দুই দশক আগে পাহাড়ি ভ্রমণের সময় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক সাবেক যুব ধর্মযাজক কারাগারেই আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসার পর সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছিল।
৪৮ বছর বয়সী ডেভিড ভ্যান্ডার মিরকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ সালে বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের সময় তিনি তার স্ত্রী বার্নাডেট ভ্যান্ডার মিরকে একটি পাহাড়ি পথ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছিলেন। গ্রেপ্তারের মাত্র তিন দিনের মাথায় কারাগারে তার মৃত্যু হয়।
রহস্যময় মৃত্যুর মামলায় নতুন মোড়
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট। বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে দম্পতি একটি বিখ্যাত পাহাড়ি ট্রেইলে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সে সময় ২৯ বছর বয়সী বার্নাডেট পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে মারা যান।
তৎকালীন তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা শুরু থেকেই মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন। সম্প্রতি নতুন সাক্ষ্য ও তথ্য পাওয়ার পর মামলাটি আবার আলোচনায় আসে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ডেভিডের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানান যে ঘটনাটি দুর্ঘটনা ছিল না এবং বার্নাডেটকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল।
সম্পর্ক, সন্দেহ ও নতুন অভিযোগ
তদন্তে উঠে আসে, যুব ধর্মযাজক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডেভিডের এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই কিশোরীকে বলেছিলেন যে তাদের একসঙ্গে থাকার পথে সবচেয়ে বড় বাধা তার স্ত্রী।
মৃত্যুর আগের বছর থেকেই বার্নাডেট স্বামীর পরকীয়ার বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে ডেভিড গোপন সম্পর্ক বজায় রাখতে আলাদা বাসস্থানের খরচও বহন করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, ভ্রমণে যাওয়ার ঠিক আগের দিন ওই সম্পর্কের ইতি টানা হয়েছিল।
:max_bytes(150000):strip_icc():focal(799x403:801x405)/David-VanderMeer-062526-tout-4e0af0477c614cea8dc7f2820585b3b3.jpg)
জীবনবিমা নিয়ে প্রশ্ন
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্ত্রীর মৃত্যুর কিছুদিন আগে ডেভিড তার স্ত্রীর জীবনবিমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেন। মৃত্যুর পর তিনি বিপুল অঙ্কের বিমার অর্থ পান।
এই আর্থিক বিষয়টিও তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে। বার্নাডেটের এক সহকর্মীও তার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
মৃত্যুর পরের জীবন
বার্নাডেটের মৃত্যুর কয়েক বছরের মধ্যে ডেভিড সেই নারীকেই বিয়ে করেন, যার সঙ্গে তার সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। তবে পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর ঘটনাটি আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই কারাগারে তার মৃত্যু হওয়ায় মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারে তার মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















