০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

নারকেল কার্টেলের ভেতরের গল্প: চীনা টাকার চাপে থাই কৃষকেরা কোণঠাসা

এক জীবনের কঠোর পরিশ্রমে শক্ত হয়ে যাওয়া হাত তুলে ৮১ বছর বয়সী সুপন হাওচারেন বলেন, তার মতো থাই কৃষকদের জীবনে অবসর বলে কিছু নেই। বয়স বাড়লেও কাজ থামে না।

তার স্ত্রী লামদুয়ান, বয়স ৭৪। দুজন মিলে ব্যাংককের পশ্চিমে সামুত সাখন এলাকায় তাদের নারকেল বাগানের ৩০০টিরও বেশি গাছের দেখভাল করেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তারা দেখছেন এক কঠিন বাস্তবতা—নারকেলের দাম কমছে, আর তীব্র গরমে ফলের আকারও ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আয় ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই মাসে নারকেলের দাম নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে—প্রতি নারকেল মাত্র দুই বাথ, যা প্রায় ছয় মার্কিন সেন্টের সমান। এই দাম একটি চুইংগামের দামের চেয়েও কম, ফলে কৃষকদের প্রায় কোনো লাভই থাকছে না।

Inside the coconut cartel: how Chinese money squeezes Thai farmers | South China Morning Post

দামের ধস এবং কৃষকের হতাশা

লামদুয়ান বলেন, মহামারির আগে একেকটি নারকেলের দাম ছিল প্রায় ২০ বাথ। তারা যে জাতের নারকেল চাষ করেন, সেটি ‘নাম হোম’ বা সুগন্ধি নারকেল নামে পরিচিত। সবুজ নারকেলের তুলনায় এটি আকারে ছোট হলেও স্বাদে মিষ্টি এবং চীনের বাজারে এটি একটি প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে জনপ্রিয়। থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ নারকেলই রপ্তানি হয় চীনে।

তিনি বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি দাম কীভাবে ১০ বাথ থেকে পাঁচ বাথে নেমেছে, আর এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র দুই বাথে। এই দামে সার কেনার টাকাও ওঠে না।”

কৃষকদের অভিযোগ, দাম নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা—যাদের ‘লং’ বলা হয়—তাদেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়।

Chinese Capital Dominates Aromatic Coconut Market, Suppresses Prices, Profits by Reselling to Third Countries

কীভাবে কাজ করে ‘লং’ ব্যবস্থা

থাইল্যান্ডের কৃষি বাজারে বহুদিন ধরেই ‘লং’ নামে পরিচিত পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী ব্যবস্থা রয়েছে। তারা সরাসরি কৃষকের খামার থেকে ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পরে গুদামঘরের বাছাই ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়।

ফসলের মান, পরিমাণ এবং ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় সেই দাম ঠিক করা হয়। এরপরই কৃষকেরা তাদের পাওনা অর্থ পান। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় তাদের দরকষাকষির সুযোগ খুবই কম, ফলে বাজারে দাম পড়ে গেলে তার পুরো চাপ এসে পড়ে কৃষকদের ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

নারকেল কার্টেলের ভেতরের গল্প: চীনা টাকার চাপে থাই কৃষকেরা কোণঠাসা

০৩:২৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

এক জীবনের কঠোর পরিশ্রমে শক্ত হয়ে যাওয়া হাত তুলে ৮১ বছর বয়সী সুপন হাওচারেন বলেন, তার মতো থাই কৃষকদের জীবনে অবসর বলে কিছু নেই। বয়স বাড়লেও কাজ থামে না।

তার স্ত্রী লামদুয়ান, বয়স ৭৪। দুজন মিলে ব্যাংককের পশ্চিমে সামুত সাখন এলাকায় তাদের নারকেল বাগানের ৩০০টিরও বেশি গাছের দেখভাল করেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তারা দেখছেন এক কঠিন বাস্তবতা—নারকেলের দাম কমছে, আর তীব্র গরমে ফলের আকারও ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আয় ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই মাসে নারকেলের দাম নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে—প্রতি নারকেল মাত্র দুই বাথ, যা প্রায় ছয় মার্কিন সেন্টের সমান। এই দাম একটি চুইংগামের দামের চেয়েও কম, ফলে কৃষকদের প্রায় কোনো লাভই থাকছে না।

Inside the coconut cartel: how Chinese money squeezes Thai farmers | South China Morning Post

দামের ধস এবং কৃষকের হতাশা

লামদুয়ান বলেন, মহামারির আগে একেকটি নারকেলের দাম ছিল প্রায় ২০ বাথ। তারা যে জাতের নারকেল চাষ করেন, সেটি ‘নাম হোম’ বা সুগন্ধি নারকেল নামে পরিচিত। সবুজ নারকেলের তুলনায় এটি আকারে ছোট হলেও স্বাদে মিষ্টি এবং চীনের বাজারে এটি একটি প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে জনপ্রিয়। থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ নারকেলই রপ্তানি হয় চীনে।

তিনি বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি দাম কীভাবে ১০ বাথ থেকে পাঁচ বাথে নেমেছে, আর এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র দুই বাথে। এই দামে সার কেনার টাকাও ওঠে না।”

কৃষকদের অভিযোগ, দাম নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা—যাদের ‘লং’ বলা হয়—তাদেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়।

Chinese Capital Dominates Aromatic Coconut Market, Suppresses Prices, Profits by Reselling to Third Countries

কীভাবে কাজ করে ‘লং’ ব্যবস্থা

থাইল্যান্ডের কৃষি বাজারে বহুদিন ধরেই ‘লং’ নামে পরিচিত পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী ব্যবস্থা রয়েছে। তারা সরাসরি কৃষকের খামার থেকে ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পরে গুদামঘরের বাছাই ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়।

ফসলের মান, পরিমাণ এবং ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় সেই দাম ঠিক করা হয়। এরপরই কৃষকেরা তাদের পাওনা অর্থ পান। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় তাদের দরকষাকষির সুযোগ খুবই কম, ফলে বাজারে দাম পড়ে গেলে তার পুরো চাপ এসে পড়ে কৃষকদের ওপর।