১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: আইন শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই বার কাউন্সিলের

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, আইন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (BCI) নেই। আদালত স্পষ্ট করেছে, ১৯৬১ সালের অ্যাডভোকেটস অ্যাক্টের অধীনে বার কাউন্সিলের শাস্তিমূলক ক্ষমতা কেবল নিবন্ধিত আইনজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নালসার শিক্ষার্থীদের ঘিরে বিতর্ক

হায়দরাবাদের নালসার ল’ ইউনিভার্সিটির (NALSAR) ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করা হয়েছিল। নালসারের দুই সাবেক শিক্ষার্থী বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এবং এর চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আবেদন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হিসেবে পেশাগতভাবে নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় BCI। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

আবেদনে বলা হয়, BCI-এর চিঠিগুলো শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকারের ওপর ভীতিকর প্রভাব তৈরি করেছিল।

BCI-এর চিঠি প্রত্যাহার

মামলার শুনানিতে BCI চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্র নিজে আদালতে উপস্থিত হন। তিনি জানান, নালসার কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং রাজ্য বার কাউন্সিলগুলোকে শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধন আটকে দেওয়ার বিষয়ে পাঠানো চিঠি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

মিশ্রের বক্তব্য ছিল, চিঠিগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই বিষয়ে আর কোনো আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এরপর সুপ্রিম কোর্টও ওই চিঠিগুলোকে অকার্যকর বা ‘obsolete’ বলে ঘোষণা করে।

শুধু নিবন্ধিত আইনজীবীদের ওপর শাস্তিমূলক ক্ষমতা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মূল বিষয়টি হলো—অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট, ১৯৬১-এর অধীনে BCI-এর শাস্তিমূলক ক্ষমতার পরিধি আইন শিক্ষার্থীদের পর্যন্ত বিস্তৃত নয়। এই ক্ষমতা নিবন্ধিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ফলে আইন শিক্ষার্থীদের পেশাগত নিবন্ধন ঠেকিয়ে দেওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে BCI-এর এমন ক্ষমতা নেই বলে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।

রায়টি আসে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি মূলত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে BCI-এর নেওয়া উদ্যোগ এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া সাংবিধানিক অধিকারসংক্রান্ত উদ্বেগকে কেন্দ্র করে আদালতে ওঠে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে আইন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের শাস্তিমূলক ক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: আইন শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই বার কাউন্সিলের

০৮:২৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, আইন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (BCI) নেই। আদালত স্পষ্ট করেছে, ১৯৬১ সালের অ্যাডভোকেটস অ্যাক্টের অধীনে বার কাউন্সিলের শাস্তিমূলক ক্ষমতা কেবল নিবন্ধিত আইনজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

নালসার শিক্ষার্থীদের ঘিরে বিতর্ক

হায়দরাবাদের নালসার ল’ ইউনিভার্সিটির (NALSAR) ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করা হয়েছিল। নালসারের দুই সাবেক শিক্ষার্থী বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এবং এর চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আবেদন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হিসেবে পেশাগতভাবে নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় BCI। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

আবেদনে বলা হয়, BCI-এর চিঠিগুলো শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকারের ওপর ভীতিকর প্রভাব তৈরি করেছিল।

BCI-এর চিঠি প্রত্যাহার

মামলার শুনানিতে BCI চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্র নিজে আদালতে উপস্থিত হন। তিনি জানান, নালসার কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং রাজ্য বার কাউন্সিলগুলোকে শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধন আটকে দেওয়ার বিষয়ে পাঠানো চিঠি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

মিশ্রের বক্তব্য ছিল, চিঠিগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই বিষয়ে আর কোনো আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এরপর সুপ্রিম কোর্টও ওই চিঠিগুলোকে অকার্যকর বা ‘obsolete’ বলে ঘোষণা করে।

শুধু নিবন্ধিত আইনজীবীদের ওপর শাস্তিমূলক ক্ষমতা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মূল বিষয়টি হলো—অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট, ১৯৬১-এর অধীনে BCI-এর শাস্তিমূলক ক্ষমতার পরিধি আইন শিক্ষার্থীদের পর্যন্ত বিস্তৃত নয়। এই ক্ষমতা নিবন্ধিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ফলে আইন শিক্ষার্থীদের পেশাগত নিবন্ধন ঠেকিয়ে দেওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে BCI-এর এমন ক্ষমতা নেই বলে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।

রায়টি আসে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি মূলত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে BCI-এর নেওয়া উদ্যোগ এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া সাংবিধানিক অধিকারসংক্রান্ত উদ্বেগকে কেন্দ্র করে আদালতে ওঠে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে আইন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের শাস্তিমূলক ক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হলো।