এক জীবনের কঠোর পরিশ্রমে শক্ত হয়ে যাওয়া হাত তুলে ৮১ বছর বয়সী সুপন হাওচারেন বলেন, তার মতো থাই কৃষকদের জীবনে অবসর বলে কিছু নেই। বয়স বাড়লেও কাজ থামে না।
তার স্ত্রী লামদুয়ান, বয়স ৭৪। দুজন মিলে ব্যাংককের পশ্চিমে সামুত সাখন এলাকায় তাদের নারকেল বাগানের ৩০০টিরও বেশি গাছের দেখভাল করেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তারা দেখছেন এক কঠিন বাস্তবতা—নারকেলের দাম কমছে, আর তীব্র গরমে ফলের আকারও ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আয় ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই মাসে নারকেলের দাম নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে—প্রতি নারকেল মাত্র দুই বাথ, যা প্রায় ছয় মার্কিন সেন্টের সমান। এই দাম একটি চুইংগামের দামের চেয়েও কম, ফলে কৃষকদের প্রায় কোনো লাভই থাকছে না।

দামের ধস এবং কৃষকের হতাশা
লামদুয়ান বলেন, মহামারির আগে একেকটি নারকেলের দাম ছিল প্রায় ২০ বাথ। তারা যে জাতের নারকেল চাষ করেন, সেটি ‘নাম হোম’ বা সুগন্ধি নারকেল নামে পরিচিত। সবুজ নারকেলের তুলনায় এটি আকারে ছোট হলেও স্বাদে মিষ্টি এবং চীনের বাজারে এটি একটি প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে জনপ্রিয়। থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ নারকেলই রপ্তানি হয় চীনে।
তিনি বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি দাম কীভাবে ১০ বাথ থেকে পাঁচ বাথে নেমেছে, আর এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র দুই বাথে। এই দামে সার কেনার টাকাও ওঠে না।”
কৃষকদের অভিযোগ, দাম নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা—যাদের ‘লং’ বলা হয়—তাদেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়।

কীভাবে কাজ করে ‘লং’ ব্যবস্থা
থাইল্যান্ডের কৃষি বাজারে বহুদিন ধরেই ‘লং’ নামে পরিচিত পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী ব্যবস্থা রয়েছে। তারা সরাসরি কৃষকের খামার থেকে ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পরে গুদামঘরের বাছাই ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়।
ফসলের মান, পরিমাণ এবং ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় সেই দাম ঠিক করা হয়। এরপরই কৃষকেরা তাদের পাওনা অর্থ পান। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় তাদের দরকষাকষির সুযোগ খুবই কম, ফলে বাজারে দাম পড়ে গেলে তার পুরো চাপ এসে পড়ে কৃষকদের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















