০৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

স্বেচ্ছাসেবায় করপোরেট জাগরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চায় সিঙ্গাপুর

সামাজিক উন্নয়ন ও কমিউনিটি সেবায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। নতুন এক স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠান ও ৬ হাজার কর্মীকে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

‘ভলান্টিয়ারইনক’ নামে এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন। সংস্কৃতি, কমিউনিটি ও যুব মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক অবদান আরও কার্যকর ও সংগঠিত করা।

করপোরেট স্বেচ্ছাসেবায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত সংস্কৃতি, কমিউনিটি ও যুবমন্ত্রী ডেভিড নিও বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুধু মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়, তারা সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী চালিকাশক্তিও হতে পারে।

New volunteering scheme for firms launched as businesses with social impact  keep Singapore's edge: David Neo - CNA

তার মতে, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য কাজ করাও এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড় দায়িত্ব। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনামই বাড়ে না, সমাজে আস্থা ও সংহতিও শক্তিশালী হয়।

তিনি আরও বলেন, ভালো চাকরি শুধু আয় নিশ্চিত করে না, এটি মানুষের মর্যাদা, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক অগ্রগতির পথ তৈরি করে।

সমাজসেবায় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সহায়তা

এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শুধু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে না, বরং তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সহায়তা ও প্রভাব মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সামাজিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হলেও কার্যকর বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবায় প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ

What Is Corporate Volunteering?: How and Why Singapore Companies Can Grow  By Giving Back - National Volunteer And Philanthropy Centre

ইতোমধ্যে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঋণ বীমা প্রতিষ্ঠান কোফেস। গত নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি ১০টি স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার মাধ্যমে ১৩০ জনের বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

তাদের আয়োজনের মধ্যে ছিল প্রবীণদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কার্যক্রম। এছাড়া শিক্ষার্থী ও প্রবীণদের নিয়ে আন্তঃপ্রজন্ম ক্রীড়া আয়োজনও করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক সংযোগ তৈরি করেছে।

কোফেসের এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সংগঠন একসঙ্গে পরিকল্পনা করে প্রবীণদের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করাই ছিল সবচেয়ে অর্থবহ অভিজ্ঞতা।

সামাজিক আস্থাকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে সিঙ্গাপুর

ডেভিড নিও মনে করেন, সমাজের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলে। শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া বা সামাজিক সহায়তা—যে ক্ষেত্রেই হোক, মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

তার ভাষায়, পরিবর্তিত বিশ্বে মানুষের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আর সেই আস্থা গড়ে তুলতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

New VolunteerInc programme to link businesses with volunteer opportunities,  making giving back 'easier and more impactful', Singapore News - AsiaOne

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

স্বেচ্ছাসেবায় করপোরেট জাগরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চায় সিঙ্গাপুর

০৩:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সামাজিক উন্নয়ন ও কমিউনিটি সেবায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। নতুন এক স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠান ও ৬ হাজার কর্মীকে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

‘ভলান্টিয়ারইনক’ নামে এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন। সংস্কৃতি, কমিউনিটি ও যুব মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক অবদান আরও কার্যকর ও সংগঠিত করা।

করপোরেট স্বেচ্ছাসেবায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত সংস্কৃতি, কমিউনিটি ও যুবমন্ত্রী ডেভিড নিও বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুধু মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়, তারা সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী চালিকাশক্তিও হতে পারে।

New volunteering scheme for firms launched as businesses with social impact  keep Singapore's edge: David Neo - CNA

তার মতে, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য কাজ করাও এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড় দায়িত্ব। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনামই বাড়ে না, সমাজে আস্থা ও সংহতিও শক্তিশালী হয়।

তিনি আরও বলেন, ভালো চাকরি শুধু আয় নিশ্চিত করে না, এটি মানুষের মর্যাদা, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক অগ্রগতির পথ তৈরি করে।

সমাজসেবায় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সহায়তা

এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শুধু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে না, বরং তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সহায়তা ও প্রভাব মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিঙ্গাপুরের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সামাজিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হলেও কার্যকর বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবায় প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ

What Is Corporate Volunteering?: How and Why Singapore Companies Can Grow  By Giving Back - National Volunteer And Philanthropy Centre

ইতোমধ্যে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঋণ বীমা প্রতিষ্ঠান কোফেস। গত নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি ১০টি স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার মাধ্যমে ১৩০ জনের বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

তাদের আয়োজনের মধ্যে ছিল প্রবীণদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কার্যক্রম। এছাড়া শিক্ষার্থী ও প্রবীণদের নিয়ে আন্তঃপ্রজন্ম ক্রীড়া আয়োজনও করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক সংযোগ তৈরি করেছে।

কোফেসের এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সংগঠন একসঙ্গে পরিকল্পনা করে প্রবীণদের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করাই ছিল সবচেয়ে অর্থবহ অভিজ্ঞতা।

সামাজিক আস্থাকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে সিঙ্গাপুর

ডেভিড নিও মনে করেন, সমাজের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলে। শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া বা সামাজিক সহায়তা—যে ক্ষেত্রেই হোক, মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

তার ভাষায়, পরিবর্তিত বিশ্বে মানুষের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আর সেই আস্থা গড়ে তুলতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

New VolunteerInc programme to link businesses with volunteer opportunities,  making giving back 'easier and more impactful', Singapore News - AsiaOne