০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

সৌদি আরবে মদের দোকান খুলে নতুন ধাঁধা: কেনা বৈধ, পান কি বেআইনি

Riyadh skyline at night #7, Capital of Saudi Arabia

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মদ নিষিদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় সেই পরিচয়ে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফাটল ধরেছে। দুই বছর আগে দেশটিতে প্রথমবারের মতো একটি মদের দোকান চালু হয়। শুরুতে সেটি কেবল অমুসলিম কূটনীতিকদের জন্য সীমিত ছিল। তবে গত নভেম্বর মাসে নীরবে সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও প্রবাসী মহলে দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে যে বিশেষ আবাসিক ভিসাধারী বা মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি বেতন পাওয়া বিদেশিরা এখন সেই দোকানে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন।

দোকানটি খুঁজে পাওয়াই এক ধরনের পরীক্ষা। মানচিত্রে তার কোনো নাম নেই, ভেতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ, মোবাইল ফোন সিল করা ব্যাগে রেখে ঢুকতে হয়। দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও আগের অবৈধ বাজারের তুলনায় অনেক কম। একসময় রিয়াদের অনিশ্চিত কালোবাজারে যে বোতলের দাম ছিল আকাশছোঁয়া, এখন তা নিয়ন্ত্রিত হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

কেনা গেলেও ব্যবহার নিয়ে ধোঁয়াশা

দোকান থেকে বের হওয়ার পরই শুরু হয় আসল বিভ্রান্তি। নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক কোটায় মদ কেনা যায়, যেখানে মাসিক বরাদ্দ এত বেশি যে তা একা ভোগের জন্য নয়, বরং ভাগাভাগির ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কম আয়ের সহকর্মীর জন্য মদ কেনা কি বৈধ। কিংবা কোনো নৈশভোজে মুসলিম বন্ধুকে তা পরিবেশন করা যাবে কি না। এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।

সংস্কারের সঙ্গে অস্পষ্টতার সহাবস্থান

গত এক দশকে সৌদি আরব সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। বিদেশি নারীদের জন্য আবায়া বাধ্যতামূলক থাকার নিয়ম বাতিল হয়েছে, পোশাক নিয়ে আইনে এখন শুধু শালীনতার কথা বলা হয়। কিন্তু শালীনতার সংজ্ঞা কোথায় শেষ, তা প্রায়ই নির্ভর করে কর্তৃত্বশীল চোখের ওপর। কোনো পর্যটন শহরে সাঁতারের পোশাকে ছবি তোলা গেলেও রাজধানীতে হাঁটুসমান স্কার্টে জরিমানা হওয়ার নজির আছে। এমন বৈপরীত্য দেশটির দৈনন্দিন বাস্তবতায় নতুন নয়।

গালফ অঞ্চলের পুরোনো দ্বন্দ্ব

এই ধরনের আইনগত দ্বিধা শুধু সৌদি আরবেই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দেখা গেছে। আধুনিকতা আর রক্ষণশীলতার টানাপোড়েনে কোথাও কোথাও আইন প্রয়োগ নিজেই সমস্যার জন্ম দিয়েছে। অতীতে এক শহরে কেনা জিনিস পাশের এলাকায় বহন করাই হয়ে উঠত অপরাধ, আর সেই সুযোগে প্রতারণার ঘটনাও ঘটেছে।

পরবর্তী ধাপ কোন পথে

ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ব্যক্তিগত ঘরের বাইরে সীমিত পরিসরে মদ পরিবেশনের অনুমতি দেওয়া। পর্যটন এলাকাগুলোর কিছু হোটেল ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। হালকা পানীয় দিয়ে শুরু হতে পারে এই পরিবর্তন। তবে সেই ক্ষেত্রে আরেক নতুন প্রশ্ন সামনে আসবে, পরিবেশন করা যাবে, কিন্তু পরিবেশনকারী নিজে কি তা পান করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

সৌদি আরবে মদের দোকান খুলে নতুন ধাঁধা: কেনা বৈধ, পান কি বেআইনি

০৩:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মদ নিষিদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় সেই পরিচয়ে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফাটল ধরেছে। দুই বছর আগে দেশটিতে প্রথমবারের মতো একটি মদের দোকান চালু হয়। শুরুতে সেটি কেবল অমুসলিম কূটনীতিকদের জন্য সীমিত ছিল। তবে গত নভেম্বর মাসে নীরবে সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও প্রবাসী মহলে দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে যে বিশেষ আবাসিক ভিসাধারী বা মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি বেতন পাওয়া বিদেশিরা এখন সেই দোকানে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন।

দোকানটি খুঁজে পাওয়াই এক ধরনের পরীক্ষা। মানচিত্রে তার কোনো নাম নেই, ভেতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ, মোবাইল ফোন সিল করা ব্যাগে রেখে ঢুকতে হয়। দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও আগের অবৈধ বাজারের তুলনায় অনেক কম। একসময় রিয়াদের অনিশ্চিত কালোবাজারে যে বোতলের দাম ছিল আকাশছোঁয়া, এখন তা নিয়ন্ত্রিত হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

কেনা গেলেও ব্যবহার নিয়ে ধোঁয়াশা

দোকান থেকে বের হওয়ার পরই শুরু হয় আসল বিভ্রান্তি। নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক কোটায় মদ কেনা যায়, যেখানে মাসিক বরাদ্দ এত বেশি যে তা একা ভোগের জন্য নয়, বরং ভাগাভাগির ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কম আয়ের সহকর্মীর জন্য মদ কেনা কি বৈধ। কিংবা কোনো নৈশভোজে মুসলিম বন্ধুকে তা পরিবেশন করা যাবে কি না। এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।

সংস্কারের সঙ্গে অস্পষ্টতার সহাবস্থান

গত এক দশকে সৌদি আরব সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। বিদেশি নারীদের জন্য আবায়া বাধ্যতামূলক থাকার নিয়ম বাতিল হয়েছে, পোশাক নিয়ে আইনে এখন শুধু শালীনতার কথা বলা হয়। কিন্তু শালীনতার সংজ্ঞা কোথায় শেষ, তা প্রায়ই নির্ভর করে কর্তৃত্বশীল চোখের ওপর। কোনো পর্যটন শহরে সাঁতারের পোশাকে ছবি তোলা গেলেও রাজধানীতে হাঁটুসমান স্কার্টে জরিমানা হওয়ার নজির আছে। এমন বৈপরীত্য দেশটির দৈনন্দিন বাস্তবতায় নতুন নয়।

গালফ অঞ্চলের পুরোনো দ্বন্দ্ব

এই ধরনের আইনগত দ্বিধা শুধু সৌদি আরবেই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দেখা গেছে। আধুনিকতা আর রক্ষণশীলতার টানাপোড়েনে কোথাও কোথাও আইন প্রয়োগ নিজেই সমস্যার জন্ম দিয়েছে। অতীতে এক শহরে কেনা জিনিস পাশের এলাকায় বহন করাই হয়ে উঠত অপরাধ, আর সেই সুযোগে প্রতারণার ঘটনাও ঘটেছে।

পরবর্তী ধাপ কোন পথে

ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ব্যক্তিগত ঘরের বাইরে সীমিত পরিসরে মদ পরিবেশনের অনুমতি দেওয়া। পর্যটন এলাকাগুলোর কিছু হোটেল ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। হালকা পানীয় দিয়ে শুরু হতে পারে এই পরিবর্তন। তবে সেই ক্ষেত্রে আরেক নতুন প্রশ্ন সামনে আসবে, পরিবেশন করা যাবে, কিন্তু পরিবেশনকারী নিজে কি তা পান করতে পারবেন।