০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলো, নতুন বছরে সংকটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা

নতুন বছরের শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। এতে নিয়মিত আয়ের জন্য এসব সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সংশোধিত সুদের হার কার্যকর হয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর দ্বিতীয় দফা। ২০২৬ সালের শুরুতে এসে অনেক সঞ্চয়কারীর জন্য আর্থিক নিরাপত্তার জায়গাটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সঞ্চয়পত্রে নির্ভরশীল পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তরা
জাতীয় সঞ্চয়পত্র বা সঞ্চয়পত্র সাধারণত দৈনন্দিন সংসার খরচ, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষাব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে পেনশনভোগী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।

পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে নতুন হার
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে। আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পেনশনভোগীদের সঞ্চয়পত্রেও কাটছাঁট
পেনশনভোগী সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এখানেও মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ে পরিবর্তন
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। তিন মাস মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এখন পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে তা ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বেশি অঙ্কের বিনিয়োগে এই হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মুনাফা কমার প্রভাব আরও বেশি পড়ছে। এতে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে কার্যত দুটি আলাদা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য ও ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামগ্রিক রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমিয়ে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি ঋণের চাপ কমানো এবং মানুষকে ব্যাংকে অর্থ রাখার দিকে উৎসাহিত করা, যাতে ব্যাংক খাতে তারল্য ও ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ে।

পুরোনো সঞ্চয়পত্রে আগের হারই বহাল
তবে ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা সঞ্চয়পত্রগুলো মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আগের নির্ধারিত মুনাফার হারেই চলবে। নতুন হার প্রযোজ্য হবে কেবল নতুন বিনিয়োগ বা মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলো, নতুন বছরে সংকটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা

০৭:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। এতে নিয়মিত আয়ের জন্য এসব সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সংশোধিত সুদের হার কার্যকর হয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর দ্বিতীয় দফা। ২০২৬ সালের শুরুতে এসে অনেক সঞ্চয়কারীর জন্য আর্থিক নিরাপত্তার জায়গাটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সঞ্চয়পত্রে নির্ভরশীল পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তরা
জাতীয় সঞ্চয়পত্র বা সঞ্চয়পত্র সাধারণত দৈনন্দিন সংসার খরচ, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষাব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে পেনশনভোগী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।

পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে নতুন হার
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে। আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পেনশনভোগীদের সঞ্চয়পত্রেও কাটছাঁট
পেনশনভোগী সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এখানেও মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ে পরিবর্তন
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। তিন মাস মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এখন পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে তা ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বেশি অঙ্কের বিনিয়োগে এই হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মুনাফা কমার প্রভাব আরও বেশি পড়ছে। এতে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে কার্যত দুটি আলাদা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য ও ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামগ্রিক রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমিয়ে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি ঋণের চাপ কমানো এবং মানুষকে ব্যাংকে অর্থ রাখার দিকে উৎসাহিত করা, যাতে ব্যাংক খাতে তারল্য ও ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ে।

পুরোনো সঞ্চয়পত্রে আগের হারই বহাল
তবে ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা সঞ্চয়পত্রগুলো মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আগের নির্ধারিত মুনাফার হারেই চলবে। নতুন হার প্রযোজ্য হবে কেবল নতুন বিনিয়োগ বা মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।