০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

হেগসেথের সঙ্গে বিরোধ, পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব

মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল পি. ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধের মধ্যেই সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যেই পদত্যাগ

ড্রিসকলের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সময়ে ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে।

এ অবস্থায় হেগসেথের বিভিন্ন বরখাস্ত ও বিরোধের কারণে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসে হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরিয়ে দেন। এরপর তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত অন্তত তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকেও পদ থেকে সরানো হয়।

Army secretary resigns after tension with Hegseth - POLITICO

অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরানো নিয়ে ক্ষোভ

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেগসেথের সিদ্ধান্ত নিয়ে ড্রিসকল নিজেও হতাশ ছিলেন। বিশেষ করে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থাকা সেনা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করা কর্নেলদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি ট্রাম্পের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ড্রিসকল সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে পদত্যাগপত্র দেন। বৈঠকে সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় বলে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান।

কে হতে পারেন নতুন সেনাসচিব

ড্রিসকলের পদত্যাগের পর সেনাবাহিনী এখন একজন বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাকেও হারাল। নতুন সেনাসচিব নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পদটি খালি থাকবে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে নতুন প্রার্থীকে দ্রুত সিনেটের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

হেগসেথ পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেলকে নতুন সেনাসচিব হিসেবে চান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে সিনেটের ঘনিষ্ঠ ব্যবধানের কারণে পারনেলের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

US Army Secretary Driscoll resigns after Hegseth dispute — Ajel English

ড্রিসকল ছিলেন তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য

৪০ বছর বয়সী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড্রিসকলকে সম্প্রতি হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হচ্ছিল। কংগ্রেসে তিনি হেগসেথের তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছিলেন বলে দুই কংগ্রেসনাল সহকারী জানান।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার জন্যও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। সেনাবাহিনীর নিজস্ব সরঞ্জাম নিজেরাই মেরামত করতে পারবে—এমন ‘রাইট টু রিপেয়ার’ নীতি চালু করে তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনেরও প্রশংসা পান।

ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

হেগসেথের সঙ্গে বিরোধ, পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব

০৩:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল পি. ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধের মধ্যেই সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যেই পদত্যাগ

ড্রিসকলের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সময়ে ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে।

এ অবস্থায় হেগসেথের বিভিন্ন বরখাস্ত ও বিরোধের কারণে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসে হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরিয়ে দেন। এরপর তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত অন্তত তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকেও পদ থেকে সরানো হয়।

Army secretary resigns after tension with Hegseth - POLITICO

অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরানো নিয়ে ক্ষোভ

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেগসেথের সিদ্ধান্ত নিয়ে ড্রিসকল নিজেও হতাশ ছিলেন। বিশেষ করে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থাকা সেনা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করা কর্নেলদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি ট্রাম্পের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ড্রিসকল সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে পদত্যাগপত্র দেন। বৈঠকে সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় বলে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান।

কে হতে পারেন নতুন সেনাসচিব

ড্রিসকলের পদত্যাগের পর সেনাবাহিনী এখন একজন বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাকেও হারাল। নতুন সেনাসচিব নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পদটি খালি থাকবে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে নতুন প্রার্থীকে দ্রুত সিনেটের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

হেগসেথ পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেলকে নতুন সেনাসচিব হিসেবে চান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে সিনেটের ঘনিষ্ঠ ব্যবধানের কারণে পারনেলের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

US Army Secretary Driscoll resigns after Hegseth dispute — Ajel English

ড্রিসকল ছিলেন তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য

৪০ বছর বয়সী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড্রিসকলকে সম্প্রতি হেগসেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হচ্ছিল। কংগ্রেসে তিনি হেগসেথের তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছিলেন বলে দুই কংগ্রেসনাল সহকারী জানান।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার জন্যও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। সেনাবাহিনীর নিজস্ব সরঞ্জাম নিজেরাই মেরামত করতে পারবে—এমন ‘রাইট টু রিপেয়ার’ নীতি চালু করে তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনেরও প্রশংসা পান।

ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে শূন্যতা তৈরি হয়েছে।