই।

সবাই পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ নন

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যেমন ফ্রি-কিক বা কর্নারের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ থাকেন, তেমনি পেনাল্টির জন্যও আলাদা দক্ষ খেলোয়াড় প্রয়োজন। শুধু ভালো ফুটবলার হলেই ভালো পেনাল্টি নেওয়া যায় না। মানসিক দৃঢ়তা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মুহূর্তে স্থির থাকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গোলরক্ষকদের নতুন বিপ্লব

শুধু পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়ই নয়, গোলরক্ষকদের প্রস্তুতিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ভিডিও বিশ্লেষণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রতিপক্ষের অভ্যাস নিয়ে বিস্তর গবেষণা এখন নিয়মিত বিষয়।

বিশ্বকাপে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু এ ক্ষেত্রে দারুণ উদাহরণ। তিনি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে শেষ মুহূর্তে শরীরের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ব্যবহার করেন। এতে শট নেওয়া খেলোয়াড় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শুটআউটে তার এই কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অনুশীলনের নতুন ধরন

এখন অনেক দল ম্যাচের মতো পরিবেশ তৈরি করে পুরো শুটআউট অনুশীলন করছে। খেলোয়াড়রা মাঝমাঠ থেকে হাঁটতে হাঁটতে পেনাল্টি স্পটে যান, রেফারির বাঁশির অপেক্ষা করেন এবং বাস্তব ম্যাচের চাপ অনুভব করার চেষ্টা করেন। কোচরা এ সময় খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা, আত্মবিশ্বাস এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রস্তুতি যতই নিখুঁত হোক, পেনাল্টির চাপ কখনও পুরোপুরি দূর করা যায় না। তবু আধুনিক ফুটবল দেখিয়ে দিচ্ছে, সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়াতে ভাগ্যের চেয়ে পরিকল্পনা, অনুশীলন এবং মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্বই এখন সবচেয়ে বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

শিরোপার লড়াইয়ে পেনাল্টি এখন আলাদা বিজ্ঞান, ভাগ্যের নয় প্রস্তুতির খেলা

০৫:০০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

একসময় ফুটবলে পেনাল্টি শুটআউটকে ভাগ্যের খেলা বলা হতো। কিন্তু সময় বদলেছে। বর্তমান বিশ্বকাপে পেনাল্টিকে আর কেবল সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। খেলোয়াড়, কোচ এবং গোলরক্ষকদের কাছে এটি এখন বিশেষ দক্ষতা, মানসিক প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আলাদা অধ্যায়।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি শুটআউটের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই বড় দলগুলো এখন নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি, শরীরী ভাষা এবং প্রতিপক্ষের প্রবণতা বিশ্লেষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

মরক্কো ও প্যারাগুয়ের সাফল্য বদলে দিয়েছে ভাবনা

এবারের বিশ্বকাপে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে মরক্কো ও প্যারাগুয়ে ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিয়ে দেখিয়েছে, সঠিক প্রস্তুতি কতটা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

এদিকে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে নাটকীয় জয় এনে দেন ইউরি টিলেমান্স। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, কয়েক দিনের ধারাবাহিক অনুশীলনই চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

মানসিক চাপই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনাল্টিতে সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষ নয়, নিজের মানসিক চাপ সামলানো। অনেক খেলোয়াড় চাপের কারণে খুব দ্রুত শট নিতে চান, যা ভুলের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পেনাল্টি মিস করেন তাদের অনেকেই হতাশায় মাথা নিচু করে ফেলেন, মাটিতে বসে পড়েন, মুখ ঢেকে ফেলেন বা সতীর্থদের এড়িয়ে চলেন। এমন অভিজ্ঞতা অনেক তরুণ ফুটবলারের ক্যারিয়ারে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।

England's soccer team used to dread penalty shootouts. Here's why they've  come to embrace them | AP News

ইংল্যান্ডের পরিবর্তনের গল্প

এক সময় বড় টুর্নামেন্টে পেনাল্টি শুটআউটে ধারাবাহিক ব্যর্থতার জন্য ইংল্যান্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। পরে তারা এই দুর্বলতাকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এখন জাতীয় দলের প্রতিটি ক্যাম্পেই পেনাল্টি অনুশীলন বিশেষ কর্মসূচির অংশ।

বর্তমান কোচিং স্টাফও মনে করেন, নকআউট ম্যাচে পেনাল্টি অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। তাই এটি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নত করার বিকল্প নেই।

সবাই পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ নন

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যেমন ফ্রি-কিক বা কর্নারের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ থাকেন, তেমনি পেনাল্টির জন্যও আলাদা দক্ষ খেলোয়াড় প্রয়োজন। শুধু ভালো ফুটবলার হলেই ভালো পেনাল্টি নেওয়া যায় না। মানসিক দৃঢ়তা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মুহূর্তে স্থির থাকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গোলরক্ষকদের নতুন বিপ্লব

শুধু পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়ই নয়, গোলরক্ষকদের প্রস্তুতিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ভিডিও বিশ্লেষণ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রতিপক্ষের অভ্যাস নিয়ে বিস্তর গবেষণা এখন নিয়মিত বিষয়।

বিশ্বকাপে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু এ ক্ষেত্রে দারুণ উদাহরণ। তিনি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে শেষ মুহূর্তে শরীরের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ব্যবহার করেন। এতে শট নেওয়া খেলোয়াড় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শুটআউটে তার এই কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অনুশীলনের নতুন ধরন

এখন অনেক দল ম্যাচের মতো পরিবেশ তৈরি করে পুরো শুটআউট অনুশীলন করছে। খেলোয়াড়রা মাঝমাঠ থেকে হাঁটতে হাঁটতে পেনাল্টি স্পটে যান, রেফারির বাঁশির অপেক্ষা করেন এবং বাস্তব ম্যাচের চাপ অনুভব করার চেষ্টা করেন। কোচরা এ সময় খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা, আত্মবিশ্বাস এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রস্তুতি যতই নিখুঁত হোক, পেনাল্টির চাপ কখনও পুরোপুরি দূর করা যায় না। তবু আধুনিক ফুটবল দেখিয়ে দিচ্ছে, সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়াতে ভাগ্যের চেয়ে পরিকল্পনা, অনুশীলন এবং মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্বই এখন সবচেয়ে বেশি।