০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি উৎপাদনের নতুন যুগ-‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ গঠনের উদ্যোগ

বাংলাদেশ আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি উৎপাদনের নতুন যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার বিশেষ ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

বাংলাদেশ সরকার আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ‘স্পেশালাইজড ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে উপযুক্ত জমি নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এই অঞ্চলে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানির সুযোগও তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (‘বেজা’-এর) এক সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

ভারত ড্রোন মন্থন 2.0-এ যুদ্ধ ড্রোন বাহিনী প্রসারিত করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বশেষ চাপ - ইন্ডিয়া টুডে

ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

সরকারের লক্ষ্য হলো ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন করা। এতে একদিকে বিদেশনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে নতুন শিল্পখাত গড়ে উঠবে।

বেজা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ বিনিয়োগ বা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হতে পারে।

প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ বিনিয়োগে নীতিগত অনুমোদন

প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন এবং আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এসব নীতিতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ বিনিয়োগ, পিপিপি ও এফডিআই-এর মতো কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

Bangladesh Economic Zones Authority -BEZA updated their cover photo.

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত

প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বৈঠকে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়, প্রতিরক্ষা খাতকে জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে এটি শুধু দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন দিগন্তও উন্মোচন করবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি উৎপাদনের নতুন যুগ-‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ গঠনের উদ্যোগ

০৯:০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি উৎপাদনের নতুন যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশীয় ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার বিশেষ ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

বাংলাদেশ সরকার আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ‘স্পেশালাইজড ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে উপযুক্ত জমি নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এই অঞ্চলে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানির সুযোগও তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (‘বেজা’-এর) এক সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

ভারত ড্রোন মন্থন 2.0-এ যুদ্ধ ড্রোন বাহিনী প্রসারিত করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বশেষ চাপ - ইন্ডিয়া টুডে

ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

সরকারের লক্ষ্য হলো ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন করা। এতে একদিকে বিদেশনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে নতুন শিল্পখাত গড়ে উঠবে।

বেজা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ বিনিয়োগ বা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হতে পারে।

প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ বিনিয়োগে নীতিগত অনুমোদন

প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন এবং আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এসব নীতিতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ বিনিয়োগ, পিপিপি ও এফডিআই-এর মতো কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

Bangladesh Economic Zones Authority -BEZA updated their cover photo.

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত

প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বৈঠকে সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়, প্রতিরক্ষা খাতকে জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে এটি শুধু দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন দিগন্তও উন্মোচন করবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।