০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
  • 141

সত্যেন্দ্রকুমার বসু 

সুচুয়ানের রাজধানী চেংটু শহরে আরও অনেক পলাতক সন্ন্যাসী ও পণ্ডিতদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হল। কুঙ হুইসসস্থর মঠে এঁদের সঙ্গে হিউএনচাঙ নানা বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করে দু-তিন বছর কাটালেন। যে কোনো বিষয় একবার পড়লেই তিনি অধিগত করতে পারতেন। তাঁর অসাধারণ শাস্ত্রজ্ঞান ও বিচারশক্তির খ্যাতি দেশময় রাষ্ট্র হল। যদিও তিনি মহাযান সূত্রগুলির দিকেই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন তবু হীনযানের অভিধর্ম- কোষশাস্ত্র ইত্যাদিও অধ্যয়ন করেন।

এইজন্যেই মধ্য এশিয়া আর ভারতবর্ষ পর্যটনের সময়ে তিনি নানা মতাবলম্বী পণ্ডিতদের সঙ্গে যে অসংখ্য বিচার করেন সেসব বিচারে সকল বৌদ্ধশাস্ত্রেরই বচন উদ্ধার করবার শক্তি থাকায় তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের আর বিচারশক্তির পরিচয় দিতে সক্ষম হন।

কুড়ি বৎসর বয়সে হিউএনচাঙ সম্পূর্ণরূপে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। এই সময় থেকে তিনি ‘ধর্মগুরু’ নামে পরিচিত হন। সুচুয়ান ত্যাগ করে এখন তিনি নতুন রাজবংশের রাজধানী চাং-আনে আসেন। এর পাঁচ শত বৎসর আগে কাশগর ও ভারতের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এখানে মঠ স্থাপন ক’রে মহাযান ও হীনযানের অসংখ্য ধর্মগ্রন্থ সংস্কৃত থেকে চীন ভাষায় অনূদিত করতে আরম্ভ করেছিলেন।

হিউএনচাঙের সময়েও এখানে বৌদ্ধশাস্ত্রের অনেক উপদেষ্টা ছিলেন কিন্তু এঁরা সকলে এক মতাবলম্বী ছিলেন না। প্রত্যেকেই একটা আলাদা মতের অনুসরণ করতেন। হিউএনচাঙের জীবনীলেখক বলেন, ধর্মগুরু বুঝতে পারলেন যে, এইসব পণ্ডিতদের প্রত্যেকেই বিশিষ্ট জ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন শাস্ত্রের সঙ্গে এঁদের মতবাদ মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করলেন তখন দেখলেন যে, নানা শাস্ত্রের নানা মত। কোন্টা খাঁটি তা বোঝা অসম্ভব হল। তখন তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি পশ্চিমদেশে (ভারতবর্ষ) পর্যটন করে নিজের সন্দেহ ভঞ্জন করবেন।

চলবে

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮)

০৯:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

সত্যেন্দ্রকুমার বসু 

সুচুয়ানের রাজধানী চেংটু শহরে আরও অনেক পলাতক সন্ন্যাসী ও পণ্ডিতদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হল। কুঙ হুইসসস্থর মঠে এঁদের সঙ্গে হিউএনচাঙ নানা বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করে দু-তিন বছর কাটালেন। যে কোনো বিষয় একবার পড়লেই তিনি অধিগত করতে পারতেন। তাঁর অসাধারণ শাস্ত্রজ্ঞান ও বিচারশক্তির খ্যাতি দেশময় রাষ্ট্র হল। যদিও তিনি মহাযান সূত্রগুলির দিকেই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন তবু হীনযানের অভিধর্ম- কোষশাস্ত্র ইত্যাদিও অধ্যয়ন করেন।

এইজন্যেই মধ্য এশিয়া আর ভারতবর্ষ পর্যটনের সময়ে তিনি নানা মতাবলম্বী পণ্ডিতদের সঙ্গে যে অসংখ্য বিচার করেন সেসব বিচারে সকল বৌদ্ধশাস্ত্রেরই বচন উদ্ধার করবার শক্তি থাকায় তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের আর বিচারশক্তির পরিচয় দিতে সক্ষম হন।

কুড়ি বৎসর বয়সে হিউএনচাঙ সম্পূর্ণরূপে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। এই সময় থেকে তিনি ‘ধর্মগুরু’ নামে পরিচিত হন। সুচুয়ান ত্যাগ করে এখন তিনি নতুন রাজবংশের রাজধানী চাং-আনে আসেন। এর পাঁচ শত বৎসর আগে কাশগর ও ভারতের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এখানে মঠ স্থাপন ক’রে মহাযান ও হীনযানের অসংখ্য ধর্মগ্রন্থ সংস্কৃত থেকে চীন ভাষায় অনূদিত করতে আরম্ভ করেছিলেন।

হিউএনচাঙের সময়েও এখানে বৌদ্ধশাস্ত্রের অনেক উপদেষ্টা ছিলেন কিন্তু এঁরা সকলে এক মতাবলম্বী ছিলেন না। প্রত্যেকেই একটা আলাদা মতের অনুসরণ করতেন। হিউএনচাঙের জীবনীলেখক বলেন, ধর্মগুরু বুঝতে পারলেন যে, এইসব পণ্ডিতদের প্রত্যেকেই বিশিষ্ট জ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন শাস্ত্রের সঙ্গে এঁদের মতবাদ মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করলেন তখন দেখলেন যে, নানা শাস্ত্রের নানা মত। কোন্টা খাঁটি তা বোঝা অসম্ভব হল। তখন তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি পশ্চিমদেশে (ভারতবর্ষ) পর্যটন করে নিজের সন্দেহ ভঞ্জন করবেন।

চলবে

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)