০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

দেউলিয়ার ঢেউয়ে কাঁপছে আমেরিকা: কর্পোরেট ঋণ সংকটের অদৃশ্য বিস্ফোরণ

সারাক্ষণ রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট জগতে আবারও দেউলিয়ার ছায়া ঘনিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগেও যখন সুদের হার বাড়ার পর বড় ধরনের ঋণ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ঋণবাজারের জটিল কাঠামো আবারও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্পোরেট দেউলিয়া ফের আলোচনায়

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের মধ্যে খেলাপির হার প্রায় পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরের বছর কিছুটা কমলেও এখন আবার সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যবসায়িক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে দ্বিধায় থাকায় ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ইতিহাস বলছে, জ্বালানির ধাক্কা প্রায়ই বড় ধরনের ঋণ খেলাপির ঢেউ তৈরি করে।

বেসরকারি ঋণবাজারে লুকানো ঝুঁকি

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে বেসরকারি ঋণবাজার। গত কয়েক বছরে এই খাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে খেলাপির হার দুই শতাংশের নিচে দেখালেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দেউলিয়া না হয়ে বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। তারা সুদের টাকা মূল ঋণের সঙ্গে যোগ করে সময় নিচ্ছে বা ঋণ পুনর্গঠন করছে। ফলে কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখালেও প্রকৃত ঝুঁকি জমে উঠছে নীরবে।

ঋণ পুনর্গঠন: সময় কিনছে, না সংকট বাড়াচ্ছে

বিপদে পড়া কোম্পানিগুলো দেউলিয়া ঘোষণার বদলে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। ঋণের সময়সীমা বাড়ানো, শর্ত পরিবর্তন বা মালিকানা ঋণদাতাদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত এখন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সরাসরি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে, যা প্রকাশ্যে দেউলিয়ার চেয়ে কম আলোচিত হলেও ঝুঁকির গভীরতা নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমাধান সাময়িকভাবে কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখলেও মূল সমস্যার সমাধান করে না। বরং এতে বাজারের প্রকৃত দুর্বলতা আড়াল হয়ে যায়।

প্রযুক্তি পরিবর্তনও বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, নতুন প্রযুক্তি তাদের ব্যবসা অচল করে দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়ছেন, যা ঋণপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

সব মিলিয়ে কর্পোরেট ঋণ সংকট এখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংকট প্রকাশ পেতে সময় লাগলেও ভিতরে ভিতরে ঝুঁকি ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। অর্থনীতির ওপর নতুন কোনো ধাক্কা এলে এই চাপ দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

০৪:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

দেউলিয়ার ঢেউয়ে কাঁপছে আমেরিকা: কর্পোরেট ঋণ সংকটের অদৃশ্য বিস্ফোরণ

সারাক্ষণ রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট জগতে আবারও দেউলিয়ার ছায়া ঘনিয়ে আসছে। কয়েক বছর আগেও যখন সুদের হার বাড়ার পর বড় ধরনের ঋণ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ঋণবাজারের জটিল কাঠামো আবারও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

কর্পোরেট দেউলিয়া ফের আলোচনায়

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের মধ্যে খেলাপির হার প্রায় পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরের বছর কিছুটা কমলেও এখন আবার সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যবসায়িক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে দ্বিধায় থাকায় ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ইতিহাস বলছে, জ্বালানির ধাক্কা প্রায়ই বড় ধরনের ঋণ খেলাপির ঢেউ তৈরি করে।

বেসরকারি ঋণবাজারে লুকানো ঝুঁকি

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে বেসরকারি ঋণবাজার। গত কয়েক বছরে এই খাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে খেলাপির হার দুই শতাংশের নিচে দেখালেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দেউলিয়া না হয়ে বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। তারা সুদের টাকা মূল ঋণের সঙ্গে যোগ করে সময় নিচ্ছে বা ঋণ পুনর্গঠন করছে। ফলে কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখালেও প্রকৃত ঝুঁকি জমে উঠছে নীরবে।

ঋণ পুনর্গঠন: সময় কিনছে, না সংকট বাড়াচ্ছে

বিপদে পড়া কোম্পানিগুলো দেউলিয়া ঘোষণার বদলে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। ঋণের সময়সীমা বাড়ানো, শর্ত পরিবর্তন বা মালিকানা ঋণদাতাদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত এখন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সরাসরি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে, যা প্রকাশ্যে দেউলিয়ার চেয়ে কম আলোচিত হলেও ঝুঁকির গভীরতা নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমাধান সাময়িকভাবে কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখলেও মূল সমস্যার সমাধান করে না। বরং এতে বাজারের প্রকৃত দুর্বলতা আড়াল হয়ে যায়।

প্রযুক্তি পরিবর্তনও বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, নতুন প্রযুক্তি তাদের ব্যবসা অচল করে দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়ছেন, যা ঋণপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

সব মিলিয়ে কর্পোরেট ঋণ সংকট এখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংকট প্রকাশ পেতে সময় লাগলেও ভিতরে ভিতরে ঝুঁকি ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। অর্থনীতির ওপর নতুন কোনো ধাক্কা এলে এই চাপ দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে।