০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণসীমা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বড় ঋণ বিতরণে খুলল নতুন সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখায় দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা পুরোপুরি তুলে দিয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো এখন যথাযথ যাচাই-বাছাই ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার আওতায় ঢাকার লোকাল অফিস, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা, শিল্প ভবন করপোরেট শাখা, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখা থেকে ঋণ বিতরণে আর কোনো নির্ধারিত সীমা থাকবে না। সোনালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

ঋণসীমা প্রত্যাহারের আগে এসব শাখায় শাখাভেদে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের সীমা কার্যকর ছিল।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণসীমা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

ব্যাংকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের অধিকাংশ বড় ও সুনামধন্য গ্রাহকের হিসাব এই পাঁচটি শাখায় পরিচালিত হয়। কিন্তু বিদ্যমান ঋণসীমার কারণে এসব গ্রাহকের অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সব শাখায় সমানভাবে ঋণ অনুমোদনের সুযোগ

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সোনালী ব্যাংকের সব শাখাই এখন প্রচলিত ঝুঁকি মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য গ্রাহকদের ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের সুযোগ পাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে এবং বিতর্কিত বা উচ্চ ঝুঁকির ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পূর্বের ঋণসীমার কারণে অনেক যোগ্য গ্রাহককে অর্থায়ন দেওয়া সম্ভব হতো না। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া সহজ হবে।

সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধতা

এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণ বিতরণের সীমাবদ্ধতা কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল। পরে বহুল আলোচিত হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর নজরদারি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক লোকাল অফিস শাখার ঋণসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করে। পরে জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংক সব ধরনের সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি শাখার বাকি সব ঋণসীমাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের পথ উন্মুক্ত করেছে, তবে যথাযথ যাচাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণসীমা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বড় ঋণ বিতরণে খুলল নতুন সুযোগ

০৭:১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখায় দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা পুরোপুরি তুলে দিয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো এখন যথাযথ যাচাই-বাছাই ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার আওতায় ঢাকার লোকাল অফিস, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা, শিল্প ভবন করপোরেট শাখা, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখা থেকে ঋণ বিতরণে আর কোনো নির্ধারিত সীমা থাকবে না। সোনালী ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

ঋণসীমা প্রত্যাহারের আগে এসব শাখায় শাখাভেদে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের সীমা কার্যকর ছিল।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণসীমা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

ব্যাংকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের অধিকাংশ বড় ও সুনামধন্য গ্রাহকের হিসাব এই পাঁচটি শাখায় পরিচালিত হয়। কিন্তু বিদ্যমান ঋণসীমার কারণে এসব গ্রাহকের অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

সব শাখায় সমানভাবে ঋণ অনুমোদনের সুযোগ

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সোনালী ব্যাংকের সব শাখাই এখন প্রচলিত ঝুঁকি মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য গ্রাহকদের ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদনের সুযোগ পাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে এবং বিতর্কিত বা উচ্চ ঝুঁকির ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সোনালী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পূর্বের ঋণসীমার কারণে অনেক যোগ্য গ্রাহককে অর্থায়ন দেওয়া সম্ভব হতো না। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত গ্রাহকদের ঋণ দেওয়া সহজ হবে।

সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমাবদ্ধতা

এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ঋণ বিতরণের সীমাবদ্ধতা কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল। পরে বহুল আলোচিত হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর নজরদারি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক লোকাল অফিস শাখার ঋণসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করে। পরে জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংক সব ধরনের সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি শাখার বাকি সব ঋণসীমাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়নের পথ উন্মুক্ত করেছে, তবে যথাযথ যাচাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে।