০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এক লাখ চাকরি ছাঁটাইয়ের মুখে ভক্সওয়াগেন, সংঘাত এড়াতে শেষ মুহূর্তে বড় সমঝোতা স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়? পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করবে যুক্তরাজ্য সাইবার হামলায় উৎপাদন ব্যাহত, বার্ষিক লক্ষ্য হারাতে পারে বোস্টন সায়েন্টিফিক বড় এআই চিপ তৈরির সীমাবদ্ধতা কাটাতে নতুন প্রযুক্তি আনছে এএসএমএল ভারতের প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি পাঁচ নমুনার একটিতে অনিয়ম এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যে ভর করে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ দুর্গাপূজার আগে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধিকে এখনো ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়

শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি

বাবা-মা যদি ১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁদের সন্তানদেরও দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, শতায়ু মানুষের সন্তানদের হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। পাশাপাশি তাঁদের গড় আয়ুও অন্যদের চেয়ে বেশি হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ।

গবেষণার অন্যতম গবেষক ও বোস্টনের টাফটস মেডিকেল সেন্টারের পরিমাণগত পদ্ধতি ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক পাওলা সেবাস্তিয়ানি বলেন, শতায়ু মানুষের সন্তানদের মধ্যেও সুস্থভাবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তাঁর মতে, এই গবেষণা বয়সজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা এবং দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে—এমন জৈবিক কারণগুলো বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের ঝুঁকি কম

People with parents who live to 100 are likely to fall ill much later in  life. - Yahoo Life UK

গবেষণায় ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছানো মানুষের ২ হাজার ৩০০-এর বেশি সন্তানকে নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের সঙ্গে এমন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের তথ্য তুলনা করা হয়, যাঁদের বাবা-মা সর্বোচ্চ ৮৫ বছর পর্যন্ত বেঁচেছিলেন।

গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, একই বয়সে শতায়ু মানুষের সন্তানদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল ৪২ শতাংশ কম। তাঁদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ কম ছিল।

শুধু ঝুঁকির ক্ষেত্রেই নয়, রোগ ও মৃত্যুর সময়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা গেছে। শতায়ু মানুষের সন্তানরা গড়ে প্রায় তিন বছর পরে মারা গেছেন। একইভাবে তাঁদের উচ্চ রক্তচাপও অন্যদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পরে দেখা দিয়েছে।

সব রোগ থেকে সুরক্ষা নয়

তবে বাবা-মায়ের দীর্ঘায়ু সন্তানদের সব ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়—এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগ ও ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই বাড়তি সুরক্ষা ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়নি।

If Your Parents Live to 100, Does That Mean You Will Too? The Most  Comprehensive Study Yet Has an Answer. : ScienceAlert

গবেষণার প্রধান গবেষক এরিক রিড বলেন, ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় প্রায় একই ধরনের ফলাফল পাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ধারণাটি আরও শক্তিশালী হয় যে অসাধারণ দীর্ঘায়ুর বৈশিষ্ট্য একটি পরিবারের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দেখা যেতে পারে।

জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকেরা অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য শুধু বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা যায় না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

এরিক রিড বলেন, দীর্ঘায়ু পরিবারের কিছু মানুষ হয়তো এমন কিছু জৈবিক সুবিধা নিয়ে জন্মান, যা পরিবেশ ও জীবনযাপনের বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেও তাঁদের সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

তবে ঠিক কোন বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণে শতায়ু মানুষের সন্তানরা এই সুবিধা পান, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গবেষণাটিও নির্দিষ্টভাবে সেই উত্তর খুঁজে বের করার জন্য পরিচালিত হয়নি। গবেষকদের মতে, শতায়ু মানুষ ও তাঁদের পরিবারের ওপর আরও গবেষণা চালালে সুস্থ বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ুর পেছনের জৈবিক রহস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এক লাখ চাকরি ছাঁটাইয়ের মুখে ভক্সওয়াগেন, সংঘাত এড়াতে শেষ মুহূর্তে বড় সমঝোতা

শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি

১০:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাবা-মা যদি ১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁদের সন্তানদেরও দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, শতায়ু মানুষের সন্তানদের হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। পাশাপাশি তাঁদের গড় আয়ুও অন্যদের চেয়ে বেশি হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ।

গবেষণার অন্যতম গবেষক ও বোস্টনের টাফটস মেডিকেল সেন্টারের পরিমাণগত পদ্ধতি ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক পাওলা সেবাস্তিয়ানি বলেন, শতায়ু মানুষের সন্তানদের মধ্যেও সুস্থভাবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তাঁর মতে, এই গবেষণা বয়সজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা এবং দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে—এমন জৈবিক কারণগুলো বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের ঝুঁকি কম

People with parents who live to 100 are likely to fall ill much later in  life. - Yahoo Life UK

গবেষণায় ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছানো মানুষের ২ হাজার ৩০০-এর বেশি সন্তানকে নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের সঙ্গে এমন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের তথ্য তুলনা করা হয়, যাঁদের বাবা-মা সর্বোচ্চ ৮৫ বছর পর্যন্ত বেঁচেছিলেন।

গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, একই বয়সে শতায়ু মানুষের সন্তানদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল ৪২ শতাংশ কম। তাঁদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ কম ছিল।

শুধু ঝুঁকির ক্ষেত্রেই নয়, রোগ ও মৃত্যুর সময়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা গেছে। শতায়ু মানুষের সন্তানরা গড়ে প্রায় তিন বছর পরে মারা গেছেন। একইভাবে তাঁদের উচ্চ রক্তচাপও অন্যদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পরে দেখা দিয়েছে।

সব রোগ থেকে সুরক্ষা নয়

তবে বাবা-মায়ের দীর্ঘায়ু সন্তানদের সব ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়—এমন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগ ও ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই বাড়তি সুরক্ষা ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়নি।

If Your Parents Live to 100, Does That Mean You Will Too? The Most  Comprehensive Study Yet Has an Answer. : ScienceAlert

গবেষণার প্রধান গবেষক এরিক রিড বলেন, ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় প্রায় একই ধরনের ফলাফল পাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ধারণাটি আরও শক্তিশালী হয় যে অসাধারণ দীর্ঘায়ুর বৈশিষ্ট্য একটি পরিবারের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দেখা যেতে পারে।

জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকেরা অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য শুধু বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা যায় না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

এরিক রিড বলেন, দীর্ঘায়ু পরিবারের কিছু মানুষ হয়তো এমন কিছু জৈবিক সুবিধা নিয়ে জন্মান, যা পরিবেশ ও জীবনযাপনের বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেও তাঁদের সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

তবে ঠিক কোন বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণে শতায়ু মানুষের সন্তানরা এই সুবিধা পান, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গবেষণাটিও নির্দিষ্টভাবে সেই উত্তর খুঁজে বের করার জন্য পরিচালিত হয়নি। গবেষকদের মতে, শতায়ু মানুষ ও তাঁদের পরিবারের ওপর আরও গবেষণা চালালে সুস্থ বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ুর পেছনের জৈবিক রহস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।