০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

সোনার দামে জোরালো উল্লম্ফন, দুর্বল ডলার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদায় বাড়ছে আস্থা

  • Sarakhon Report
  • ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • 70

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবারও শক্তিশালী উত্থান দেখিয়েছে। ডলারের দুর্বলতা, বন্ডের ফলন কমে আসা এবং তেলের দাম নরম হওয়ার প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক ক্রয় কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারকে শক্ত ভিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাজারে নতুন গতি

সাম্প্রতিক লেনদেনে প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫০৫ ডলারের বেশি হয়েছে। একই সময়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির সোনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হওয়া এবং জ্বালানি বাজারে চাপ কমার ফলে মুদ্রা ও বন্ডবাজারে পরিবর্তন দেখা দেয়, যার সুফল পেয়েছে সোনা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কেন সোনা কিনছে

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দামের অন্যতম বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়। ব্যক্তিগত বা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মতো নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সোনা সংগ্রহ করে থাকে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, সরকারি ঋণের বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়ার কারণে অনেক দেশ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করছে। এ কারণে সোনা এখন আর শুধু মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌম সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আগ্রহ

বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো সোনার মজুত বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম সোনা ধারণ করলেও এখন তারা রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণের অংশ হিসেবে ক্রয় বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো একক মুদ্রাকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা নয়; বরং অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে ঝুঁকি ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল।

Gold jumps on weaker dollar, Middle East peace hopes

দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অবস্থান

বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সোনার বাজার কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সংশোধন সত্ত্বেও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। গত এক বছরে এবং বিশেষ করে গত দুই বছরে সোনার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ এবং মুদ্রার দীর্ঘমেয়াদি অবমূল্যায়নের আশঙ্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আরও সোনা কেনার দিকে উৎসাহিত করবে।

সামনের দিনে কী হতে পারে

স্বল্পমেয়াদে সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সোনার দামে ওঠানামা তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় প্রবণতা বাজারের জন্য বড় সহায়ক শক্তি হয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘাটতি, ঋণ, বাণিজ্য পুনর্বিন্যাস এবং মূল্যস্ফীতির ধাক্কার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সোনা বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই তার গুরুত্ব ধরে রাখছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। দুর্বল ডলার, কমতে থাকা বন্ড ফলন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা বাজারে নতুন গতি এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

সোনার দামে জোরালো উল্লম্ফন, দুর্বল ডলার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদায় বাড়ছে আস্থা

০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবারও শক্তিশালী উত্থান দেখিয়েছে। ডলারের দুর্বলতা, বন্ডের ফলন কমে আসা এবং তেলের দাম নরম হওয়ার প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক ক্রয় কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারকে শক্ত ভিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাজারে নতুন গতি

সাম্প্রতিক লেনদেনে প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫০৫ ডলারের বেশি হয়েছে। একই সময়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির সোনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হওয়া এবং জ্বালানি বাজারে চাপ কমার ফলে মুদ্রা ও বন্ডবাজারে পরিবর্তন দেখা দেয়, যার সুফল পেয়েছে সোনা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কেন সোনা কিনছে

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দামের অন্যতম বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়। ব্যক্তিগত বা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মতো নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সোনা সংগ্রহ করে থাকে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, সরকারি ঋণের বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়ার কারণে অনেক দেশ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করছে। এ কারণে সোনা এখন আর শুধু মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌম সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আগ্রহ

বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো সোনার মজুত বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম সোনা ধারণ করলেও এখন তারা রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণের অংশ হিসেবে ক্রয় বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো একক মুদ্রাকে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা নয়; বরং অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে ঝুঁকি ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল।

Gold jumps on weaker dollar, Middle East peace hopes

দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অবস্থান

বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সোনার বাজার কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সংশোধন সত্ত্বেও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। গত এক বছরে এবং বিশেষ করে গত দুই বছরে সোনার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ এবং মুদ্রার দীর্ঘমেয়াদি অবমূল্যায়নের আশঙ্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আরও সোনা কেনার দিকে উৎসাহিত করবে।

সামনের দিনে কী হতে পারে

স্বল্পমেয়াদে সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সোনার দামে ওঠানামা তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় প্রবণতা বাজারের জন্য বড় সহায়ক শক্তি হয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘাটতি, ঋণ, বাণিজ্য পুনর্বিন্যাস এবং মূল্যস্ফীতির ধাক্কার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সোনা বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই তার গুরুত্ব ধরে রাখছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। দুর্বল ডলার, কমতে থাকা বন্ড ফলন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা বাজারে নতুন গতি এনেছে।