০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে দেরিতে ফুটলেও ফুল ফোটে: শেখার কোনো বয়স নেই বিরামপুর সীমান্তে ১২ থেকে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় পিছু হটল বিএসএফ নতুন ছাঁটে চমকে দিলেন কনর স্টোরি, ক্রিয়েটিভ আর্টস এমিসে আত্মপ্রকাশ ‘বাজকাট’ লুকে জঙ্গলে মিলল নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল, পোশাক দেখে শনাক্ত করলেন বাবা কৃষিকে বদলে দিতে বিশ্বব্যাংকের ‘এগ্রিকানেক্ট’, লক্ষ্য ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তদন্ত চান রিজভী শরতের ফ্যাশনে জেন বারকিনের পুরোনো ছবিই আজকের নতুন অনুপ্রেরণা শরতের সাজে সুয়েড জ্যাকেট, ৬ দারুণ স্টাইলিং আইডিয়া সিয়ারা মা হচ্ছেন পঞ্চমবার, রাসেল উইলসনের সঙ্গে আসছে নতুন অতিথি

হাইলাইট: দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন, তবে বন্ধ অনুসন্ধান–মামলা

দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন; কিন্তু সেগুলোর কোনোটি অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না। নতুন মামলা হচ্ছে না, আদালতে জমা দেওয়া যাচ্ছে না অভিযোগপত্র। সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ), বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা কিংবা আসামি গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও কার্যত বন্ধ। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর সাড়ে তিন মাস ধরে এমন অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দেশের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, কমিশন না থাকায় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থেমে আছে। প্রতিদিন পাঁচ–ছয়টি নতুন দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলো অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না। কেননা এতে কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পত্তি জব্দ বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ক্ষেত্রেও কমিশনের অনুমোদন নিতে হয়; কিন্তু গত ৩ মার্চ কমিশনের তিন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার পর থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সাবেক জেলা জজ মির্জা মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন তাঁরা, তবে দায়িত্ব পালন করেন মাত্র এক বছর দুই মাস।

দ্রুত চেয়ারম্যান–কমিশনার নিয়োগের দাবি

ইফতেখারুজ্জামান

ইফতেখারুজ্জামান

আইনে কমিশনের পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। ফলে নতুন কমিশন গঠনের পুরো প্রক্রিয়া সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী কমিশন নিয়োগের জন্য আগে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করতে হয়। এ লক্ষ্যে ২ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারককে মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানায়, সার্চ কমিটির জন্য আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দুজন বিচারপতিকে এরই মধ্যে মনোনীত করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে দ্রুতই মনোনীত করা হবে। এরপর সার্চ কমিটি কাজ শুরু করবে।

‘জেনে–বুঝে দুদককে স্থবির করে রাখা হয়েছে’

নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ফলে দেশের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির কার্যক্রম কবে পুরোপুরি সচল হবে, সে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

দুদক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের পরিবেশ সরকারই সৃষ্টি করেছে। ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন পুনর্গঠন করার বিষয়টিও সরকারের অজানা নয়। জেনে–বুঝে সরকার দুদককে স্থবির করে রেখেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফায় দুর্নীতিবিরোধী যে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছিল, সেটি ফাঁকা বুলি মনে হচ্ছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার লোকদেখানো।

 সূত্রঃ প্রথম আলো

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমালয় বদলে গেছে, এবার নেপালকেও বদলাতে হবে

হাইলাইট: দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন, তবে বন্ধ অনুসন্ধান–মামলা

০১:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন; কিন্তু সেগুলোর কোনোটি অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না। নতুন মামলা হচ্ছে না, আদালতে জমা দেওয়া যাচ্ছে না অভিযোগপত্র। সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ), বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা কিংবা আসামি গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও কার্যত বন্ধ। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর সাড়ে তিন মাস ধরে এমন অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দেশের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, কমিশন না থাকায় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থেমে আছে। প্রতিদিন পাঁচ–ছয়টি নতুন দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলো অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না। কেননা এতে কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পত্তি জব্দ বা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ক্ষেত্রেও কমিশনের অনুমোদন নিতে হয়; কিন্তু গত ৩ মার্চ কমিশনের তিন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার পর থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সাবেক জেলা জজ মির্জা মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন তাঁরা, তবে দায়িত্ব পালন করেন মাত্র এক বছর দুই মাস।

দ্রুত চেয়ারম্যান–কমিশনার নিয়োগের দাবি

ইফতেখারুজ্জামান

ইফতেখারুজ্জামান

আইনে কমিশনের পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। ফলে নতুন কমিশন গঠনের পুরো প্রক্রিয়া সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী কমিশন নিয়োগের জন্য আগে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করতে হয়। এ লক্ষ্যে ২ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারককে মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানায়, সার্চ কমিটির জন্য আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দুজন বিচারপতিকে এরই মধ্যে মনোনীত করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে দ্রুতই মনোনীত করা হবে। এরপর সার্চ কমিটি কাজ শুরু করবে।

‘জেনে–বুঝে দুদককে স্থবির করে রাখা হয়েছে’

নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ফলে দেশের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির কার্যক্রম কবে পুরোপুরি সচল হবে, সে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

দুদক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের পরিবেশ সরকারই সৃষ্টি করেছে। ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন পুনর্গঠন করার বিষয়টিও সরকারের অজানা নয়। জেনে–বুঝে সরকার দুদককে স্থবির করে রেখেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফায় দুর্নীতিবিরোধী যে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছিল, সেটি ফাঁকা বুলি মনে হচ্ছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার লোকদেখানো।

 সূত্রঃ প্রথম আলো