১১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ইন্টারনেটে স্বাস্থ্য তথ্য: কোনটা বিশ্বাসযোগ্য, কোনটা নয়—জানুন সত্য যাচাইয়ের সহজ উপায়

ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অসংখ্য তথ্য প্রতিদিন চোখে পড়ে। কেউ চিকিৎসার ফলাফল নিয়ে লিখছে, কেউ আবার নতুন খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু এসব তথ্য কতটা সত্যি—তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে পাওয়া কোনো তথ্যই চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। তবে সচেতনভাবে যাচাই করলে ভুল তথ্য থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা

স্বাস্থ্য নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক চিকিৎসকই রোগীদের নিজে তথ্য খুঁজে পড়তে উৎসাহ দেন, যাতে পরে তা নিয়ে আলোচনা করা যায়। অনেক সময় তারা নির্ভরযোগ্য কিছু ওয়েবসাইট বা গবেষণার কথাও জানিয়ে দেন। তাই অনলাইনে কিছু পড়লে সেটি সত্য কি না—চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Can online health information be trusted? Here's how to tell - Mayo Clinic  Press

ওয়েবসাইটের ঠিকানায় মিলতে পারে প্রথম ইঙ্গিত

কোনো ওয়েবসাইট কতটা নির্ভরযোগ্য, তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় ঠিকানার শেষে থাকা অংশ থেকে। সাধারণত অলাভজনক সংস্থা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যও তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি অনেক সাইটে পণ্য বিক্রির লক্ষ্য থাকতে পারে, ফলে তথ্যের নিরপেক্ষতা সবসময় নিশ্চিত নয়।

কে লিখেছেন তথ্যটি—খেয়াল করুন

কোনো স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখা পড়ার সময় প্রথমেই দেখা উচিত এটি কে লিখেছেন। লেখক কি চিকিৎসক বা বৈজ্ঞানিক গবেষক, নাকি চিকিৎসা জ্ঞানের অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ? অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরাও পণ্য প্রচারের উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে। সাধারণত নিবন্ধের শুরু বা শেষে লেখকের নাম ও পরিচয় উল্লেখ থাকে। এছাড়া ওয়েবসাইটের পরিচিতি অংশেও জানা যায় তথ্য তৈরির দায়িত্বে কারা আছেন।

বিশ্বাসযোগ্য লেখায় সাধারণত চিকিৎসা বা বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান থাকে এবং তথ্যের উৎসও উল্লেখ করা থাকে। ভিডিও বা আলোচনামূলক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।

Can You Trust Health Info You Read Online? - Consumer Reports

তথ্যের তারিখ দেখাও গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইটগুলো সাধারণত নিবন্ধের প্রকাশের তারিখ বা সর্বশেষ হালনাগাদের সময় উল্লেখ করে। কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে তথ্য দ্রুত বদলে যায়। যদি কোনো লেখা অনেক পুরোনো হয়, তাহলে তা বর্তমান চিকিৎসা জ্ঞানের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। তাই তারিখ দেখে নেওয়া জরুরি।

অলৌকিক সমাধানের দাবি দেখলে সতর্ক হোন

অনেক ওয়েবসাইট বা ভিডিওতে এমন দাবি করা হয়, যা শুনতে অবিশ্বাস্য রকম সহজ বা দ্রুত সমাধানের মতো মনে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য এমন অলৌকিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি সাধারণত ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর। কোনো তথ্য সত্য হলে তা সাধারণত বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়।

সংবাদ প্রতিবেদনও সব সময় সম্পূর্ণ নয়

অনেকেই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জানতে সংবাদ পড়েন। তবে চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে সব সংবাদ প্রতিবেদন পুরো বিষয়টি তুলে ধরে না। একটি ভালো প্রতিবেদনে সাধারণত গবেষণার লেখকদের বক্তব্য থাকে, পাশাপাশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল গবেষণাটি খুঁজে পড়া।

Examining the value of online health checks for medical info

সামাজিক মাধ্যমেও সতর্ক থাকা জরুরি

সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য তথ্যের পাশাপাশি ভুল তথ্যও দ্রুত ছড়ায়। তবে সঠিক উৎস অনুসরণ করলে এখান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পাওয়া সম্ভব। অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা সংস্থা বা হাসপাতাল তাদের সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্পষ্ট—স্বাস্থ্য বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের পরামর্শ নয়, নিজের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা দলের মতামতই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেটে স্বাস্থ্য তথ্য: কোনটা বিশ্বাসযোগ্য, কোনটা নয়—জানুন সত্য যাচাইয়ের সহজ উপায়

১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অসংখ্য তথ্য প্রতিদিন চোখে পড়ে। কেউ চিকিৎসার ফলাফল নিয়ে লিখছে, কেউ আবার নতুন খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু এসব তথ্য কতটা সত্যি—তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে পাওয়া কোনো তথ্যই চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। তবে সচেতনভাবে যাচাই করলে ভুল তথ্য থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা

স্বাস্থ্য নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক চিকিৎসকই রোগীদের নিজে তথ্য খুঁজে পড়তে উৎসাহ দেন, যাতে পরে তা নিয়ে আলোচনা করা যায়। অনেক সময় তারা নির্ভরযোগ্য কিছু ওয়েবসাইট বা গবেষণার কথাও জানিয়ে দেন। তাই অনলাইনে কিছু পড়লে সেটি সত্য কি না—চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Can online health information be trusted? Here's how to tell - Mayo Clinic  Press

ওয়েবসাইটের ঠিকানায় মিলতে পারে প্রথম ইঙ্গিত

কোনো ওয়েবসাইট কতটা নির্ভরযোগ্য, তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় ঠিকানার শেষে থাকা অংশ থেকে। সাধারণত অলাভজনক সংস্থা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যও তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি অনেক সাইটে পণ্য বিক্রির লক্ষ্য থাকতে পারে, ফলে তথ্যের নিরপেক্ষতা সবসময় নিশ্চিত নয়।

কে লিখেছেন তথ্যটি—খেয়াল করুন

কোনো স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখা পড়ার সময় প্রথমেই দেখা উচিত এটি কে লিখেছেন। লেখক কি চিকিৎসক বা বৈজ্ঞানিক গবেষক, নাকি চিকিৎসা জ্ঞানের অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ? অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরাও পণ্য প্রচারের উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে। সাধারণত নিবন্ধের শুরু বা শেষে লেখকের নাম ও পরিচয় উল্লেখ থাকে। এছাড়া ওয়েবসাইটের পরিচিতি অংশেও জানা যায় তথ্য তৈরির দায়িত্বে কারা আছেন।

বিশ্বাসযোগ্য লেখায় সাধারণত চিকিৎসা বা বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান থাকে এবং তথ্যের উৎসও উল্লেখ করা থাকে। ভিডিও বা আলোচনামূলক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।

Can You Trust Health Info You Read Online? - Consumer Reports

তথ্যের তারিখ দেখাও গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইটগুলো সাধারণত নিবন্ধের প্রকাশের তারিখ বা সর্বশেষ হালনাগাদের সময় উল্লেখ করে। কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে তথ্য দ্রুত বদলে যায়। যদি কোনো লেখা অনেক পুরোনো হয়, তাহলে তা বর্তমান চিকিৎসা জ্ঞানের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। তাই তারিখ দেখে নেওয়া জরুরি।

অলৌকিক সমাধানের দাবি দেখলে সতর্ক হোন

অনেক ওয়েবসাইট বা ভিডিওতে এমন দাবি করা হয়, যা শুনতে অবিশ্বাস্য রকম সহজ বা দ্রুত সমাধানের মতো মনে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য এমন অলৌকিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি সাধারণত ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর। কোনো তথ্য সত্য হলে তা সাধারণত বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়।

সংবাদ প্রতিবেদনও সব সময় সম্পূর্ণ নয়

অনেকেই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জানতে সংবাদ পড়েন। তবে চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে সব সংবাদ প্রতিবেদন পুরো বিষয়টি তুলে ধরে না। একটি ভালো প্রতিবেদনে সাধারণত গবেষণার লেখকদের বক্তব্য থাকে, পাশাপাশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল গবেষণাটি খুঁজে পড়া।

Examining the value of online health checks for medical info

সামাজিক মাধ্যমেও সতর্ক থাকা জরুরি

সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্য তথ্যের পাশাপাশি ভুল তথ্যও দ্রুত ছড়ায়। তবে সঠিক উৎস অনুসরণ করলে এখান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পাওয়া সম্ভব। অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা সংস্থা বা হাসপাতাল তাদের সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্পষ্ট—স্বাস্থ্য বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের পরামর্শ নয়, নিজের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা দলের মতামতই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।