০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, আউন্সপ্রতি ছাড়াল ৪৪০০ ডলার

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলার অতিক্রম করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় স্বর্ণের প্রতি চাহিদা তীব্র হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সোমবার স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪২০ ডলারে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও দাম রেকর্ড উচ্চতায়ই থাকে। চলতি বছরের শুরুতে যেখানে স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬০০ ডলার, সেখানে কয়েক মাসের ব্যবধানে এই বড় উল্লম্ফন বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সুদের হার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী বছর সুদের হার আরও কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণমুখী করছে। সাধারণত সুদের হার কমলে বন্ডের মতো বিনিয়োগে লাভ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন।

এর পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যনীতিতে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের চাহিদা বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য টানাপোড়েনও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ আরও বেড়েছে।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ
বুলিয়নভল্টের গবেষণা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান অ্যাশ জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৬৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। তার মতে, সুদের হার কমার ধারা, যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনার মতো বিষয়গুলো ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডলার দুর্বল হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে এবং দাম বৃদ্ধিতে গতি এসেছে।

রুপা ও প্লাটিনামেও রেকর্ড উত্থান
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রেও চলতি বছর রেকর্ডের সাক্ষী হচ্ছে বাজার। সোমবার রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৬৯ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৩৮ শতাংশ।

প্লাটিনামের দামও ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের কারণে রুপা ও প্লাটিনাম স্বর্ণের তুলনায় আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। শিল্প উৎপাদনে রুপা ও প্লাটিনামের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এসব ধাতুর চাহিদা স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, যা দাম বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, আউন্সপ্রতি ছাড়াল ৪৪০০ ডলার

০৮:১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলার অতিক্রম করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় স্বর্ণের প্রতি চাহিদা তীব্র হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সোমবার স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪২০ ডলারে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও দাম রেকর্ড উচ্চতায়ই থাকে। চলতি বছরের শুরুতে যেখানে স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬০০ ডলার, সেখানে কয়েক মাসের ব্যবধানে এই বড় উল্লম্ফন বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সুদের হার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী বছর সুদের হার আরও কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণমুখী করছে। সাধারণত সুদের হার কমলে বন্ডের মতো বিনিয়োগে লাভ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন।

এর পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যনীতিতে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের চাহিদা বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য টানাপোড়েনও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ আরও বেড়েছে।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ
বুলিয়নভল্টের গবেষণা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান অ্যাশ জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৬৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। তার মতে, সুদের হার কমার ধারা, যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনার মতো বিষয়গুলো ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডলার দুর্বল হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে এবং দাম বৃদ্ধিতে গতি এসেছে।

রুপা ও প্লাটিনামেও রেকর্ড উত্থান
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রেও চলতি বছর রেকর্ডের সাক্ষী হচ্ছে বাজার। সোমবার রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৬৯ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৩৮ শতাংশ।

প্লাটিনামের দামও ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের কারণে রুপা ও প্লাটিনাম স্বর্ণের তুলনায় আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। শিল্প উৎপাদনে রুপা ও প্লাটিনামের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এসব ধাতুর চাহিদা স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, যা দাম বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।